Advertisement

যে কোন সময় উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ শুরু, মুখ খুললো চীন-রাশিয়া

প্রকাশঃ এপ্রিল ১৫, ২০১৭

Advertisement

বিডিমর্নিং আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যে কোন সময় যুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।এর মধ্যে উত্তর কোরিয়া অভিমুখে যুক্তরাষ্ট্রের রণতরী মোতায়েন করেছে। অপর দিকে রণতরী মোতায়েনের পর উত্তর কোরিয়ার সেনাবাহিনী প্রথমবারের মতো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রসহ কুচকাওয়াজ করে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেছে। এমন প্রেক্ষাপটে উত্তর কোরিয়া ঘিরে বেশ যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব বিরাজ করছে।

তবে উত্তর কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সমস্যার সমাধান খুঁজতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে চীন-রাশিয়া। যুদ্ধ এড়াতে দেশ দুটির মধ্যে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করছে বেইজিং।

উত্তর কোরিয়ায় সঙ্গে যেকোনো সময় সংঘাত বাধতে পারে আশংকা প্রকাশ করে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ‘যুদ্ধ বাধলে কেউ জিতবে না। সবাই বিষয়টি অনুধাবন করা উচিত।’

চীনের আশংকা, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বন্দ্ব বাড়লে তাদের সীমান্তবর্তী অঞ্চল হুমকির মুখে পড়বে।

চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মনে করি, এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সবার সতর্ক হওয়া উচিত।’

তিনি আরও বলেন, ‘কথায় বা আচরণে একে অন্যকে হুমকি দেয়া এবং চটানো থেকে বিরত থাকতে সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়।’

অপর দিকে এমন পরিস্থিতিতে উত্তেজনায় জড়িত সবাইকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি যেকোনো ধরনের উস্কানিমূলক পদক্ষেপ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে রাশিয়া। উত্তর কোরিয়া ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক সংঘাতের ‍আশঙ্কা দেখা দেওয়ার খবরের পর এ আহ্বান জান‍ানো হয়।

এ ব্যাপারে রুশ প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ ক্রেমলিনে সাংবাদিকদের বলেন, কোরিয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বেড়ে যাওয়ার ঘটনায় মস্কো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। এবং আমরা সব দেশকে ধৈর্য ধরার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ উস্কানি পায় এমন পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সবাইকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছি।

এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স ১০ দিনের বিশেষ সফরে এশিয়া আসার ঘোষণা দিয়েছেন। উত্তর কোরিয়ার একের পর এক পরমাণু পরীক্ষায় উদ্বিগ্ন আমেরিকা। এ প্রসঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তার দেশের জন্য সমস্যা তৈরি করছে। এবং এর সমাধান করতে হবে। তাছাড়া কোরিয়াকে ঠেকাতে যেকোনো কিছু করবে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প। তারই অংশ হিসেবে কোরিয় দ্বীপে একটি বিশাল বিমানবাহী রণতরীসহ একটি স্ট্রাইক গ্রুপ পাঠিয়েছে আমেরিকা। এমনকী আমেরিকা চীনকে আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, যদি চীন নাও আসে তবে আমেরিকা নিজেই উত্তর কোরিয়াকে প্রতিহত করবে।

অন্যদিকে, শনিবার যুদ্ধভাবের মধ্যেই উত্তর কোরিয়া দেশটির ফাউন্ডিং ফাদার কিম ‘টু’র ১০৫তম জন্মদিনের বিশেষ কুচকাওয়াজ থেকে মার্কিন কর্তৃপক্ষের আচরণকে ‘সামরিক হিস্টিরিয়া’ রোগ বলে উল্লেখ করেছে। পাশাপাশি এর যোগ্য জবাব দেয়ার জন্য উত্তর কোরিয়া প্রস্তুত বলেও ঘোষণা দিয়েছে। বিশেষ করে সিরিয়ায় টমাহোক বোমা ব্যবহারের পর যুক্তরাষ্ট্র উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে কঠোর মনোভাব প্রদর্শন ও বিমানবাহী রণতরী প্রেরণের মধ্যে দিয়ে দু’দেশের সম্পর্ক জটিল হয়ে উঠে।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএকে দেশটির সেনা বাহিনীর জেনারেল স্টাফের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘উত্তর কোরিয়ার প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো ধরনের সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কঠোরতার যোগ্য জবাব দেবে দেশটির জনগণ ও সামরিক বাহিনী।’

তিনি আরও বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী কোনো অ্যাকশানে গেলে তার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হবে।’

মার্কিনিদের আচরণের নির্দয় প্রতিশোধ নেয়া হবে বলেও ঘোষণা দেন এ মুখপাত্র। তবে উত্তর কোরিয়া বলছে, আমেরিকা ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিহত কর‍ার জন্য এসব অস্ত্র দেশটিকে আত্মরক্ষ‍া করতে সাহায্য করবে। নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে আমেরিকার সঙ্গে যুদ্ধ করতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানিয়েছে পিয়ংইয়ং।

Advertisement

 

Advertisement

কমেন্টস