বাংলাদেশে ধর্মীয় স্বাধীনতা বিপদসীমায়

প্রকাশঃ মে ১৯, ২০১৭

 হাসনা হেনা কাকলী।।

ধর্মীয় স্বাধীনতা একটি মৌলিক স্বাধীনতা।নিজ নিজ ধর্ম পালন ও ধর্মীয় মত প্রকাশের স্বাধীনতা প্রত্যেকটা রাষ্ট্রের মোলিক অধিকার । আর এ স্বাধীনতা অনেক সময় ক্ষুণ্ণ হয় কিছু ভিন্ন মত প্রকাশকারী মানুষের জন্য ।দেশকে নিয়ে যায় বিপদসীমার দিকে । সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ধর্মীয় স্বাধীনতাবিষয়ক আন্তর্জাতিক কমিশন ইউএসসিআইআরএফ ২০১৭ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী ধর্মীয় স্বাধীনতা সূচকে দুই স্তরের বাইরে বিপদসীমার কাছাকাছি প্রথম রাষ্ট্রটিই বাংলাদেশ।

ধর্মীয় স্বাধীনতার গুরুতর লঙ্ঘন ঘটেছে এমন দেশ ও অঞ্চলগুলোকে নিয়ে কয়েকটি শ্রেণিতে তালিকা করেছে ইউএসসিআইআরএফ। ।

বার্ষিক প্রতিবেদনটিতে এবার বাংলাদেশ বিষয়ে নব্য জেএমবি, আইএস নামধারী জঙ্গিদের উত্থান, ব্লগার হত্যা এবং ধর্মীয় উষ্কানির মাধ্যমে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনাসমূহ উল্লেখ করা হয়েছে। সূচক তালিকায় সবচেয়ে বিপদজনক অবস্থান তথা প্রথম স্তরে রয়েছে ১৬টি দেশ। দ্বিতীয় স্তরে তালিকাভুক্ত হয়েছে আরও অন্তত ১২টি রাষ্ট্র।

বাংলাদেশ বিষয়ে করণীয় হিসেবে প্রতিবেদক সংস্থা ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলেজিয়াস ফ্রিডম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বেশ কয়েকটি সুপারিশ করেছে। এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশকে প্রযুক্তি সহায়তা সহ জাতীয় সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিটকে শক্তিশালী করা। ধর্মীয় বিভাজন তৈরী করে প্রকাশ্যে এমন বক্তব্য যেন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয় সে ব্যপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বাংলাদেশী সরকারী দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোকে পরামর্শ দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। এছাড়াও বলা হয়েছে- বাংলাদেশী স্থানীয় সরকার, পুলিশ বিভাগ এবং বিচারকদের উন্নত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা সূচকে বাংলাদেশ বিষয়ে রোহিঙ্গা প্রসঙ্গও এসেছে। মায়ানমার থেকে বিতাড়িত রোহিঙ্গাদের পূনর্বাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশকে চাপ প্রয়োগের কথাও উল্লেখ আছে। তবে রোহিঙ্গা ইস্যুকে কেন্দ্র করেই ধর্মীয় স্বাধীনতা সূচকে সবচেয়ে বিপজ্জনক রাষ্ট্রসমূহ তথা প্রথম স্তরের নেতৃত্বে রয়েছে মায়ানমার।

এছাড়া নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও রয়েছে-বেলারুশ, ইথিওপিয়া, কেনিয়া, কিরগিজস্থান, ম্যাক্সিকো, নেপাল ও সোমালিয়া।

প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ইউএস কমিশন অন ইন্টারন্যাশনাল রিলেজিয়াস ফ্রিডম এর প্রধান থমাস রিজ বলেন কমিশন এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে রাষ্ট্রসমূহ আন্তর্জাতিক ধর্মীয় স্বাধীনতা আরও গভীর এবং ব্যপক বিস্তৃতভাবে লঙ্ঘন করছে।

কমেন্টস