রেইনট্রি হোটেলে ছাত্রী ধর্ষণে অচল অবস্থা স্বর্ণ ব্যবসায়!

প্রকাশঃ মে ১৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

সম্প্রতি বনানীর  রেইনট্রি  হোটেলে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া দুই শিক্ষার্থীর ধর্ষণের ঘটনার প্রধান আসামী  আপন জুয়েলার্সের মালিক দিলদার আহমেদের ছেলে সাফাত আহমেদ।  সাফাত আহমেদসহ অভিযুক্ত আরও দুজন নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফ বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে। অন্যদিকে ধর্ষণের শিকার এক ছাত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ধর্ষণের পর সাফাত তাকে বলেছিলো, তারা স্বর্ণ চোরাচালান করেন। দুই একটা খুন বা ধর্ষণ করে পুলিশকে টাকা দিলে তাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।

এরই সূত্রধরে সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে আপন জুয়েলার্সের মালিকের ‘অবৈধ সম্পদ’ খুঁজতে তাদের প্রতিষ্ঠানের পাঁচটি বিক্রয়কেন্দ্রে ১৪ই মে অভিযান চালায় শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। আপন জুয়েলার্সের পাঁচটি দোকানে গত ১৪ ও ১৫ মে শুল্ক গোয়েন্দার অভিযানে সাড়ে ১৩ মণ স্বর্ণ ও ৪২৭ গ্রাম ডায়মন্ড আটক করে শুল্ক কর্মকর্তারা। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও অনুসন্ধানের ভিত্তিতে এবং প্রমাণের আলোকে আপন জুয়েলার্সে এ অভিযান পরিচালিত হয় বলে বৈঠকে জানায় শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ।  ১৭ই মে তলব করা হয় আপন জুয়েলার্সের মালিককে।

তবে এই ধরনের অভিযান দিয়ে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করা হচ্ছে বলে প্রতিবাদ জানায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)।  ১৯ মে সকালে ধর্মঘটের আহ্বান জানিয়ে রাতেই আবার সেই ধর্মঘট প্রত্যাহারও করে নেন তারা।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার অভিযোগ এনে এবং স্বর্ণ আমদানিতে সুষ্ঠু নীতিমালা প্রণয়নের দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য ডাকা ধর্মঘট শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সঙ্গে বৈঠকের পর প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন নেতারা।

শুধু দিলদার আহমেদই নয়, সাম্প্রতিক তথ্য বলছে বিগত পাঁচ বছরে দেশে কোনো বৈধ স্বর্ণই আমদানি হয়নি। ফলে নিশ্চিতভাবেই বলা যায়, যে পরিমাণ স্বর্ণ দেশে কেনাবেচা চলে তার সবটাই চোরাচালানের।

প্রতিবছরই বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ আটক করা হয় বিমানবন্দর থেকে। শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মইনুল খান সাংবাদিকদের বলেন, বিগত ৪ বছরে ১ হাজার ১০১ কেজি স্বর্ণ জব্দ করেছে শুল্ক গোয়েন্দা।

চোরাচালানোর দায়ে আটক স্বর্ণ ও বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা এবং পরবর্তীতে বাজেয়াপ্ত করা স্বর্ণ নিলামে বিক্রি করার বিধান রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ ধরনের বাজেয়াপ্তকৃত স্বর্ণের নিলাম অনুষ্ঠিত হয়নি।

শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর থেকে বলা হয়, ফলে এসব স্বর্ণ বাংলাদেশ ব্যাংকে দীর্ঘদিন ধরে জমা পড়ে আছে। স্বর্ণব্যবসায়ীদের দাবি, দেশের ভেতরের উৎস থেকে বৈধ স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে তাদের ব্যবসায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

বাজুস নেতারাও দীর্ঘদিন ধরেই ‘বাংলাদেশে বৈধ স্বর্ণ সরবরাহের ব্যবস্থা করার’ দাবি করছেন। স্বর্ণ আমদানি ও ব্যবসার শুল্ক ও নীতিমালা নিয়ে নতুন করে ভাবতেও বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

স্বর্ণের প্রতি সহজাত আকর্ষণের কারণেই দেশে প্রতিবছর স্বর্ণের চাহিদাও বেশি, প্রায় ২১ টন। সারা বছর এ পরিমাণ স্বর্ণের অলঙ্কারই বিক্রি হচ্ছে দেশে। হিসাব অনুযায়ী ২১ টন স্বর্ণের সমপরিমাণ হচ্ছে ১৮ লাখ ৪১১ ভরি।

এর মধ্যে মাত্র ৫ শতাংশ যাত্রীর সঙ্গে ব্যাগেজ রুলের আওতায় আসে। নির্দিষ্ট পরিমাণের (একশ’ গ্রাম বা সাড়ে আট ভরি) বেশি স্বর্ণ আনলে প্রতি ভরিতে তিন হাজার টাকা হিসাবে শুল্ক পরিশোধ করতে হয়। চাহিদার বাকি ৯৫ শতাংশ বৈধভাবে আমদানি করলে এ হিসাবে (ভরিতে ৩ হাজার টাকা) সরকার ৫১২ কোটি টাকা রাজস্ব পেত। কিন্তু এ পরিমাণ স্বর্ণ বৈধভাবে আমদানি না হওয়ায় প্রতিবছর সরকার ৫১২ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে।

এসব কিছু বিবেচনায় রেখেই  শুল্ক গোয়েন্দাসহ অন্যান্য সংস্থার অভিযানে আটক স্বর্ণ নিয়মিতভাবে নিলাম এবং বাণিজ্যিকভাবে তা আমদানির প্রক্রিয়া সহজ করতে গত ১৭ই মে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দেয় শুল্ক গোয়েন্দা বিভাগ।

Advertisement

কমেন্টস