এবার গরুর মাংস কিনা বন্ধ করে দিতে হবে,বাড়িয়ে দিয়েছে দেশের মূল্যস্ফীতি !

প্রকাশঃ মার্চ ১৪, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

দিন দিন গরুর মাংসের দাম শুধু বেড়েই যাচ্ছে। সীমিত আয়ের পরিবারগুলোরও ক্রয় ক্ষমতার বাহিরে চলে গেছে বহু আগেই এবার সামর্থ্যবানদেরও ছেড়ে দিতে হচ্ছে গরুর মাংস কেনা। গরুর মাংসের এতোটা মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে এবার আঘাত হেনেছে জাতীয় অর্থনীতিতে। পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জানিয়েছেন, গরুর মাংসের দাম বেড়ে যাওয়ায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়েছে । আগের মাসের চেয়ে ফেব্রুয়ারি মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। গত জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ১৫ শতাংশ।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী সাংবাদিকদের মূল্যস্ফীতির হালনাগাদ এ তথ্য দেন। ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি তৈরি করেছে বিবিএস। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি সম্মেলনকক্ষে এ সংবাদ সম্মেলন হয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে গরুর মাংস ও ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধিই মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার কারণ। বিবিএসের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগের মাসের তুলনায় ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। জানুয়ারি মাসে এ হার ছিল ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি ৩ দশমিক ০৭ শতাংশে নেমে এসেছে। ডিসেম্বর মাসে এ হার ছিল ৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

বরাবরের মতো গ্রামের মানুষের চেয়ে শহরের মানুষের ওপর ফেব্রুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতির চাপ বেশি ছিল। তবে এই ব্যবধান ক্রমে কমে আসছে। শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৫ দশমিক ৬২ শতাংশ এবং গ্রামে এ হার ৫ দশমিক ১৪ শতাংশ।

এদিকে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গরুর মাংসের এখনকার দাম তো কমবেই না, বরং বাড়তে পারে।, এখন যে দামে বিক্রি হয় তাতেও মাংস ব্যবসায়ীদের লোকসান হয়। লোকসানের কারণে বাজারের ৫০ শতাংশ মাংসের দোকান বন্ধ হয়ে গেছে। গরুর মাংসের দাম বাড়ার জন্য তিনি গরুর দাম বাড়া, গাবতলী গরুর হাটে অবৈধ হারে খাজনা আদায়, চাঁদাবাজি ও চামড়ার দাম কমে যাওয়াকে দায়ী করেন। গরুর মাংসের সঙ্গে বেড়েছে খাসি ও ছাগলের মাংসের দামও। আসল খাসি এখন কেজিপ্রতি ৮০০ টাকার নিচে কেনা যাচ্ছে না। অন্যদিকে ছাগল ও ভেড়ার মাংস বিকোচ্ছে কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৭৫০ টাকা দরে, যা আগে কেজিপ্রতি ৫০-১০০ টাকা কম ছিল।

গরুর মাংস কিনতে না পেরে নিম্ন আয়ের মানুষেরা গরুর মাথার মাংস কিনতেন। সেই মাথার মাংসের কেজিও এখন ৩২০ টাকায় উঠেছে, যা বছর দু-এক আগেও ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা ছিল। গরুর ভুঁড়ির দাম বেড়ে হয়েছে কেজিপ্রতি ২০০-২২০ টাকা, যা ছিল ৮০-১০০ টাকা। একটি মগজ এখন আর ২০০ টাকার কমে কেনা যাচ্ছে না, যা মাস ছয়েক আগেও ১২০-১৫০ টাকায় কেনা যেত।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১১ সালে গরুর মাংসের জাতীয় গড় দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৫৯ টাকা। পরের দুই বছর তা কেজিপ্রতি ২৬৩ ও ২৭০ টাকা ছিল। দাম লাফ দেয় ২০১৫ সালে, ওই বছর গড় দাম দাঁড়ায় কেজিপ্রতি ৩৪৪ টাকায়। বৃদ্ধির এ কারণ ভারত থেকে গরুর সরবরাহ কমে যাওয়া। ভারতে নরেন্দ্র মোদী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ২০১৫ সালের এপ্রিলে দেশটির কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং সে দেশের সীমান্তরক্ষীদের উদ্দেশে বাংলাদেশে গরু ঢোকা পুরোপুরি বন্ধ করে দিতে বলেন। এরপর থেকেই ধাপে ধাপে মাংসের দাম বেড়েছে। তবে মাংস ব্যবসায়ীদের দাবি, এর সঙ্গে দেশীয় কিছু কারণও আছে। তাঁরা গরুর হাটের খাজনার নামে চাঁদাবাজি বন্ধসহ চার দফা দাবিতে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে ৬ দিনের ধর্মঘট পালন করেন। ধর্মঘট শেষ হওয়ার পর দাম কেজিতে ৩০-৪০ টাকা বেড়ে যায়।

এদিকে মাংস ব্যবসায়ী সমিতির রবিউল আলম বলেন, ‘মাংসের দাম ৩০০ টাকায় নামিয়ে আনা সম্ভব। এ জন্য আমাদের কিছু প্রস্তাব আছে। কিন্তু বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, সিটি করপোরেশন কেউ আমাদের কথা শুনছে না।’

তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় গাবতলী গরুর হাটে অবস্থিত আমাদের কার্যালয়টিতেও তালা মেরে দিয়েছে একটি সিন্ডিকেট।’

 

Advertisement

কমেন্টস