ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার চরে সক্রিয় জেএমবি

প্রকাশঃ জুন ১৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

কুড়িগ্রাম জেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা ব্রহ্মপুত্র নদ ও তিস্তা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কাছে পাঠানো একটি পত্রের মাধ্যমে একথা জানানো হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেএমবিসহ বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রমকে প্রতিরোধ করার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বিশেষ নির্দেশনাও পাঠানো হয়েছে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসের শেষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক ড. মুহাম্মদ আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত একটি পত্রের মাধ্যমে ইসলামিক ফাউন্ডেশন, কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়কে অবহিত করে জেএমবিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের কার্যক্রম প্রতিরোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।

পত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি পত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘কুড়িগ্রাম জেলার ব্রহ্মপুত্র নদ ও তিস্তা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলে জামায়াতুল মুজাহেদিন বাংলাদেশ (জেএমবি) ও বিভিন্ন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন কর্ম পরিকল্পনা, সদস্য সংগ্রহ, প্রশিক্ষণ গ্রহণ, গোপন বৈঠকসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে মর্মে তথ্য পাওয়া যায়। উক্ত কার্যক্রমকে প্রতিরোধ করার নিমিত্ত জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলসমূহের মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় জামায়াতে জঙ্গিবিরোধী জনসচেতনতামূলক প্রচার প্রচারণা চালানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’

ইসলামিক ফাউন্ডেশন কুড়িগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চিঠিটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা চরাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কর্মতৎপরতা শুরু করেছি। ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তার বিভিন্ন চরাঞ্চলে আমরা খোঁজ খবর নিয়ে দেখেছি, ২০০৪ সালের দিকে জেলার কিছু চরাঞ্চলে অতি সংগোপনে জঙ্গি কার্যক্রম পরিচালিত হলেও বর্তমানে ওইসব এলাকায় জেএমবিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনও সংগঠনের কোনও কর্মতৎপরতা নেই। ইতোমধ্যে আমরা এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়েছি।’

তিনি আরও জানান, চরাঞ্চলের প্রতিটি মসজিদে ইসলামিক ফাউন্ডেশন কর্তৃক সরবরাহকৃত খুৎবা পাঠের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এলাকায় সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, ইমাম, শিক্ষকসহ গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে কোনও ধরণের জঙ্গি কার্যক্রম পরিলক্ষিত হলে তা স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা অফিসকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

মূলত নব্য জেএমবির আধ্যাত্মিক নেতা ও ‘বড় হুজুর’ বলে পরিচিত মাওলানা আবুল কাশেম এবং কুড়িগ্রামের মুক্তিযোদ্ধা হোসেন আলী হত্যাকান্ডে জড়িত কয়েক জেএমবি সদস্যসহ পলাতক কয়েকজন জেএমবি সদস্যের বাড়ি কুড়িগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে। এছাড়া জাপানি নাগরিক ওসি কুনিও হত্যা মামলার পলাতক আসামি আহসান উল্লাহ আনছারী ওরফে বিপ্লব আনছারীর পৈতৃক নিবাস রাজারহাট উপজেলার উমরমজিদ ইউনিয়নের রাজমাল্লীরহাট গ্রামে, আর বন্দুকযুদ্ধে নিহত নব্য জেএমবির সাদ্দামের বাড়িও কুড়িগ্রামের রাজারহাটের চর বিদ্যানন্দ মৌজার আনন্দ বাজার গ্রামে, যা তিস্তা নদীর প্রত্যন্ত চরাঞ্চল হওয়ায় জেলার চরাঞ্চলসহ দুর্গম জায়গায় জেএমবি সক্রিয় কি তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন দেখা দেয়। কিন্তু পুলিশ প্রশাসন ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাঠ পর্যায়ের জরিপে জেলার কোনও স্তরেই জেএমবিসহ নিষিদ্ধ ঘোষিত অন্যান্য জঙ্গি সংগঠনের কোনও ধরনের কার্যক্রম নেই।

কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার মো. মেহেদুল করিম বলেন, ‘কয়েক বছর আগে জেলার চরাঞ্চলে জেএমবির কিছু কার্যক্রম ছিল। বর্তমানে জেএমবিসহ নিষিদ্ধ সংগঠনের কোনও কার্যক্রম জেলায় নেই। এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সবসময় তৎপর রয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা জেলায় কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিইউ) গঠন করেছি, তারা ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ প্রতিবেদন সম্পর্কে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। জেলায় কোনও স্থানেই জঙ্গি কার্যক্রম চলতে দেওয়া হবে না।’

Advertisement

কমেন্টস