প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)

প্রকাশঃ মার্চ ১৫, ২০১৭

ভারতীয় উপমহাদেশ ১৯০ বছর ইংরেজ শোষণ-নির্যাতনে ক্ষত-বিক্ষত। ধনবান আর সমৃদ্ধশালী পরিবারগুলো পথে বসে। সম্মানিত ব্যক্তিদের গায়ে অপমাণের চাদর লেপ্টে দেয় ব্রিটিশ সরকার। সেই কলঙ্কজনক অধ্যায় থেকে মুক্তি পাওয়ার লক্ষ্যে ১৯৪৭ সালের ১৪ আগস্ট সৃষ্টি হয় পাকিস্তান এবং ১৫ আগস্ট ভারত। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শুরু হয় নব্যশোষণ। পূর্ব পাকিস্তান নাম দিয়ে বাংলার ঘরে ঘরে আবার অত্যাচার শুরু করে পশ্চিম পাকিস্তানী শোষকেরা। প্রথমেই আঘাত হানে বাঙালির মাতৃভাষার উপর। তারা ছিনিয়ে নিতে চায় বাঙালির মুখের বুলি। মায়ের ভাষা রক্ষার্থে গড়ে উঠে সংগঠন, জমে উঠে আন্দোলন। ভাষার জন্যে প্রাণ দেন অসংখ্য ছাত্র, শ্রমিক, পথচারী। সংসার ভাঙে নারীর। সেই ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশের সৃষ্টি। সেই ভাষা আন্দোলন নিয়ে সুদীর্ঘ তিন দশক যাবত গবেষণা, প্রবন্ধ, ৪০টি গ্রন্থ রচনা করেছেন এম আর মাহবুব। ভাষা আন্দোলন গবষেণাকেন্দ্র ও জাদুঘরের নির্বাহী পরিচালক এম আর মাহবুব নীরবে-নিভৃতে কাজ করে চলেছেন।
চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিডিমর্নিং মুখোমুখি হয় তার। ভাষা আন্দোলনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেন তিনি। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন বিডিমর্নিং এর হেড অফ নিউজ ফারুক আহমাদ আরিফ। ক্যামেরায় ছিলেন কাজী ইমরান।

