আওয়ামী লীগের সৃষ্টিই হয়েছে বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্যে: নজরুল ইসলাম খান (ভিডিও)

প্রকাশঃ জুন ২৩, ২০১৭

নজরুল ইসলাম খান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্মৃতি জাদুঘরের কিউরেটরের দায়িত্ব পালন করছেন।  তিনি ইতিপূর্বে শিক্ষাসচিবের দায়িত্বও পালন করেছেন।  আজ ঐতিহাসিক ২৩ জুন বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডির ৩২ নং বাড়িতে বিডিমর্নিংকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন তিনি। সাক্ষাৎকারে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, ১৯৪৯ সালে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগের (আওয়ামী লীগ) প্রতিষ্ঠার প্রেক্ষাপট, ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার শপথগ্রহণ, বঙ্গবন্ধু জাদুঘরের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিডিমর্নিং এর হেড অফ নিউজ; ফারুক আহমাদ আরিফক্যামেরায় ছিলেন আনোয়ার হোসেন। সাক্ষাৎকারটির প্রথম পর্ব আজ প্রকাশ করা হলো।

ফারুক আহমাদ আরিফ: ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী লীগের জন্ম। তখন নাম ছিল পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। পরবর্তীতে নামকরণ করা হয় আওয়ামী লীগ। আজ আওয়ামী লীগের ৬৮ তম জন্মদিন। এই ৬৮ বছরে দলটির অর্জন নিয়ে যদি কিছু বলতেন?

নজরুল ইসলাম খান: প্রথমেই যদি লক্ষ্য করি কোন পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল? অনেক আশা নিয়ে পাকিস্তানকে স্বাধীন করা হয়েছিল। পাকিস্তান নামের একটি দেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল এতে বঙ্গবন্ধুর বিশাল অবদান ছিল আপনারা জানেন। এক সময় বঙ্গবন্ধুর মা বলেছিল বাবা তুই ত পাকিস্তান পাকিস্তান বলে চিৎকার করেছিস। সবাইকে জানেয়েছিস। কত টাকা-পয়সা উড়িয়েছিস। কিন্তু পাকিস্তান তোকে এখন কেন জেলে নেয়? এ থেকেই বুঝা যায় পরবর্তীতে কেন আওয়ামী মুসলিম লীগের জন্ম হয়? ১৯৪৯ সালের ২৩ শে জুন এই তারিখটাও অর্থবহ। এই তারিখে কিন্তু বাংলার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল পলাশীর প্রান্তরে। ২৩ শে জুন। সেই ২৩ শে জুনেই আওয়ামী লীগের জন্ম। তখন যারা শাসক ছিল মুসলিম লীগ। তারা ক্ষমতায় ছিল তারা কিন্তু চায়নি। আমরা লোকমুখে শুনেছি যে, মওলানা ভাসানী (মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী) আওয়ামী মুসলিম লীগের সভাপতি হয়েছিলেন। তাকে বোরকা পড়ে আসতে হয়েছিল কিংবা চাদর মোড়ি দিয়ে আসতে হয়েছিল। যাতে এরেস্ট হতে না হয়। মিটিংটা যাতে পণ্ড না করে দেয়। এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। এটা সৃষ্টি হয়েছিল সেই সময় আওয়ামী মুসলিম লীগের যে আদর্শ, ১২টা মেন্যুফেস্টু দিয়েছিল। সেটি থেকে যদি আমরা পর্যালোচনা করি তাহলে দেখবো সেখানে বলা হয়েছে আমাদের আলাদা মুদ্রা থাকবে। আমাদের সৈন্য আলাদা, বাংলাদেশের সৈন্য আলাদা হবে। সুতরাং তার ভিতরে আওয়ামী লীগের সৃষ্টির মধ্যেই বাংলার স্বাধীনতার বীজ লুকায়িত ছিল। তখন সভাপতি হয়েছিলেন ভাসানী, শামসুল হক সাহেব ছিল সেক্রেটারি। বঙ্গবন্ধু তখনও জেলে। কিন্তু জেলে থাকাবস্থায় তাকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বানানো হয়েছিল। আপনারা জানেন নেতা হতে হলে যখন কনফারেন্স হয় তখন টাকা লাগে। তদবির লাগে, গুণ্ডা-পাণ্ডা লাগে। প্রেসার লাগে, অনেক কিছু লাগে। কিন্তু তিনি জেলে বসেছিলেন তার সাংগঠনিক ক্ষমতার জন্য ইতিমধ্যেই যা ছাত্রাবস্থায় প্রকাশ করেছিলেন তার জন্যে তাকে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়। পরবর্তীকালে তিনি সাধারণ সম্পাদক হন। সুতরাং আওয়ামী লীগের সৃষ্টিই হয়েছে বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য। বাংলাদেশ হচ্ছে এমন একটি দেশ যেখানে আওয়ামী লীগ থেকে বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। এবং আওয়ামী লীগ ছাড়া বাংলাদেশ কল্পনা করা যায় না। আবার একিভাবে যদি দেখি আওয়ামী লীগ জনসাধারণের দল। সেজন্যে আওয়ামী লীগকে বলা হচ্ছে সেই মেন্যুফেস্টুতে প্রথম ওই ২৩ শে জুন (১৯৪৯ সাল) জমিধারী অধিগ্রহণ করতে হবে সেখানে কোন ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না। জমি হচ্ছে ভূমিহীনদের মধ্যে বণ্টন করতে হবে। সেইখানে বলা আছে। সেইখানে বলা আছে যারা সরকারি দায়িত্বে থাকবে তাদের অতিরিক্ত প্রিভিলেজ দেয়া যাবে না। তাদের জবাবদীহিতার ভিতরে থাকতে হবে। সেইসময় বুঝা যায় আওয়ামী লীগ দলটা হচ্ছে দুঃখী মানুষের জন্যে। আওয়ামী লীগ গরীবের জন্য। আওয়ামী লীগ সাধারণ মানুষের জন্যে। বঙ্গবন্ধু কিন্তু সারাজীবন তাঁর বক্তৃতায় সেটা বলে গেছেন। সেটাই ছিল বঙ্গবন্ধুর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ একটা প্রতিষ্ঠিত সমাজব্যবস্থায়, একটা প্রতিষ্ঠিত পাওয়ার স্ট্রাকচার সেটা ভেঙে, সেটা টপকে, সেটা পার হয়ে একটা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সেটাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ।

