‘আতিয়া মহল’ উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করেছে সেনাবাহিনী !

প্রকাশঃ মার্চ ২৮, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

জঙ্গি আস্তানা ‘আতিয়া মহল’ সম্পূর্ণভাবে প্যারা কমান্ডোদের নিয়ন্ত্রণে। ইতোমধ্যেই আতিয়া মহল থেকে চার জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন পুরুষ একজন নারী।তবে এখনও অভিযান পুরোপুরি শেষ হয়নি। বর্তমানে সেখানে তল্লাশি চলছে।

এদিকে ‘আতিয়া মহলে’ আইইডি লাগিয়ে রাখার কারণে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছিল। এ কারণে ভবনটি উড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনাও হচ্ছিল। গতকাল সোমবার সকালে সিলেট মহানগর পুলিশের সহকারী কমিশনার বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ভেতরে যাওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এ কারণে ভবনটি ধ্বংস করার বিষয়টিও আলোচনা হয়েছে।

অপর দিকে ৮৭ ঘণ্টার অভিযান শেষে সোমবার সন্ধ্যায় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ফখরুল আহসান আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের অভিযান এখনও চলমান। শেষ করতে আরও হয়তো কিছু সময় লাগতে পারে। এজন্য অপারেশন টোয়াইলাইট সমাপ্ত ঘোষণা করা যাচ্ছে না। অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণার পর স্থানটি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার নির্দেশ অনুযায়ী আমরা বাকি কাজটুকু এগিয়ে যাব।

ফখরুল আহসান আরও বলেন, ভেতর থেকে জঙ্গিরা এক্সপ্লোসিভ ফুটিয়েছে, গ্রেনেড চার্জ করেছে, গুলি করেছে। জঙ্গিরা সুইসাইডাল ভেস্ট পরা ছিল। পুরো বাড়ি কমান্ডোরা তল্লাশি করে দেখেছেন। প্রয়োজনে আরও তল্লাশি করা হবে।

ভেতর থেকে যাদের লাশ বের করা হয়েছে তারা কখন মারা গেছেন এর সঠিক সময় সম্পর্কে কিছু বলতে পারেননি তিনি। তবে তিনি বলেন, চারজনের মধ্যে রবিবার সেনা অভিযানে দু’জন এবং সোমবার দু’জনের মৃত্যু হয়েছে।

পুরো ভবন বেশ ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে ফখরুল আহসান বলেন, সেজন্য সতর্কতার সঙ্গে এগোতে হচ্ছে। ভেতরে অবস্থানরত সব জঙ্গি নিহত হলেও তারা বাড়িটিতে ব্যাপক বিস্ফোরক মজুদ করে রেখেছিল। যে চারজন এখানে ছিল, তারা বেশ ভালো প্রশিক্ষিত। তাদের খুঁজে বের করে মারা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সার্বিক অবস্থায় দেখলাম, একটা রুমের ভেতরে একটা ডেডবডি, তার পাশেই ছড়ানো-ছিটানো আইইডি লাগানো রয়েছে। পুরো বিল্ডিংটায় যে পরিমাণ এক্সপ্লোসিভ আছে এগুলো যদি বিস্ফারিত হয় তাহলে এই বিল্ডিংয়ের অংশবিশেষ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। যে অবস্থায় আছে, এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ এবং সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।

সোমবার সাংবাদিকদের সামনে উপস্থিত হয়েই তিনি অভিযান প্রায় শেষ হওয়ার ইঙ্গিত দেন। তিনি বলেন, দুঃসাহসিক অভিযানের জন্য আমরা সবাই গর্বিত। আপনারাও গর্ববোধ করতে পারেন। দেশবাসীর দোয়ায় এখন পর্যন্ত কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই সফলভাবে অভিযানটা চলেছে।

এদিকে আতিয়ামহল থেকে জঙ্গিদের দুটি মরদেহ বের করে আনা হয় সোমবার সন্ধ্যায়। একটি মরদেহ পুরুষের। অন্যটি নারীর।

পুলিশের একটি সূত্র সুরতহাল রিপোর্ট সম্পর্কে বলেন, দুজনের শরীরের সঙ্গেই আত্মঘাতী বোমার বেল্ট বাঁধা ছিল। বেল্টের সঙ্গে বাঁধা বোমার বিস্ফোরণের (ব্লাস্ট) কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। দুটো শরীরই পোড়া। নখে লাগানো মেহেদী এবং ঊরু ও বুকের গড়ন দেখে একটি মৃতদেহটি একজন নারীর বলে চিহ্নিত করা হয়েছে। তার বয়স ২২ থেকে ২৫ এর মধ্যে হতে পারে।

অন্য মৃতদেহটি পুরুষের। সে-ও প্রায় একই বয়সের যুবক। দুজনের শরীরই ছিল ক্ষতবিক্ষত।

পুলিশের এই সূত্রটি আরও জানান, মৃতদেহ দুটির বেশিরভাগ অংশই পুরে অঙ্গার হয়ে গেছে। দুজনের চুলও পুড়ে গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, অভিযানের প্রথম দিনের বিস্ফোরণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। কারণ দুটি লাশ থেকেই উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছিল।

দুটি লাশকেই অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। তবে মেয়েটির নাম মর্জিনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার সন্ধ্যায় ঘটনাস্থলেই সুরতহাল পরীক্ষা সম্পন্ন করার পর দুটি মৃতদেহই মেডিকেলের ফ্রিজারে রাখা হয়।

উল্লেখ্য, সিলেট নগরীর দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ী এলাকার উস্তার মিয়ার মালিকানাধীন আতিয়া মহলে জঙ্গি অবস্থান করছে- এমন তথ্য পাওয়ার পর বৃহস্পতিবার গভীর আতিয়া মহলের মূল গেটে তালা দিয়ে বাসাটি ঘিরে রাখে পুলিশ। বিকালে ঢাকা থেকে আসে সোয়াত টিম। সন্ধ্যায় আসে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো। বৃহস্পতিবার রাতভর প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে ভবনটি ঘেরাও করে রাখে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। শনিবার সকাল থেকে শুরু হয় মূল অভিযান। জঙ্গি সদস্যদের ধরতে পরিচালিত এ অভিযানের নাম দেয়া হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। এর আগে সোয়াত এই অভিযানের নাম দিয়েছিল ‘অপারেশন স্প্রিং রেইন’।

এদিকে অপারেশন চলাকালীন শনিবার সন্ধ্যার পর আতিয়া মহলের অদূরে দু’দফা বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশ কর্মকর্তাসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অর্ধশত। মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে এ দুটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে প্রথম দফায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। সেখানে পুলিশের একটি চৌকি ছিল। এরপর কর্ডন করে রাখা এলাকা ক্রাইম সিন করতে গেলে রাত ৮টার দিকে ঘটনাস্থলে পড়ে থাকা বস্তাসদৃশ্য একটি বস্তু পরীক্ষা করার সময় দ্বিতীয় দফায় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ছয়জন নিহত হন। এর মধ্যে দুজন আত্মঘাতী জঙ্গি ছিল বলে আইনশৃংখলা বাহিনী দাবি করেছে।

Advertisement

কমেন্টস