শাহজালাল বিমানবন্দরে ২ কোটি টাকার টেন্ডার ঘাপলা

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-
হযরত শাহজালাল র. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজে ২ কোটি টাকার ঘাপলার জন্য টেন্ডার কমিটির সভাপতি সিভিল এভিয়েশনের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমোডর মুস্তাফিজুর রহমানসহ কমিটির অন্য ৭ সদস্যকে নথিপত্রসহ দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দুই দুইবার দাপ্তরিক চিঠি দিয়ে তলব করেছে। দুদকের দাপ্তরিক প্রথম চিঠিতে উক্ত ঠিকাদারি কাজের টেন্ডার সংক্রান্ত কাগজপত্র, দরপত্র ক্রয়, দাখিল এবং কার্যাদেশের কপি চাওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও ২০১৫-২০১৬ অর্থ বৎসরে সিএএবির ৪৩ ক্যাটাগরিতে কতজন কর্মকর্তা- কর্মচারি নিয়োগ ও পদোন্নতি দেয়া হয়েছে তার নথিও চেয়েছে দুদক। দুদকের সহকারি পরিচালক নুরুল ইসলাম সরকার স্বাক্ষরিত উক্ত দাপ্তরিক চিঠির স্মারকনং- দুদক/বি:অনু: ও তদন্ত-১/১৭৭-২০১৬/৫০২৮৬ তারিখ- ১৫-১২-২০১৬ খ্রি:। দুদকের উক্ত চিঠিতে গত ২১-১২-২০১৬ তারিখে উক্ত কাগজপত্র দুদক অফিসে সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করা হয়। সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ এ সংক্রান্ত কাগজপত্র গত ২১-১২-২০১৬ তারিখে দুদক অফিসে সরবরাহ করে। সিএএবি প্রশাসন বিভাগ এর সত্যতা নিশ্চিত করেছে।

সূূত্র জানায়, দুদক ২ কোটি টাকার টেন্ডার ঘাপলার জন্য টেন্ডার সংক্রান্ত কর্মকর্তাদের দুদক অফিসে হাজির হওয়ার জন্য গত ০১ জানুয়ারি দ্বিতীয়দফায় আরেকটি দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু করে। উক্ত চিটি পাওয়ার পর সিএএবির শাহজালাল বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজের টেন্ডারের সাথে সংশ্লিষ্ট টেন্ডার কমিটির সভাপতিসহ ৭ কর্মকর্তা গত ০৮ জানুয়ারি দুদক অফিসে হাজির হয়ে তাদের বক্তব্য প্রদান করেন।
দুদকের উক্ত দাপ্তরিক চিঠির অভিযোগের সারমর্মে বলা হয়েছে- এয়ার কমোডর মুস্তাফিজুর রহমান সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশ, কুর্মিটোলা ও অন্যান্যের বিরুদ্বে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্লিনিং কাজের টেন্ডার নিম্ন দরদাতাকে ২ কোটি টাকার বিনিময়ে কার্যাদেশ দেয়া সংক্রান্ত অভিযোগ।

এ ব্যাপারে জানতে সিএএবির সদস্য (পরি. পরি.) এয়ার কমোডর মুস্তাফিজুর রহমানের সেল ফোনে কল করা হলে তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একে ট্রেডার্সের ম্যানেজার মাসুদ জানান, আমাদের প্রতিষ্ঠান কোন দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। তিনি আরো জানান , আমাদের প্রতিষ্ঠান একে ট্রেডার্স ২০০৫ সাল থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজ করছে।

বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে আলোচিত হাওয়া ভবনে অবাধ যাতায়াতকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান একে ট্রেডার্সের মালিক আব্দুল খালেক হাওয়া ভবনের কর্নধার তারেক জিয়াকে ম্যানেজ বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজ পায়। এর পর আর তাকে পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। বিমানবন্দরের ক্লিনিং কাজের অন্তরালে একে ট্রেডার্সের কর্মচারি-কর্মকর্তারা বিমানবন্দর কেন্দ্রিক স্মাগলিং কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে বলে সূত্র জানায়। একে ট্রেডার্সের কয়েকজন ক্লিনারকে আইন প্রয়োগকারি সংস্থা গ্রেপ্তারও করে। কিন্ত বিমানবন্দরে একে ট্রেডার্সে ঠিকাদারি কাজ বন্ধ করা হয়নি। প্রায় ৯ বছর বিনা টেন্ডারে কাজ করার পর ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সিএএবি কর্তৃপক্ষ টেন্ডার আহবান করে। প্রায় ৩০টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নেয়। কিন্ত সর্বোচ্চ দরদাতাকে কাজ না দিয়ে নিম্ন দরদাতা একে ট্রেডার্সকে আবারও কার্যাদেশ দেয়া হয় যা দুদক তদন্ত করছে।

কমেন্টস