19399203_1409780722421964_2536783768778167704_n

ফারুক আহমাদ আরিফ: ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথগ্রহণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর প্রান্তরে বাংলা, বিহার, উড়িষ্যার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল আবার ২৩ জুন সেটির পুনর্জন্ম কিনা? আবার ২০১৬ সালের ২৩ জুন ব্রেক্সিটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেন বেরিয়ে আসে। আজকেও সেইদিন (২৩ জুন)। এগুলোর মধ্যে কোন যোগসূত্র খোঁজে পান কিনা?

নজরুল ইসলাম খান: দেখুন সেই ১৭৫৭ সালের ২৩ শে জুন। তখন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের স্বর্ণযুগ। তারা একের পর এক পৃথিবীর দেশগুলো দখল করে নিচ্ছে। একের পর এক অন্যদের স্বাধীনতা কেড়ে নিচ্ছে। একের পর এক তারা সমৃদ্ধশালী হচ্ছে। তারা অন্য দুনিয়ার কাছে শিখছে এবং তাদের দেশে সেটা স্থাপন করছে। আমাদের সেই যে স্বাধীনতা গেল! তারপরে আমি বলেছি যে, সেই ২৩ জুন আওয়ামী লীগ গঠিত হলো। নতুন একটা সূর্যোদয় ২৩ শে জুন। এরপর আপনি বলছেন ব্রেক্সিট এটা হয়তো কাকতালীয়। কেন ২৩ শে জুন ব্রেক্সিট হয়েছে? বাট কাকতালীয় হলেও প্রকৃতির একটা নিয়ম আছে। আমার মনে হয় এখনতো ব্রিটিশ সাম্রাজ্য নেই কিন্তু তাদের সাম্রজ্যের সেই রেশটা আছে। আমার মনে হয় ২৩ শে জুন ব্রেক্সিটের মাধ্যমে সাম্রাজ্যের রেশ, তাকে যে পৃথিবীর শক্তি হিসেবে একটা গুরুত্ব দেয়, কূটনৈতিক শক্তি। সেটার হয়তো যবনিকাপাতের শুরু হতে যাচ্ছে ব্রেক্সিটের মাধ্যমে। আমার মনে হয় আমি বুজি কম, আমি যদিও রাজনীতিবিদও না  কিংবা পলিটিকেল এনালিস্টও না। আমার মনে হয় ইউরোপে বা ব্রিটেনে যে ক্ষমতার প্রভাব ছিল সেটা আস্তে আস্তে কমবে এটার পরে। সুতরাং এটা কাকতালীয় হলেও (আপনি পড়ে যাবেন আনোয়ারকে)…।

আনোয়ার হোসেন: না স্যার, ঠিক আছে।

নজরুল ইসলাম খান: এটা কাকতালীয় হলেও এটার সাথে প্রকৃতির একটা সম্পর্ক আছে। এটা নিয়ে নিকোলো গোলম্যানের একটা (দুটি) বই আছে ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স অপরটি সোসাল ইন্টেলিজেন্স (Daniel Goleman; Emotional intelligence &  social intelligence)। এটা মনে হয় সোসাল ইন্টেলিজেন্সের ব্যাপার। একটা কিছু ঘটে যাচ্ছে কিন্তু মনে হয় কোথাও কোন একটা যোগসূত্র আছে। ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা সোসাল ইন্টেলিজেন্স বলতে পারেন। আমরা বুঝতে পারি এর সাথে কোথাও একটা যোগসূত্র আছে। আমরা বুঝতে পারি সোসাইটি বা পৃথিবীর মানুষ বুঝছে ব্রিটিশদের অধ্বপতনের দিন শুরু হয়েছে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: স্যার, ১৯৯৬ সালের ২৩ শে জুন শেখ হাসিনা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হলো।

নজরুল ইসলাম খান: আমি বলেছি ২৩ শে জুন ব্রিটিশদের উত্থান হয়েছিল বাংলায়। কিন্তু আবার সেই ২৩ শে জুনই আমাদের উত্থানের সূচনা হয়েছে। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছে ২৩ শে জুন। ২৩ শে জুন আরও অনেক ইতিহাসের সাথে জড়িত। আওয়ামী লীগের সাথে জড়িত। আমরা স্বপ্ন দেখছি আমাদের দেশ উন্নত দেশ হবে। মধ্য আয়ের দেশ ইতিমধ্যে হয়েছে নিম্নমধ্য আয়ের দেশ থেকে। আমাদের দেশ উন্নত দেশ হবে এবং সেটা এই সিজনের মধ্যে। আওয়ামী লীগের সৃষ্টির মধ্যে, বঙ্গবন্ধুর এই দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে, শেখ হাসিনার ক্ষমতায় আসার মধ্যে নিহিত।

Advertisement

কমেন্টস