সামরিক চুক্তির আগেই ‘জঙ্গি ‘আতঙ্ক’, আতিয়া মহলে সামরিক অভিযান, উৎকণ্ঠায় সারাদেশ

প্রকাশঃ মার্চ ২৭, ২০১৭

এ এস এম সুজা ।।

প্রতিবেশী রাষ্ট্র হিসেবে ভারতকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেঁচে নেয় বাংলাদেশের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা। সুব্রত বাইন থেকে শুরু করে নায়ারগঞ্জের ৭ খুনের আসামীদেরও ভারতে পালিয়ে থাকতে দেখা যায়। সম্প্রতি বাংলাদেশের বিজিবি কর্তৃক ভারতের বিএসএফ এর উচ্চ পর্যায়ে ‘সতর্ক বার্তা’ পাঠানো নতুন এক সমীকরণের ইঙ্গিত দেয়। সিলেটে আতিয়া মহলে আর্মির চলমান অভিযান এবং ভারত- বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর ঘটনার ভিতরে অন্যকোন ঘটনা আছে কি না সেটা নিয়েও সমালোচনা করছেন বিরুধী দলের নেতারা। এমন পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রের প্রতিরক্ষায় নতুন কোন পরিবর্তন আসছে কি না সেটা নিয়ে ভাবছেন নানা মহল।

বিশ্বের ১০ টি সন্তাসী সংগঠনের মধ্য ভারতের নকশালবাদী নাম আছে, সাথে সাথে পাকিস্তানের লস্করে -ই- তৈয়বার নামও আছে। সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বাড়ছে বলে বিশ্ব গণমাধ্যমের নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশ করে। আন্তর্জাতিক সীমা পার হয়ে ভারতে জঙ্গিরা ঢুকে পড়ছে এবং বাংলাদেশে সরকার এই বিষয়ে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রালয়কে অবগত করেন । বাংলাদেশের পাঠানো এমন বার্তায় অনেকটায় নড়চড়ে বসেছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রালয়ের আমলারা। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ভারত প্রতিরক্ষা চুক্তি এবং সামরিক সহযোগিতার নানা ইঙ্গিত বাংলাদেশকে অনেকটায় জোর করে চুক্তির দিকে ধাবিত করা বলে মন্তব্য করেন বিএনপির শীর্ষ নেতা রিজভী। প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আগে সারা দেশে এমন ‘জঙ্গি’ আতঙ্ক ,সামরিক চুক্তিকে প্রয়োজনীয় করে তুলছে কিনা সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন না গণমাধ্যমের উঠে আসা সংবাদে।

গুলাশান হামালার পরপরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সংবাদে ভারতে ’জঙ্গিদের’ আশ্রয় নেওয়ার গোপন তথ্যও গণমাধ্যমে ঊঠে আসে। বাংলাদেশ সরকারের দেওয়া এক বার্তায় বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে ভারতের মাটিতে ঘাঁটি গেড়েছে ‘হরকত-উল-জিহাদি-আল-ইসলামি’ বা হরকাতুল জিহাদ (হুজি) এবং ‘জামাত-উল-মুজাহিদিন বাংলাদেশ’ (জেএমবি)-এর বেশ কিছু জঙ্গি৷ কিন্তু একাধিক নিরাপত্তা সংস্থার চোখে ধূলো দিয়ে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশের ঘটনা যদি সত্যিই ঘটে থাকে, তাহলে তার ফল কতটা মারাত্মক হতে পারে তা ভেবেই জঙ্গিদের সন্ধানে জোরদার তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে ভারতে৷ ভারতের সেভেন সিস্টারে সারা বছর উগ্র সংগঠনগুলোর তৎপরতা দেখা যায়।

সাম্প্রতি ভারতের ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা’ বা এনআইএ-তথ্যমতে , ২০১৪ সালে বর্ধমানের খাগড়াগড় বিস্ফোরণে জেএমবি-র সরাসরি যোগ ছিল৷ সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার মতো পরিকল্পনার কথাও সামনে উঠে এসেছে৷ এখন বাংলাদেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতের সীমান্তবর্তী রাজ্যগুলি দিয়ে ২০১৫ সালের তুলনায় ২০১৬ সালে ভারতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ বেড়েছে তিনগুণ৷পশ্চিমবঙ্গ, আসাম ও ত্রিপুরা – এই তিন রাজ্যে বাংলাদেশ হয়ে প্রায় ২ হাজার ১০ জন হুজি ও জেএমবি জঙ্গি ঢুকে পড়েছে৷ বাংলাদেশ হতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের ৭২০ জঙ্গি ও বাকি ১২৯০ জন জঙ্গি ঢুকেছে আসাম ও ত্রিপুরা হয়ে৷ ভারতকে বাংলাদেশ সরকার লিখিতভাবে জানায় যে, আসাম ও পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজনকে কাজে লাগিয়ে নকল পাসপোর্ট ব্যবহার করে গত ১২ জানুয়ারি ভারতে ঢুকেছে জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ বা জেএমবি সেক্রেটারি ইফতাদুর রহমান৷

ঐ জঙ্গি নেতা ইতিমধ্যে দিল্লি পৌঁছে গেছেন বলেও খবর আছে গোয়েন্দাদের কাছে এমন তথ্যও প্রকাশ হয় গণমাধ্যমে ৷ ’’ এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এই সফরে ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ২৪টি চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও দলিল সই হতে পারে। এসব চুক্তির মধ্যে তিস্তার পানি বণ্টন, গঙ্গা ব্যারেজ প্রকল্প, জলসীমায় সামরিক শক্তি বৃদ্ধি, গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি, ভারতের ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ প্রভৃতি বিষয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে গুরুত্ব পাবে। ভারতীয় কূটনীতিকরা বলছেন, শেখ হাসিনার ভারত সফরে তিস্তা চুক্তি নিয়ে বড়সড় কোনো সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তার পরেও এ সফর যাতে দু’দেশের সম্পর্কের একটা মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে, সে জন্য রাতভর কাজ করছে নয়া দিল্লি। নিরন্তর চলছে কূটনৈতিক তৎপরতা। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর দেশের জন্য নতুন বার্তা নিয়ে আসতে পারে এবং ভারত -বাংলাদেশের সমসাময়িক অবস্থা নিয়ে যে উৎকণ্ঠা তা অচিরেই শেষ হবে বলে মনে করছেন অনেকে।

কমেন্টস