সাধ্যের মধ্যে সৌখিনতা,২০০ টাকার নান্দনিক গহনায় সাজাতে পারেন নিজেকে

প্রকাশঃ নভেম্বর ৮, ২০১৬

স্বাদ যখন সাধ্যর মধ্য ছবিঃ আনোয়ার

এ এস এম সুজা।।

ইতিহাসের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিটি ইতিহাসকে ধরে রেখেছে পরম মায়ায়। সারা দিনের ক্লাস শেষে নিজের সাধ্যমত সৌখিন জিনিস কিনতে খুব দূরে যেতে হয় না বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের। শুধু শিক্ষার্থী নয় ,সন্ধ্যায় যেন সাধ্যর হাট বসে দোয়েল চত্বরে। কম টাকায় মনের জিনিস ভালতো লাগবেই যেকারো । টিএসসি মোড় হয়ে বাংলা একাডেমি পেরিয়ে একটু সামনে এগোলেই দোয়েল চত্বর। এর উত্তর-পূর্বে শিশু একাডেমি। দক্ষিণে কার্জন হল। শিশু একাডেমির মূল ফটক লাগোয়‍া সীমানা প্রাচীর ও ফুটপাতজুড়ে সৌখিন জিনিসের পসরা সাজিয়ে বসেন দোকানীরা।

কম টাকায় মনের বাজার ছবিঃ আনোয়ার

কম টাকায় মনের বাজার ছবিঃ আনোয়ার

ঐতিহ্য ,সংস্কৃতির আবহে নিজের পছন্দের জিনিস দিয়ে ঘর সাজাতে চাইবে যে কেউ সেটা যদি মাটির তৈরি জিনিস হয় তাহলে সবাইকে মনে করিয়ে দিবে এদেশ মা, মাটি ও মানুষের ।ছোট-বড় কয়েকটি দোকানে মাটি, কাঠ, তামা, কাঁসা, পিতল, পাট, কাপড়, বা কাগজের তৈরি নানা জিনিস পাবেন এই দোকানগুলোতে, যা আপনার অন্দরসজ্জায় এনে দেবে নান্দনিকতার ছোঁয়া। যেখানে গেলে দেখা মিলবে ঘর সাজানোর সৌখিন নানান জিনিস।

শব্দে শব্দে যেমন বাক্য তৈরি হয় তেমনি প্রতিটি ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিসেই আপনি পেতে পারেন বাঙালিয়ানা ভাব যে বাংলাদেশের ইতিহাস অ ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দিবে। এখানকার মাটির জিনিসগুলোতে টেরাকোটার কাজ দেখে ভাবতে সাহায্য করবে গ্রামীণ শিল্পের শৈল্পিকতা। রয়েছে পোড়া মাটির একহারা গড়নে শৈল্পিকতার সংমিশ্রণ। আগে মাটির জিনিস শুকনো খাবার রাখার কাজে ব্যবহার করলেও যুগের হাওয়া বদলের সাসঙ্গে এখন মাটি দিয়ে তৈরি হচ্ছে অনেক কিছু।

সৌখিনে ঐতিহ্য । ছবিঃ আনোয়ার

সৌখিনে ঐতিহ্য । ছবিঃ আনোয়ার

ঘরের সাজসজ্জার জিনিস থেকে শুরু করে নিত্যদিনের ব্যবহারের জিনিসসহ গায়ের গহনাও তৈরি হচ্ছে মাটি দিয়ে।

এখানকার রহিম আহমেদ ( ২৮) বলেন, আমাদের কিছু জিনিস আসে পটুয়াখালী, শরীয়তপুর থেকে। কিছু আসে ঢাকার সাভার ও অন্যান্য জায়গা থেকে। আমাদের এখানে মাটির তৈরি টব, ফুলদানি, ওয়ালম্যাট, শোপিস, নানা কারুকাজের আয়নার জন্য মাটির ফ্রেম, খাবারের পাত্র, মেয়েদের জন্য মাটির তৈরি নানা গহনা ইত্যাদি এখানে পাওয়া যায়। যা মানে ভালো দামেও কম। এই জিনিসগুলো সরাসরি আমরা কুমারদের কাছ থেকে নিয়ে আসি।

নান্দনিক কুমার শিল্প ছবিঃ আনোয়ার

নান্দনিক কুমার শিল্প ছবিঃ আনোয়ার

তিনি বলেন, আমাদের এখানে যে কোনো জিনিস অনেক সস্তায় পাবেন। অভিজাত এলাকার অনেক নামি-দামি ব্যবসায়ীরা আমাদের এখান থেকে নানা ধরনের জিনিস কিনে নিয়ে পরে তারা অনেক দামে ক্রেতার কাছে বিক্রি করে। সরাসরি কুমারদের কাছ থেকে পণ্যগুলো নিয়ে আসি। তাই আমাদের জিনিসগুলোর মান ভালো হয়।

