ধর্ষক নাঈম স্বেচ্ছাসেবক লীগের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে!

প্রকাশঃ মে ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ক্রাইম ডেস্ক-

রাজধানীর বনানীতে হোটেল রেইনট্রিতে দুই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত নাঈম আশরাফের (প্রকৃত নাম আব্দুল হালিম)নামে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুন কাজীপুর উপজেলার রাস্তাঘাট। ব্যানার-ফেস্টুনে অভিযুক্ত নাঈমকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি উল্লেখ করা হয়েছিল। বর্তমানে নাঈমের নামে টাঙানো ব্যানার-ফেস্টুন নামিয়ে ফেলা হয়েছে।তবে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি দাবি করেছেন, এই আব্দুল হালিম তাদের সংগঠনের কেউ নন। এক্ষেত্রেও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে নাঈম।উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পদে যে প্রকৃত আব্দুল হালিমের নাম রয়েছে (এলাকায় তিনি কালো হালিম নামে পরিচিত) তিনি একজন কলেজ শিক্ষক।

নাঈম পরিচয়ধারী ধর্ষক হালিম সম্পর্কে কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, দলের সহ-সভাপতি পদতো দূরের কথা তাকে  আমি চিনিই না। তার সাথে কোনোদিন দেখা বা সাক্ষাত হয়নি। সে কোনো দিন রাজনীতি করেনি, রাজনীতির সাথে কোনো সম্পর্কও নাই তার। আমরা এই প্রতারকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।

দেশজুড়ে আলোচিত বনানীর ছাত্রী ধর্ষণের মামলায় দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে সিলেট থেকে পলাতক অবস্থায় গ্রেফতারের পর রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। এরমধ্যে সাফাত আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে। আর সাদমান পিকাসো রেস্তোরাঁর অন্যতম মালিক ও রেগনাম গ্রুপের কর্ণধার মোহাম্মদ হোসেন জনির ছেলে।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন— নাঈম আশরাফ (৩০), সাফাতের গাড়িচালক বিল্লাল (২৬) ও অজ্ঞাতনামা দেহরক্ষী। তাদেরকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি।

কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন গান্ধাইল ইউনিয়নের চৌরাস্তা গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় কারিগরি কলেজের শিক্ষক আব্দুল হালিম (কালো হালিম)। অথচ এই ব্যক্তির নাম ও পদবী ব্যবহার করেই প্রতারক হালিম (নাঈম আশরাফ) নিজেকে কাজীপুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সহ-সভাপতি পরিচয় দিয়ে এলাকায় ব্যানার ফেস্টুনে ছেয়ে দেন।

জানা গেছে, বগুড়া-ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় নিজের নাম বদলে কুকীর্তি করার অভিযোগে একাধিকবার গণপিটুনির শিকার হন হালিম। সর্বশেষ ঢাকায় প্রতারক নাঈম আশরাফের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা দায়ের করা হলে আত্মগোপনে চলে যান বলেও জানান তিনি।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ছেলে সাবেক এমপি প্রকৌশলী তানভির শাকিল জয় ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানান, ‘বনানী ধর্ষণ মামলার অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফের সাথে আমার একটি ছবি বিভিন্ন মিডিয়াতে ছাপা হয়েছে। সে নিজেকে আমার বন্ধু বলে বা আমার পরিবারের পরিচিত বলে ধারণা দিয়ে গ্রেফতার এড়ানোর চেষ্টা করছে। আমি আমার এই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে বলতে চাই উক্ত আসামি কোনোভাবেই আমার পরিচিত নয়। আমাদের সংসদীয় এলাকার কিছু ছেলের সাথে একদিন সে আমার বাসায় আসে। সৌজন্য সাক্ষাতের কথা বলে এবং আমার সাথে ছবি তুলতে চায়। আমরা যারা রাজনীতি করি তারা মানুষের এই ধরনের আবদার রক্ষা করতে বাধ্য হই।’

শাকিল জয় লেখেন, ‘এখন আমি এটাও উপলব্ধি করছি যে সে এই উদ্দেশ্যেই হয়তো ছবিটি তুলেছিল। আমি এই স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এটাও নিশ্চিত করছি যে এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধীকে কোনো ধরনের প্রশ্রয় তো দূরের কথা এদেরকে আইনের আওতায় আনার ব্যাপারে আমি এবং আমার পরিবার সব সময় সচেষ্ট থেকেছি এবং আছি। ধর্ষক স্বেচ্ছাসেবক লীগের একজন নেতা বলে দাবি করলেও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা তাকে ‘চিটার’ বলে অভিহিত করেন এবং তার সাথে সংগঠনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও জানান তিনি।’

এদিকে নাঈম আশরাফ পরিচয় দেওয়া ধর্ষক হালিমকে গ্রেফতারের ব্যাপারে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে  নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তার ছেলে।

কাজিপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস.অই) মোখলেছুর রহমান জানান, মন্ত্রীর নির্দেশে নাঈমের বাড়িতে অভিযান চালিয়েও পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি। তার আত্মীয় স্বজনের বাড়িতেও পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।

তিনি জানান, মা-বাবাকে নিয়ে সে ঢাকায় থাকতো। গত দুই বছর হলো তার বাড়িতে তালা ঝুলানো আছে।

গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে বনানীর ‘দ্য রেইনট্রি’ হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী। ওই ঘটনায় গত ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় অভিযুক্ত একজন মামলা করেন।

কমেন্টস