ফারুক আহমাদ আরিফ: ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারিতে ১৪৪ ধারা জারি করে পাকিস্তান সরকার। সেই ১৪৪ ধারা ভাঙবে কি ভাঙবে না এই নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হচ্ছে। ছাত্ররা ১৪৪ ধারা ভাঙার সিদ্ধান্ত নিয়ে রাজপথে নেমে আসে। এমন সময় পুলিশ লাঠিপেটা, টিয়ারশেল নিক্ষেপ, গুলি করে। পুলিশের গুলিতে শহীদ হন বাংলার মানুষ। তাদের মধ্যে দুই তিন দিনে রফিক, বরকতসহ ৬ জনের একটি তালিকা আমরা পাই। কিন্তু বলা হচ্ছে সেদিন অনেক মানুষ নিহত হয়েছিল। ট্রাকে করে অনেক লাশ গুম করা হয়েছিল। আসলে কতজন নিহত হয়েছিল তার কোন তথ্য-উপাত্ত আপনারা পেয়েছেন?
এম আর মাহবুব: ভাষা আন্দোলনের অনুল্লেখিত একটি অধ্যায় এটি। আপনি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন করেছেন। ভাষা আন্দোলনের যে শহীদদের কারণে আমরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পেয়েছি। এই এতবড় অর্জন, এতো পাওয়া। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আমরা সেই ভাষাশহীদদের প্রকৃত সংখ্যা নির্ণয় করতে পারিনি। আজকে আমরা যে পরিচিত ৫জন ভাষাশহীদ সালাম, রফিক, শফিক, জব্বার, শফিউরের পরিচিতি পাই তা প্রকৃত সংখ্যা ছিল না। তৎকালীন গবেষণায় দেখা গেছে, ভাষাশহীদদের সংখ্যা ছিল অনেক। তখনকার সময়ে লাশ গুম করা হয়েছিল। সেই সময়কার স্বৈরাচারি শাসক চায়নি প্রকৃত সংখ্যাটি প্রকাশিত হয়। তারা লাশ গুম করেছে। ২২ ফেব্রুয়ারি অহিউল্লাহ নামে ১০ বছরের একটি বালক শহীদ হয়েছিল। তখনকার আনন্দবাজার পত্রিকা, সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকায় রিপোর্ট ছাপা হয়েছে। তাকে ভাষাশহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আমরা আজ থেকে ১০/১৫ বছর আগে ভাষা গবেষণাকেন্দ্র জাদুঘর থেকে পুরাতন ঢাকায় তার বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সাথে কথা বলেছি। তখন তার বাবা রিকশাচালক হাবিবুর রহমান মৃত্যুবরণ করেছেন তার আত্মীয়-স্বজনদের সাথে কথা বলেছি। তাদের বর্ণনাভিত্তিক একটি ছবিও অঙ্কন করি। তাদের সাক্ষাৎকার নিয়ে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় গবেষণাও চালিয়েছি, প্রবন্ধ প্রকাশ করেছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পী শ্যামল বিশ্বাসকে দিয়ে একটি ছবি আঁকানো হয়েছিল। তা ছাড়া ২২ ফেব্রুয়ারি রিকশাচালক আব্দুল আওয়াল নামের একজন শহীদ হয়েছিল। আজাদ পত্রিকায় তার রিকশার নাম্বারও ছাপা হয়েছিল। কিন্তু তার স্বীকৃতি মিলেনি। ২২ ফেব্রুয়ারির শোকমিছিলে সে অংশ নিয়েছিল। সেখানে পুলিশের গুলিতে নিহত হয়। সেরাজুদ্দীন যিনি ২২ তারিখে শহীদ হয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন ভাষাসৈনিক আহমদ রফিক। দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সেটির রিপোর্ট হয়েছিল। অহিউল্লাহ, আব্দুল আওয়াল ও সেরাজুদ্দীন এই তিনটি নাম তথ্যপ্রমাণে স্বীকৃত অথচ তাদেরকে ভাষাশহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। একটি কথা আমি বলতে চাই যিনি আজিমপুরের কবরস্থানে ভাষাসৈনিকদের দাফন প্রত্যক্ষ করেছিলেন একমাত্র ব্যক্তি তিনি ঢাকা মেডিকেলের ছাত্র ডা. আলমগীর। ৬০ এর দশকে আমেরিকা প্রবাসী হন। তিনি ২০০৫ সালে ঢাকায় এসেছিলেন। তখন আমি তার একটি সাক্ষাৎকার নিই। আমি প্রশ্ন করেছিলাম ২১ ও ২২ ফেব্রুয়ারি আর্মিদের পিছনে পিছনে গিয়ে গোপনে ভাষাশহীদদের লাশ দাফন আপনি দেখেছেন?তিনি আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন, এমনকি একটি লিখিত প্রবন্ধও দিয়েছিলেন। পরের বছর আমেরিকায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সেটি প্রথম আলো পত্রিকায় ছাপা হয়। সেই ঐতিহাসিক সাক্ষাৎকারটি নিতে পেরে নিজেকে ধন্য মনে করছি। সেই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাক আর্মিরা যখন লাশগুলো দাফন করতেছিল তখন সেখানে গণকবর দেওয়া হয়েছিল। সেটি তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আজিমপুরে?
এম আর মাহবুব: আজিমপুর কবরস্থানে। তৎকালীন সময়ে লালবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোফরান, এম এ গোফরান তার একটি সাক্ষাৎকার আমি নিতে পারিনি। সেটি আমি সংগ্রহ করেছি। তিনিও পরবর্তীকালে স্বীকার করেছেন আজিমপুরে গণকবর হয়েছিল। আজকে গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে ভাষাশহীদ ৩, ৪, ৫ জন নয় অসংখ্য মানুষ শহীদ হয়েছেন। তার প্রমাণত রয়েছে সাপ্তাহিক সৈনিক পত্রিকায়। সেখানে ৯ জনের, আনন্দবাজার পত্রিকায় আরো বেশি শহীদের কথা বলা হয়েছে। আমি দুই শতাধিক ভাষাসৈনিকের সরাসরি সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তারা বলেছেন আমি একটি লাশ দেখেছি। আমি একটি লাশ দেখেছি। তাতেই বুঝা যায় ভাষাশহীদদের সংখ্যা যে অগণিত হবে তার কোন সন্দেহ নেই।কাজেই এই বিষয়টি নিয়ে আরো গবেষণা হওয়া উচিত। বিশেষ করে তৎকালীন সময়ে সরকারের যে গোপন নথিপত্রগুলো আছে সেগুলো খোঁজে বের করলেই প্রকৃত সংখ্যা বেরিয়ে আসবে। আমরা যদি সেই সংখ্যাটি বের করতে না পারি তবে ইতিহাসে কোন একদিন আমাদের জবাবদিহি করতে হবে। কেন আজো আমাকে বলতে হবে নাম না জানা ভাষাশহীদ? ওরাও তো জীবনদান করে বাংলাকে মাতৃভাষা, রাষ্ট্রভাষা করে গেছেন। কেন তাদেরকে নাম না জানা বলে শ্রদ্ধাঞ্জলি দিব? কাজেই এটি রাষ্ট্রীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করা উচিত। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এই প্রথম ৫ জন ভাষাশহীদকে একুশে পদক দিয়েছেন। তেমনি এই ৫ জন ও প্রমাণিত তিনজনসহ আরো যারা গবেষণালব্ধ তথ্যের আলোকে ভাষাশহীদ হয়েছেন তাদেরকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি।