দাম বেশি নাহলেও দামাদামি হয় অনেকে কারন বেশিরভাগ ক্রেতা শিক্ষার্থী। মাটির বিভিন্ন জিনিসের দাম সম্পর্কে মালেক জানান,  ওয়াল টব ছোটগুলো ৭০ থেকে ১০০ টাকা, বড়গুলো ৩৫০ টাকা পর্যন্ত,  আয়না ফ্রেম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, একটু বেশি কারুকজেরগুলো ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। এছাড়া ফুলের টব ১৬০ থেকে ২৫০  টাকা, ফুলদানি  ছোটগুলো ৫০০ আর বড়গুলো ৭০০ টাকা ক

অল্প খরচে গহনা ছবিঃ আনোয়ার

অল্প খরচে গহনা ছবিঃ আনোয়ার

এখানে মাটির পাত্রের দাম সাধ্যর মধ্যে, প্রতি পিস মগ বা গ্লাস ৫০ টাকা, বাটি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা, জগ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা এবং প্লেট ৫০ থেকে ৬০ টাকা প্রতি পিস। সৌখিন মানুষ তার আপন পরিবেশকে  সৌখিন রাখতে চায় সেটা ঘর কিংবা অফিস আর  তারা প্রায়ই এখানে ছুটে আসে। অন্দরসজ্জার জন্য নিজ পছন্দ মতো অনেক কিছুই কিনে নেন।  এখানে আসমা  আক্তার  (৩২) নামে এক ক্রেতা বলেন, সময় পেলে এখানে আসি। ঘর সাজানোর জন্য কিছু জিনিস কিনে নিয়ে যাই। এখন একটা ওয়ালম্যাট কিনলাম ৪শ’ টাকা দিয়ে। এখানে প্রত্যেকটা জিনিসের দাম কম ও ভালো মানের।

নাবিলা  (২২)  নামে অপর এক ক্রেতা বলেন, এখানে কম আসা হয় , তবে মাঝে মধ্যে মাটির কিছু গহনা কিনতে আসি। যেমন, হাতের বালা, কানের দুল এগুলো। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনে কিছু কিনতে হলে এখান থেকেই জিনিস কিনি। এখানে মাটির তৈরি অনেক গহনাই পাওয়া যায়। যা যে কোনো বয়সের নারীদের মানাবে। হাতের বালা প্রতি পিস ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত। আর কানের দুল ১৫০ থেকে ২০০টাকা। এছাড়া অনেক ধরনের গলার মালা রয়েছে।  নানা ডিজাইনের জিনিস নানা ধরনের ।

ছবিঃ আনোয়ার

ছবিঃ আনোয়ার

প্লাস্টিকের তৈরি নানা রঙের ফুল  ঘর বা অফিস সাজানোর জন্য এখানে পাওয়া যাবে । সামনে থেকে দেখলে মনে হবে জীবন্ত গাছের ফুল। ব্যবসায়ী করিম মিয়া জানান, চায়না থেকে আমদানি ঘর বা অফিস সাজানোর এই ফুলগুলো সবাইকে আনান্দ দিবে । এখানে প্রতি পিস কর্নার ফুল ২১০ টাকা, ফুলসহ মাটির টব ৩০০ টাকা করে ও বিভিন্ন ফুলের স্টিক ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। এছাড়া রয়েছে বড় ছোটও মাঝারি ধরনের অনেক ফুলের সমাহার। যা আপনার সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দেবে।

 

যে ছবি কথা বলে । ছবিঃ আনোয়ার

যে ছবি কথা বলে । ছবিঃ আনোয়ার

তবে সবচেয়ে আর্কষণীয় কাঠ, পিতল ও কাঁসার পণ্যগুলো। এখানে কাঠের তৈরি ছোট বড় নানা কারুকাজের ওয়ালম্যাট ও শোপিস পাবেন। কাজের ধরন ও ডিজাইন অনুযায়ী ওয়ালম্যাট বা শোপিসগুলোর দাম ভিন্ন হয়। এছাড়া পিতল ও কাঁসার তৈরি ছোট বড় নানা ভাস্কর্য পাবেন যা নজর কাড়ার মতো।

সাধ্যের মধ্যে সৌখিনতা

ঘর-মনকে ভিন্ন রূপে সাজাতে রাঙাতে চলে যান দোয়েল চত্বর সংলগ্ন সৌখিন জিনিসের এই পসরায়।

কমেন্টস