Advertisement

‘হারিয়ে গেছে তনু, বাড়ি এসেও শান্তি নাই, গোয়েন্দারা আমাদের ফলো করছে’

প্রকাশঃ মার্চ ২০, ২০১৭

Advertisement

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

দেশব্যাপী বহুল আলোচিত কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও  নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের এক বছর  পূর্ণ হচ্ছে আজ। গত বছর ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের একটি জঙ্গল থেকে তনুর লাশ পাওয়া যায়। তাকে হত্যার করে লাশ ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।পরদিন তার বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কোতয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।ঘটনাটি তদন্তে র‍্যাব, পুলিশসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নামে। ৩১ মার্চ সন্ধ্যায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) থেকে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ঘটনাটি ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় হওয়াতে বেশি স্পর্শকাতর হয়ে পড়ে। শুরু হয় সারা দেশে দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ। কিন্তু দীর্ঘ এক বছরেও ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে গেছে তনুর ঘাতকরা। অনিশ্চিত গন্তব্যে যাচ্ছে এ মামলার ভবিষ্যত।

উল্ট রবিবার দুপুরে একটি টিঅ্যান্ডটি নম্বর থেকে তনুর বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে। একটি সংস্থার নাম উল্লেখ করে তনুর বাবাকে বলা হয়েছে তিনি চাকরি করতে চান কিনা?  চাকরি করতে চাইলে চুপ থাকতে বলা হয়েছে। মিডিয়ার সঙ্গে এত কথা বলার দরকার নাই বলে জানানো হয়েছে।

মামলাটি তদন্ত নিয়ে কম নাট্যকিয়তা হয়নি। ৪ এপ্রিল কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা তনুর মৃতদেহের প্রথম ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন। তাঁরা জানিয়েছিলেন, তনুর শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি।  পরে  ২২মে  রবিবার বেলা সাড়ে ১১টা শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু জানান,কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার প্রথম ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ভুল ছিল। যার কারণে আমাদের  দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করতে হয়েছে । এতে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণে তিনজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ মিলেছে। দ্রুতই এ হত্যা মামলা নিষ্পত্তি হবে। সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদারক করছে।

যত সময় যাচ্ছে এ  মামলার কার্যক্রম ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পড়েছে। এতে হতাশ ও  ক্ষুব্ধ তনুর পরিবার। ঘটনার পর থেকে কয়েক দফা তদন্তকারী সংস্থা একাধিকবার পরিবর্তন হয়ে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছে কুমিল্লা সিআইডি।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম ও বাবা ইয়ার হোসেন ১৯ মার্চ রবিবার গ্রামের বাড়িতে গিয়েছেন। তনুর মা জানান, তনুর কবর জিয়ারত ও তনুর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে  আজ সোমবার তনুর নিজ জেলার মুরাদনগর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাড়িতে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করা হয়েছে এবং কুমিল্লা গণজাগরণ মঞ্চের পক্ষ থেকে কুমিল্লা পুলিশ সুপার বরাবরে একটি স্মারকলিপি দেয়ার কথাও রয়েছে। কিন্তু বাড়ি এসেও শান্তি নাই, বাড়িতেও গোয়েন্দারা আমাদের ফলো করছে।

তনুর মা আনোয়ারা বেগম বলেন, আমার মেয়ের (তনু) খুনিরা এখনো সনাক্ত ও গ্রেফতার হইলো না কেন? এখন সিআইডিকে কিছু বললেই তারা বলে, মিডিয়ায় এতো কথা না বলে চুপ থাকতে, বাড়াবাড়ি না করতে।

তনুর বাবা  ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডিএনএ পরীক্ষার পর এর ফলাফল সম্পর্কে আমাদেরকেও কিছুই জানানো হচ্ছে না।গত এক বছরেও  খুনিদের কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি আইন-শৃংখলা বাহিনী। আমাদের জন্য আল্লাহ্ আছেন, দুনিয়াতে এ বিচার না পেলেও পরকালে মেয়ের হত্যাকারীদের শাস্তি হবেই।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সিআইডি-কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, আমি ঢাকায় আছি, মামলাটির তদন্ত নিজস্ব গতিতে চলছে, তাই তদন্তাধীন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

তবে দীর্ঘ এক বছরেও তনু হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত বা গ্রেফতার করতে না পারা, সামরিক-বেসামরিক অর্ধশতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা, দুই দফা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ উল্লেখ করতে না পারা, এমনকি ডিএনএ পরীক্ষায় ৩ ধর্ষণকারীর শুক্রানু পেলেও এ পর্যন্ত ডিএনএ ম্যাচ করে ঘাতকদের সনাক্ত করতে না পারায় এ মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে তনুর পরিবারসহ বিভিন্ন মহলে সংশয় দেখা দিয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এবং সিআইডি-কুমিল্লার সহকারী পুলিশ সুপার জালাল উদ্দীন আহমেদ বলেন, নভেম্বর,ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে সেনাবাহিনীর মহড়া হয়। ওই সময় আমরা সন্দেহভাজনদের নিয়ে কাজ করতে পারিনি। ফেব্রুয়ারিতে কিছু কাজ করেছি। তনুর লাশের পাশে পড়ে থাকা সেন্ডেল,কলম, মোবাইল ফোন ও ব্যাগসহ কয়েকটি জিনিসের ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। রিপোর্ট পেলে আরও  বেশি কাজ করা যাবে। আশা করছি দ্রুত একটা রেজাল্ট দিতে পারবো।

সচেতন নাগরিক কমিটি কুমিল্লার সদস্য বাকীন রাব্বী বলেন, তনুসহ অন্য হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার কারণে মানুষ হতাশ। নারী নির্যাতন ও হত্যা বাড়ছে।  আমরা দ্রুত তনু হত্যার বিচার চাই।

Advertisement

 

Advertisement

কমেন্টস