১২ বছরেও তালা খুলেনি নওগাঁর মান্দা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতিসেবা ইউনিটের

প্রকাশঃ এপ্রিল ২৮, ২০১৭

ছবি-পারভেজ রহমান

পারভেজ রহমান, মান্দা প্রতিনিধি-

নওগাঁর মান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি প্রসূতিসেবা ইউনিটটি ১২ বছর যাবত বন্ধ। কর্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে ২০০৩ সালে। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ ১২টি বছর। একদিনের জন্য এটির তালা খোলা হয়নি।

ফলে আজও আলোর মুখ দেখেনি এ বিভাগের কার্যক্রম। অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে এর যন্ত্রপাতি, শয্যাসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ। ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে পড়েছে অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি।

 সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ইওসি প্রকল্পের মাধ্যমে এ বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। অবকাঠামো নির্মাণ করা হলেও    প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে এটি চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়াও এর আরেকটি কারণ বলে উল্লেখ করে সূত্রটি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ইওসি প্রকল্পের মাধ্যমে ২০০৩ সালে ৫৭ লাখ ৪৬ হাজার ৭৮৯ টাকা ব্যয়ে জরুরি প্রসূতিসেবা বিভাগের অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়। ওই বছরই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিকট এটি হস্তান্তর করে। এ বিভাগ চালুর জন্য প্রয়োজন ছিল একজন গাইনি সার্জন ও একজন অ্যান্সেথেসিয়া চিকিৎসক। কিন্তু উপজেলা পর্যায়ে এসব চিকিৎসক না থাকায় এটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনোরজ্ঞন মন্ডল, ইওসি প্রকল্পের মাধ্যমে এ হাসপাতালে জরুরি প্রসূতিসেবা বিভাগ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে গেলে এর কার্যক্রম ওই অবস্থায় পড়ে থাকে। পরবর্তীতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে এটি চালুর রাখার কথা বলা হলেও সেটি আর হয়নি।

স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরো জানান, এ বিভাগে সিজারিয়ানের যন্ত্রপাতিসহ যাবতীয় সরঞ্জাম রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটে কারণে বন্ধ রয়েছে এর কার্যক্রম।

স্থানীয়রা জানান, স্বাস্থ্যসেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া লক্ষে প্রায় সাড়ে ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে জরুরি প্রসূতিসেবা বিভাগ নির্মাণ করা হয়েছিল। এটি চালু করা হলে এ অঞ্চলে নিশ্চিত হত গর্ভবতী নারীদের উন্নত চিকিৎসেবা। ক্লিনিক কিংবা হাতুড়ে ডাক্তারদের অপচিকিৎসার হাত থেকে রক্ষা পেতেন অনেক মা।

Advertisement

কমেন্টস