ফারুক আহমাদ আরিফ: জহির রায়হানের একুশের গল্পে অপুর কথা আমরা জানি। তিনি গল্পের আঙ্গিকে ভাষাশহীদদের তুলে নিয়ে এসেছেন। সেখানে দেখা যায় অপুকে মেলিটারিরা তুলে নিয়ে যায়। এমনি করে অসংখ্য মানুষকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তখন যারা আন্দোলনটা পরিচালনা করেছিলেন তাদের কি দায়িত্ব ছিল না প্রকৃত শহীদদের সংখ্যাটি খোঁজে বের করা? কারণ তখন তো বিষয়টি সহজ ছিল। এই গেপটি কেন তৈরি হলো?

এম আর মাহবুব: এখন সাংবাদিকতায় যেমন উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে তখন তেমন অবস্থা ছিল না। সাংবাদিকতা আরো বিকশিত হলে তারা সেই কাজটি করতে পারতেন। আর যারা ভাষা আন্দোলন নিয়ে গবেষণা করেছেন তারা বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে পারতেন। ভাষাসংগ্রামীরা বা সরকারিভাবে হোক তলিয়ে দেখা দরকার ছিল কিন্তু আমার মনে হয় এই বিষয়ে তেমন কোন কাজই হয়নি।এটি একটি ব্যর্থতা। কেন ভাষাসংগ্রামীদের হত্যা করা হয়েছিল? কেন হত্যা করা হয়েছিল? ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত।আজ পর্যন্ত কেন তাদের বিচার হয়নি। আজ সব হত্যাকাণ্ডের  বিচার হচ্ছে। ভাষাশহীদদের যে হত্যা করা হলো তখন হয়তো তারা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারি ছিল। এখনতো স্বাধীন বাংলাদেশ। এখন তাদের বিচার হওয়া উচিত। এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে আমাদের যে নির্লিপ্তা, আমাদের অনিহা এটি দুঃখজনক।

ফারুক আহমাদ আরিফ: আপনি দাবি করলেন যারা ভাষা আন্দোলনের কর্মীদের হত্যা করেছেন তাদের বিচার হওয়া উচিত। আমাদের জানা মতে আপনিই প্রথম ব্যক্তি যিনি ভাষাশহীদদের হত্যাকারীদের বিচার দাবি করলেন। ইতিপূর্বে কারো মুখে বা কোন আর্টিকেলে এমন দাবি আমরা দেখিনি। এ জাতীয় চিন্তা আপনার কিভাবে জন্ম নিল যে বিচার হওয়া উচিত? আপনি বললেন অনেকগুলো হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। যেমন বঙ্গবন্ধু (শেখ মুজিবুর রহমান) হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে।
এম আর মাহবুব: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে।

ফারুক আহমাদ আরিফ: যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হয়েছে, এটি বাংলাদেশে অসাধারণ একটি কাজ হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়েছে। ১৯৫২ সালের হত্যাকাণ্ডের বিচার এখনো হয়নি। এই না হওয়ার কারণটা কি? অথবা বিচার না চাওয়ার প্রবণতা কেন ছিল? ১৯৫২ এর হত্যা ২০১৭ সালের এসে আজ ৬৫ বছর পরে এম আর মাহবুব সাহেব প্রথম উত্থাপন করলেন?
এম আর মাহবুব: আমি মনে করি বিচার না হওয়ার প্রধান কারণ ছিল তখন যারা হত্যা করেছিল তারাতো সরকারি লোক। তখনকার যারা এসপি ছিল, ম্যাজিস্ট্রেট ছিল বা যারা হত্যাকাণ্ডের জড়িত ছিল তারা সরকারি লোক। এদের বিচার কোনক্রমেই হবে না। যেমন ভাষাশহীদ রফিকের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা হয়েছিল। বরকতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছিল। তখন সেই মামলাটি নেওয়াও হয়নি। সেই মামলাটি মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে, ভুল তথ্য দিয়ে মামলাটি অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। মামলা নেওয়াও হয়নি।তখন বিচারের দাবি উঠেছিল। কিন্তু মামলা নেওয়া হয়নি। বিচার কি করে হবে হত্যার সাথে জড়িতরা সরকার সংশ্লিষ্ট লোক ছিল।এটি একটি কারণ হতে পারে। সঙ্গত কারণেই বিচারের দাবি উঠতেই পারে। কারণ এতো বড় একটি হত্যাকাণ্ড। যেই হত্যাকাণ্ডের কারণে বাংলাদেশের সৃষ্টি। বিচার হলে একটি প্রমাণ হতো যে তারা ভাষাশহীদদের হত্যা করেছিল। যদিও হত্যাকারীরা বেঁচে নেই। অথবা কেউ কেউ বেঁচে থাকলেও তাদের খোঁজে বের করা কঠিন। তবু প্রতীকী হলেও একটি বিচার হওয়া উচিত। তাহলে গবেষণার মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে কারা কীভাবে ভাষাশহীদদের হত্যা করেছিল? তখন এটি আমাদের জাতীয় জীবনে ইতিহাসের একটি বড় উপাদান হয়ে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস।কাজেই আমি হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি করছি।

‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’

ফারুক আহমাদ আরিফ: আপনি কি মনে করেন ভাষাশহীদদের হত্যাকারীদের সনাক্তকরণে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি অথবা বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সরকারের কাজ করা প্রয়োজন?
এম আর মাহবুব: হ্যাঁ, অবশ্যই প্রয়োজন। কেননা বিচার হলেই বোঝা যাবে তারা ভাষাশহীদদের হত্যা করেছিল।

ফারুক আহমাদ আরিফ: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন, ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ সালের ৬ দফা, ৬৯ এর গণঅভুত্থান, ৭০ এর নির্বাচনে জয়ী ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন একটি মাত্র বীজ থেকে চলে আসা। আমরা বাংলাদেশ গড়ার দাবির দিকে এগিয়ে গেলাম কিন্তু ভাষা আন্দোলনের সেই স্প্রিডটা থমকে গেল? ভাষা নিয়ে যা কাজ হওয়ার কথা ছিল তা হলো না।
এম আর মাহবুব: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের পথ ধরেই ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন। এই নির্বাচনের ২১ দফা প্রণয়নের মধ্যে ৪/৬টি দফায় ছিল রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনেরচেতনার ফসল।কিন্তু পরবর্তীতে স্বাধীনতা এই রাষ্ট্রভাষা নিয়ে অনেকগুলো কাজ হয়েছে। সর্বস্তরে বাংলাভাষার প্রচলন। একুশের চেতনার মূল দাবিটিই হচ্ছে সমৃদ্ধশীল বাংলাদেশ গঠন। প্রচুর কাজ হয়েছে। তবে যা হয়নি তা হচ্ছে সর্বস্তরে বাংলাভাষার প্রচলন, প্রচার-প্রসার। ভাষাশহীদদের সংখ্যা নিরুপণ। উপেক্ষিত ভাষাশহীদদের স্বীকৃতি দিতে পারেনি। ভাষাশহীদ, ভাষাসংগ্রামীদের জীবনী আজো পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার যেটি ভাষা আন্দোলনের ফসল সেটি একুশে ফেব্রুয়ারি আসলে চকচক ঝকঝক করে কিন্তু ২২ ফেব্রুয়ারিতে একটি আবর্জনার স্তুপ হয়ে যায়। এটিকে আমরা রক্ষণা-বেক্ষণ করতে পারিনি। এসব বিষয়গুলো নিয়ে সরকারিভাবে কাজ করা উচিত। বিশেষ করে বাংলা একাডেমি আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে একুশের চেতনা বাস্তবায়নে। বাংলা একাডেমিতে ভাষা আন্দোলন জাদুঘর স্থাপিত হয়েছে এটিকে আরো ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করা প্রয়োজন। বাংলা একাডেমি যেহেতু ভাষা আন্দোলনের ফসল একুশের চেতনাকে কিভাকে আরো বিস্তৃত করা যায় তা নিয়ে সুদূর প্রসারি একটি চিন্তা করতে পারে বাংলা একাডেমি। আর এটি হবে বলেই আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

(ভিডিও যুক্ত হবে)

প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)' st_url='http://www.bdmorning.com/top-news/175301' class='st_facebook_hcount'> প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)' st_url='http://www.bdmorning.com/top-news/175301' class='st_twitter_hcount'> প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)' st_url='http://www.bdmorning.com/top-news/175301' class='st_fblike_hcount'> প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)' st_url='http://www.bdmorning.com/top-news/175301' class='st_print_hcount'> প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)' st_url='http://www.bdmorning.com/top-news/175301' class='st_plusone_hcount'> প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)' st_url='http://www.bdmorning.com/top-news/175301' class='st_email_hcount'> প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)' st_url='http://www.bdmorning.com/top-news/175301' class='st_linkedin_hcount'> প্রথম পর্ব
‘ভাষাসংগ্রামীদের হত্যাকারীদের বিচার হওয়া উচিত’ (ভিডিও)' st_url='http://www.bdmorning.com/top-news/175301' class='st_sharethis_hcount'>

 

Advertisement

কমেন্টস