ডিগ্রিধারী ডাক্তার না হলেও কম ব্যয়ে দাঁতের চিকিৎসা দিচ্ছেন তাঁরা !

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৮, ২০১৭

ছবিঃআনোয়ার

ইসতিয়াক ইসতি ।।

৪০০ বছরের পুরান শহর ঢাকা। শত বছরের এই শহরে হাজার পেশার মানুষের দেখা মিলে। জীবনের তাগিদে এদের মাঝে অনেকে ভ্রাম্যমাণ ভাবে কাজ করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করছেন। এমনই একদল মানুষের দেখা মিলে পুরান ঢাকার শাঁখারি বাজার এলাকার জজ কোর্টের পিছনে।যারা একটি ব্যাঞ্চ এবং একটি টেবিল নিয়ে রাস্তার পাশের ড্রেনের উপরে দোকান খুলে বসছেন। টেবিলের সাজিয়ে রেখেছেন কিছু পুরানো  যন্ত্রপাতি ও তরলে ভরা কয়েকটি বোতল। কিছু কিছু দোকানে এগুলো সাথে রাখা হয়েছে নানা আকারের দাঁত। এই গুলো আসলে ভ্রাম্যমাণ ডেল্টাল ক্লিনিক (দাঁতের চিকিৎসা কেন্দ্র)।

এই ডাক্তারদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রি না থাকলেও তাঁরা সবাই নিজেদের দাঁতের ডাক্তার বলে পরিচয় দিয়ে  থাকেন। পরিবেশ বা স্বাস্থ্যের দিকে ভ্রাম্যমাণ ডেল্টাল ক্লিনিক গুলো তেমন একটা ভালো না হলেও, এখানে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষ নিয়মিত আসেন। কারণ ডিগ্রিধারী ডাক্তাদের কাছে গেলে অনেক টাকা ব্যয় হয়। অন্যদিকে এখানে ব্যয়ের  পরিমাণ অনেক কম । তাদের কাছে পরিবেশ বা চিকিৎসকের ডিগ্রি  চিন্তার বিষয় না। কম ব্যয়ে দাঁতের চিকিৎসা করাতে পারলেই তাঁরা খুশি।

ছবিঃআনোয়ার

ছবিঃআনোয়ার

ডিগ্রিধারী দাঁতের ডাক্তার না হলেও তাঁরা এখানে দাঁত তোলা,ফিলিং,স্কেলিং,রেপ্লিকা তৈরিসহ সব ধরনের দাঁতের চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। রাস্তার উপরে দোকান হওয়ার ফলে যন্ত্রপাতি গুলো সঠিক ভাবে পরিষ্কার করা সম্ভব হয় না। এর ফলে অপরিষ্কার যন্ত্রপাতি ব্যবহারের করা হচ্ছে একাধিক রোগীর চিকিৎসায়। আবার একই  যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয় সব রোগীর ক্ষেত্রে। আর এতে রোগীর হেপাটাইটিসসহ নানা গুরুতর রোগের সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

ছবিঃআনোয়ার

ছবিঃআনোয়ার

তাদের কাজের দক্ষতা সম্পর্কে জানতে চাইলে একজন ভ্রাম্যমাণ হাতুড়ে ডাক্তার বলেন, ‘সিলেটের পাথরঘাটার এক ডাক্তারের কাছ থেকে কাজ শিখে এসেছি।এখানে ভ্রাম্যমাণ ডেন্টাল দোকান দিয়েছি।আঠার বছর ধরে এখানে কাজ করে যাচ্ছি’।

সেই সাথে তিনি আরও বলেন, ‘গর্ভবতী নারী এবং রোগীর ডায়াবেটিস থাকলে কাজ করি না। তাই কাজের ক্ষেত্রে কোনো সমস্যাও হয় না’।

তবে রাস্তার এই দাঁতের চিকিৎসকরা একই যন্ত্র অনেকের মুখে ব্যবহার করেন। ফলে অনেকের মরণব্যাধি রোগ একজন থেকে অন্য জনের দেহে সংক্রমিত হচ্ছে। তবে আবার অনেকেই  যন্ত্রপাতি ওয়াশ করতে ইথাইল ক্লোরাইড অথবা ফরমাল ডিহাইড নামক কেমিক্যাল ব্যবহার করছেন। যা মুখের টিস্যুগুলোকে পুড়িয়ে দিতে পারে। ফলে প্রথমে দেখা দেয় ঘা এবং পরে এই ঘাই ক্যান্সারে রূপ নিচ্ছে।

দাঁতের চিকিৎসায়ে ‘সেল্ফ কিউর রেজিন’ নামের এক ধরনের উপাদান ব্যবহার করে অল্প সময়ের মাঝে নকল দাঁত তৈরি বা ফিলিং করে দিচ্ছে তাঁরা। অন্যদিকে নকল দাঁত গুলো প্রতিদিন খুলে পরিষ্কার করতে হয়। কিন্তু  তাঁরা  রোগীদের মুখে  নকল  দাঁত গুলো  স্থায়ীভাবে আটকে দিয়ে থাকে । যার ফলে রোগী নিজের নকল দাঁত গুলো খুলে আর পরিষ্কার করতে পারেন না । আর এসব দাঁত দীর্ঘ সময় ধরে মুখে থাকার কারণে  ওরাল ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

ছবিঃআনোয়ার

ছবিঃআনোয়ার

ঢাকাসহ সারা দেশে সাইনবোর্ড ধারী ডেন্টাল ক্লিনিক গুলোতে  মাঝে মাঝে র‍্যাব ও পুলিশ অভিযান পরিচালনা করলেও জজ কোর্টের লাগোয়া এই ভ্রাম্যমাণ ডেল্টাল ক্লিনিক গুলো অভিযান বাইরে থেকেই যাচ্ছে। এর ফলে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্য ঝুঁকির দিকে অগ্রসর হচ্ছে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অসহায় মানুষরা।

কমেন্টস