‘যুব গেমস-২০১৮’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যয় ৫ কোটি

প্রকাশঃ মার্চ ৯, ২০১৮

বিডিমনিং স্পোর্টস ডেস্ক-

৮টি বিভাগের ৬৪টি জেলার ৪৬০টি উপজেলার প্রতিভাবান ভবিষ্যত ক্রীড়াবিদদের নিয়ে শনিবার থেকে শুরু হচ্ছে ‘যুব গেমস-২০১৮’। দুইধাপের বাছাই শেষে শুরু হচ্ছে মূল প্রতিযোগিতা। শনিবার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হবে যুব গেমসের। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ কোটি টাকা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুব গেমসের উদ্বোধন করবেন।

বিকেল ৪টায় স্টেডিয়ামের গেটগুলো খুলে দেওয়া হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সবার জন্য উন্মুক্ত। তবে দর্শকরা সাধারণ গ্যালারিতে প্রবেশের সুযোগ পাবেন। ভিআইপি গ্যালারি ও স্ট্যান্ডগুলো সংরক্ষিত থাকবে। বিকেল থেকে নানা আয়োজন থাকবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। সন্ধ্যার পর হবে লেজার শো, আতশবাজি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি ও মাছরাঙা টেলিভিশন।

বাংলাদেশ অলিম্পিক ভবনের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক অডিটোরিয়ামে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব সৈয়দ শাহেদ রেজা এবং সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ যুব গেমসের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

এই গেমসের মাধ্যমে উঠে আসা অনূর্ধ্ব-১৭ বছর বসয়ী প্রতিভাবান ক্রীড়া দীর্ঘমেয়াদে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। উন্নত প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তোলা হবে ভবিষ্যতের জন্য।

গেল বছরের ১৮ থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত ২১টি ডিসিপ্লিনের প্রথমিক বাছাইয়ে ৪৬০টি উপজেলার ২৭ হাজার ১৯৬ জন ক্রীড়াবিদ অংশ নেয়। উপজেলা থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান ক্রীড়াবিদদের নিয়ে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়েও হয় বাছাই। এই বাছাইয়ে লড়েন মোট ৬ হাজার ৭০৮ জন। সেখান থেকে উঠে আসা ২ হাজার ৬৬০ জন ভবিষ্যত তারকা ২১টি ডিসিপ্লিনে ৩৪০টি স্বর্ণ, ৩৪০টি রৌপ্য ও ৩৪০টি ব্রোঞ্জসহ মোট ১১১৪টি পদকের জন্য ১০ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে মাঠে নামবে।

প্রথমবারের মতো আয়োজিত যুব গেমসের ডিসিপ্লিনগুলো হল- ফুটবল, ভলিবল, বাস্কেটবল, হকি, কাবাডি, হ্যান্ডবল, অ্যাথলেটিকস, সাঁতার, ব্যাডমিন্টন, শুটিং, টেবিল টেনিস, স্কোয়াশ, কারাতে, তায়কোয়ানদো, কুস্তি, জুডো, উশু, ভারোত্তোলন, বক্সিং, আরচারি ও দাবা।

বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের ভেন্যুগুলো হল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম, কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়াম (এই দুটি ফুটবলের জন্য), জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের জিমনেসিয়ামে হবে ভারোত্তোলন ও তায়কোয়ানডো। শহীদ সোহরাওয়ার্দী ইনডোর স্টেডিয়ামে হবে জুডো, শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং স্টেডিয়ামে হবে রেসলিং ও উশু। বিএফ শাহীন স্কোয়াশ কোর্টে হবে স্কোয়াশ। শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী স্টেডিয়ামে হবে হ্যান্ডবল, সৈয়দ নজরুল ইসলাম সুইমিং কমপ্লেক্সে সাঁতার, মোহাম্মদ আলী বক্সিং স্টেডিয়ামে বক্সিং, গুলশান শ্যুটিং কমপ্লেক্সে শ্যুটিং, শহীদ তাজউদ্দিন ইনডোর স্টেডিয়ামে ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস, দাবা ফেডারেশনের ক্রীড়াকক্ষে দাবা, পল্টনস্থ কাবাডি স্টেডিয়ামে কাবাডি, টঙ্গীস্থ শহীদ আহসানউল্লাহ মাস্টার স্টেডিয়ামে আরচ্যারি, পল্টনস্থ ভলিবল স্টেডিয়ামে ভলিবল, মাওলানা ভাসানী হকি স্টেডিয়ামে হকি, বিকেএসপির ইনডোরে বাস্কেটবল প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

ঢাকায় আসা প্রত্যেক বিভাগের ক্রীড়াবিদদের আবাসন সুবিধা দেওয়া হবে। দৈনিক ভাতা ও আসা যাওয়ার খরচ ইতিমধ্যে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রত্যেককে ট্র্রাকস্যুট ও বিভাগীয় দলের জার্সি দেওয়া হয়েছে। চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ বিভাগীয় দলকে ট্রফি দেওয়া হবে। পদক জয়ের ক্ষেত্রে কোনো অর্থ পুরস্কার থাকছে না।

সূত্র-ভোরের কাগজ

কমেন্টস