Advertisement

ফরিদপুরে ভিক্ষুকের দাবি ঘুষখোরদের চেয়ে তার মর্যাদা উপরে

প্রকাশঃ এপ্রিল ৪, ২০১৭

Advertisement

হারুন-অর-রশীদ, ফরিদপুর প্রতিনিধি- 

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার একটি কলেজ আয়োজিত সাংস্কৃতিক ও বার্ষিক ক্রীড়া উৎসবে ”যেমন খুশি তেমন সাজো ”-ইভেন্টে এক ছাত্র ভিক্ষুকের ছদ্মবেশ ধারণ করে দাবি করে তাঁর পোশাক সবচেয়ে নীচু দাবি করা হলেও আসলে তা-মানান সই। প্রকৃতপক্ষে তাঁর নিচে রয়েছে সমাজের ঘুষখোর ব্যক্তিরা।

তাঁর এ পেশার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে সে বলে, ফকির হয়ে সবার কাছ থেকে প্রকাশ্যে ভিক্ষা নেয়। তাঁকে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) খুঁজেনা। ইনকাম ট্যাক্রা ফাঁকি দিতে গিয়ে ফখরুদ্দীন-মঈন সরকারের আমলে ঢাকা সেন্ট্রালজেল কর্তৃপক্ষ ভিআইপি, সিআইপি দের নিয়ে মহা-মুশকিলে পড়েছিলো। সে সময়,”ডিআইজি প্রিজন” বলেছিলেন, এতো নামী-দামী লোকজনকে মেনটেইন করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

আবার লাল সূতার ফাইলের দৌরাত্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে সে বলে , ফাইল ঠেকিয়ে ঘুষ আর পিস্তল ঠেকিয়ে ছিনতাই করার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। অনুষ্ঠানে ছায়া প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সাহেবের কাছে ফাইল সাইন করাতে গিয়ে এক বাস্তব দৃশ্যের অবতারণা করা হয়। দেখানো হয় তাদের কথোপকথন।

এক প্রশ্নের জবাবে পিআইও বলেন, তোমাদের কাজের সাইটে লেবার কাজ করছে শতকরা ৪০ জন , আমি শতভাগ বিল সাইন করবো অথচ তুমি কেন আমাকে ঘুষ দেবেনা ? তিনি ফোর্স করে বলেন, ৪০ ভাগ অর্থ আমাকে নগদ পরিশোধ করুন, আমি শতভাগ বিল সাইন করবো, নতুবা হবেনা। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঐ ছদ্দবেশী ফকির অন্য কেউ না-একজন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার।

ভিক্ষুক বলে, ‘মানুষ তাঁকে সাহায্য দিয়েও খুশি হয় কিন্ত ঘুষখোর ব্যক্তি টেবিলের নীচে দিয়ে অবৈধ সুযোগ সুবিধার বিনিময়ে মানুষকে কষ্ট দিয়ে টাকা নেয়। তাঁর মতে ঘুষ হচ্ছে সমাজের সবচেয়ে নিন্দনীয় কাজ আর ঘুষখোররা হচ্ছে অনেক নীচু শ্রেণীর লোক। সে সারাদিন ভিক্ষা করে রাতে আরামে ঘুমায় আর ঘুষখোর যত বড় অফিসারই হোকনা কেন রাতে ঘুমোতে পারেনা ”দুদক আর ইনকাম ট্যাক্র এর ভয়ে নিজের স্ত্রীর কাছেও ঘুমোতে পারেনা আর নামি-দামি রোগ-বালাইতো আছেই। সুতারাং তার মর্যাদা ঘুষখোরদের চেয়ে একধাপ হলেও উপরে।’

তাই ছদ্ববেশী ফকির ঘুষ খোরদের নিজ পেশা ত্যাগ করে তার মতো ভিক্ষুকের পেশা গ্রহণ করে অন্তত:পক্ষে একধাপ উঁচু মর্যাদার লোক হওয়ার আহবান জানায়।

এ সময় মঞ্চে উপস্থিত জনপ্রতিনিধি, চাকুরিজীবি ও সুধীবৃন্দ হতবিহ্বল দৃষ্টিতে তার দিকে তাকিয়ে থাকেন। কারো জন্য ফকিরের এই আহবান মারাত্মক চপেটাঘাত হয়ে দাঁড়ায়- আশা করা হয় এতে অনেকেরই বিবেকবোধ জাগ্রত হয়ে উঠবে।

Advertisement

 

Advertisement

কমেন্টস