ভ্যাট নিয়ে অর্থমন্ত্রীর তালবাহানা কমছে না, অনড় ব্যবসায়ীরাও

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৮, ২০১৭

অর্থনীতি ডেস্ক-

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, পয়লা জুলাই থেকেই নতুন ভ্যাট বাস্তবায়ন হবে। একই সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়ের সিদ্ধান্তেও অনড় থেকেছেন তিনি। তবে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন বিষয়টি নিয়ে ক্ষুদ্র পরিসরে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এরপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

সোমবার সচিবালয়ে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর সংক্রান্ত এক বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী আইনটির বিষয়ে অনড় থাকার সিদ্ধান্ত জানান।

বৈঠকে শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান, ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড  ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সিনিয়র সহ-সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, প্রাক্তন সভাপতি সালমান এফ রহমান, আকরাম উদ্দিন আহমদ, এ কে আজাদ, এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা ও ভ্যাট আইন বিশেষজ্ঞ মঞ্জুর আহমেদসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ভ্যাট আইন ১ জুলাই থেকেই বাস্তবায়ন হবে, এই বিষয়ে আমাদের সিদ্ধান্তে আমরা অনড় আছি।’

বৈঠকে ব্যবসায়ীরা ভ্যাটের হার ১০ শতাংশ করার দাবি করেছেন উল্লেখ করে সাংবাদিকদের বলেন, এখনো দাবি মেনে নেওয়ার আশা শেষ হয়ে যায়নি।

ভ্যাট আইন কি কার্যকর হচ্ছে- বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘অফকোর্স ভ্যাট আইন কার্যকর হচ্ছে।’

রেট কী হচ্ছে- এ প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, ‘দ্য থিংস আই হ্যাভ টোল্ড দেম দ্যাট ইট ইজ গোয়িং টু বি ইফেক্টিভ ফার্স্ট অব জুলাই। রেট উইল বি অনলি ফিফটিন পারসেন্ট।’

এই দুই পয়েন্ট ব্যবসায়ীরা মেনে নিয়েছেন কি-না, এমন প্রশ্নের জবাবে মুহিত বলেন, ‘সেটা তাদেরকে জিজ্ঞেস করেন।’

বৈঠকে শেষে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আজকে ফলপ্রসু এবং যুক্তিপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। শেষ করার আগে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ক্ষুদ্র আকারে আরেকবার বসবেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটা রাজনৈতিক সরকার ক্ষমতায়। আমাদের অনেক কিছু বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, আমাদের এটা মেয়াদেরও শেষ সময়।’

তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে একদিকে ভ্যাট আইনটা যেমন কার্যকর করতে হবে। অপরদিকে দেশের সাধারণ মানুষের স্বার্থও রক্ষা করতে হবে। বিশেষ করে ব্যবসা বাণিজ্য থেকে শুরু করে আমাদের দেশিয় শিল্পগুলো নিয়েও আমাদের আলোচনা করতে হবে। কারণ, আমরা তো আমাদের দেশিয় শিল্পকেও সংরক্ষণের চেষ্টা করি।’

অর্থমন্ত্রীর দিকে ইঙ্গিত করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘একটা জিনিস তিনি বলে গেছেন, এই সরকার বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে। এমন সিদ্ধান্ত হবে, যাতে জনগণ খুশি হবেন, ব্যবসায়ীরাও খুশি হবেন।’

বৈঠক শেষে এফবিসিসিআই’র সিনিয়র ভাইস-প্রেসিডেন্ট শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে ২ কোটি ২৪ লাখ প্রান্তিক ব্যবসায়ী রয়েছেন। কিন্তু ভ্যাট পাই আমরা একেবারেই কম। এই মার্জিনাল বিজনেস কমিউনিটির জন্যই আমরা এখানে রিপ্রেজেন্ট করছি। আমরা চাই এটা সিমপ্লিফাইড ওয়েতে এবং বিজনেস কমিউনিটিকে যুক্ত করে তারপর যাতে ভ্যাট আইনের প্রয়োগ করা হয়।

যেহেতু ২০১২ সাল থেকে বর্তমান পর্যায় পর্যন্ত এসেছে, সেহেতু অবসারভেশন ইজ জেনুইন। তিনি এটা বিবেচনায় নিয়েছেন। উনি নোট নিয়েছেন এবং আমাদেরকে উনি বলেছেন, আরেকবার আলোচনা করে বাস্তবায়নে যাবেন।’

ভ্যাট ১০ শতাংশ রাখতে ব্যবসায়ীদের দাবি মন্ত্রী মেনে নিয়েছেন কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘এখনো তিনি সিদ্ধান্ত দেননি।’

আগামী ১ জুলাই থেকে ভ্যাট আইন কার্যবকর হবে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা চাই, আমাদের বিষয়গুলো সুরাহা করে আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে যেন তা করা হয়। আমরা মনে করি, এটি জনগণের সরকার। জনগণের সেন্টিমেন্ট এবং ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সেন্টিমেন্টকে উপেক্ষা করে এটি করবে না বলে আমাদের বিশ্বাস।’

আলোচনা করে দাবি আদায়ের সময় এখনো আছে কি-না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আলাপ আলোচনার কোন বিকল্প নেই। আমরা আশা রাখতে চাই।’

এফবিসিসিআইয়ের উপদেষ্টা ও ভ্যাট আইন বিশেষজ্ঞ মঞ্জুর আহমেদ বলেন, ‘আমরা যেটা বলতে চাই, অর্থমন্ত্রী কিন্তু এক্সটেনশন অব ব্যুরোক্র্যাসি নন। আমলারা যা বলে দেবেন, তা করা তার কাজ না। উনি জনগণের প্রতিনিধি। তাকে কনজিউমার ইন্টারেস্ট দেখতে হবে। ১৫ শতাংশের টোটাল ভ্যালু কনজিউমার লেভেলে যাতে ৪৫ শতাংশ না হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি যারা কিনে কনজিউমারের কাছে বিক্রি করেন, সেখানে ভ্যাটের রেট যেন দশমিক ৫ শতাংশের বেশি না হয়। ইউরোপে এটা দশমিক ৮ শতাংশ আছে। আমাদের এখানে যাতে সবাই ভ্যাট দিতে আগ্রহী হয়। ১৫ শতাংশ দিতে হলে কেউ আগ্রহী হবে না। তাতে জীবন যাত্রার ব্যয় বাড়বে। মুদ্রাস্ফীতি হবে।’

মঞ্জুর আহমদ বলেন, ‘আমরা বলেছি এটাকে নাগালের মধ্যে রাখুন। এ জন্য দশমিক ৫ শতাংশ করুন। এখন উনি যেটা বিবেচনা করেন। আমরা প্রতি একশত টাকায় ৫০ পয়সার প্রস্তাব করেছি, সরকার ১ টাকা করলেও আমাদের আপত্তি নাই। এটা হলে কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স বাড়বে না। জিনিসপত্রের দাম নাগালে থাকবে।’

Advertisement

কমেন্টস