২০ বছর পর ‘মা’কে তাঁর পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছিঃ সাইফ হাসান

প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি ২৫, ২০১৮

মেজবা মিলন।।

হাসান রেজা বাংলাদেশের ছেলে।১৯৯৫ সালে ভাগ্য বদলানোর জন্য সৌদি আরব যান।তবে তাঁর ভাগ্য কতটুকু পাল্টিয়েছে সেটা হয়তো ঠিক ভাবে বলতে পারবো না।কিন্তু সৌদি আরব যাওয়ার পর তাঁর জীবনটাই অন্যরকম হয়ে গিয়েছে এতটুকু বলতে পারবো।

হাসান রেজা যখন সৌদি আরব যান তখন সেখানে শ্রীলংকান বংশদ্ভুত খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বী এক তরুনীর সাথে তাঁর পরিচয় হয়।এরপর সেখান থেকে দুজন দুজনকে ভালো লাগতে শুরু করে।তারপর সেই ভালোলাগা থেকে শুরু হয় ভালোবাসা।

কিন্তু সেই  ভালোবাসার সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্ম।কারণ তারা দুই জন ছিলেন  দুই দেশের বাসিন্দা। ধর্ম আলাদা একজন মুসলিম অন্যজন খ্রিষ্টান । তাদের এই সম্পর্ক কোন ভাবেই পরিবার থেকে মেনে নিবে না এই বিষয়ে তারা নিশ্চিত ছিলেন।কিন্তু তাদের ভালোবাসা ছিলো অসহায়।কোন বাঁধাই যেন  আলাদা করতে পারবে না।তাই পরিবার প্রিয়জনদের ছেড়ে নিজ ধর্ম ত্যাগ করে মনের মানুষ হাসান রেজাকে বিয়ে করেন সেই লংকান তরুণী।এরপর যা হওয়ার তাই হলো।মুসলিম ছেলেকে বিয়ে করার জন্য তাঁর পরিবার তাঁর সাথে ছিন্ন করলো সব সম্পর্ক।

এই ভাবেই কেটে গেল প্রায় তিন বছর তখন স্ত্রীকে নিয়ে দেশে ফিরে আসেন রেজা।কারণ তাঁর স্ত্রী তখন গর্ভবতী। ১৯৯৮ সালের ৩০ অক্টোবর এই দম্পত্তির ঘর আলো করে আসে এক ফুটফুটে সন্তান। সেই সন্তানই আজকের বাংলাদেশ অনুর্দ্ধ-১৯ দলের অধিনায়ক সাইফ হাসান।

বর্তমান সময়ে নিজের পাফম্যান্স ও বাবা –মায়ের ভালোবাসার কিছু স্মৃতি নিয়ে কথা বললেন বিডিমর্নিং এর সাথে সাক্ষাতে ছিলেন মেজবা মিলন।।

প্রশ্নঃ প্রথমেই জানতে চাইবো আপনার বাবা ও মায়ের সম্পর্কে।আপনার জন্মের পর কি তাঁরা বাংলাদেশেই থেকে যান?

সাইফ হাসানঃ আসলে আমার বাবা মায়ের সৌদি আরবে পরিছয়।সেখানে তাঁরা বিয়ে করেন।এরপর আমার জন্মের সময় বাংলাদেশে চলে আসেন।এরপর আমরা আবার সৌদি আরব চলে সেখানে দশ বছর চলে যাই।এরপর আবার বাংলাদেশে ফিরে আসি।

প্রশ্নঃ নানা বাড়ির কারো সাথে কখনো কথা হয়েছে কি?

সাইফ হাসানঃ আমার আম্মু ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেই আব্বুকে বিয়ে করেছিলেন।তার পর আম্মুর পরিবার মেনে নেয়নি।এরপর ২০ বছর আম্মুর সাথে তাদের কোন যোগাযোগ ছিলো না। তো আমি যখন প্রথম শ্রীলংকায় এশিয়া কাপ খেলতে যায় তখন তাদের সাথে আমার প্রথম কথা হয়।

প্রশ্নঃ আপনি তো গিয়েছেন নানার বাড়ি তো আপনার আম্মু বিয়ের পর গিয়েছেন?

সাইফ হাসানঃ হ্যাঁ, আমি যখন এশিয়া কাপ খেলতে যায় তখন আম্মুও আমার সাথে গিয়েছিলেন।সেখানে তিনি এক মাসের মত ছিলেন।

প্রশ্নঃ প্রায় ২০ বছর পর মা’কে নিয়ে শ্রীলংকায় গিয়েছিলেন নানার বাড়িতে তখন নানা বাড়ির পরিবেশটা কেমন হয়েছিলো?

সাইফ হাসানঃ তখন আমার আম্মুর মুখে যে হাসি ছিলো।সেটা দেখে বুঝতে পেরেছিলাম আম্মু কতটা খুশি হয়েছে।এটা আমার জীবনে অনেক বড় পাওয়া।বিষ বছর পরিবারকে ছেড়ে এটা অনেক কষ্টের।এখন তাদের সাথে আম্মুর নিয়মিত যোগাযোগ হয়।এখানে (বাংলাদেশে) আম্মুর আপন বলতে তেমন কেউ নাই।তো এখন সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে আম্মু সেই অভাবটা পূরণ হচ্ছে।

প্রশ্নঃ মামা-খালা এমন কেই আছেন যারা আপনাকে খুব ভালোবাসেন?

সাইফ হাসানঃ ঐ যে বললাম , যখন অনুর্দ্ধ-১৯ দলের হয়ে প্রথম এশিয়া কাপ খেলতে যায় তখন নানা বাড়ি থেকে প্রায় ২০ জনের মত আসেন আমার সাথে দেখা করতে।মামা-খালা সবাই।

প্রশ্নঃ তাহলে ভবিষ্যতে কি শ্রীলংকায় স্থায়ী ভাবে থাকার ইচ্ছা আছে?

সাইফ হাসানঃ না আসলে তেমন কোন পরিকল্পনা নাই, তবে আম্মু যেহেতু নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন সেহেতু আম্মুকে আবার পাঠাবো।

প্রশ্নঃ শ্রীলংকার জন্য আলাদা ভালোবাসা আছে?

সাইফ হাসানঃ না তেমন কিছু নেই ।আসলে আম্মু পুরোপুরি শ্রীলংকার না।যেহেতু আম্মুও ২০ বছর শ্রীলংকায় যাতায়াত ছিলো না আমিও না যাওয়া মত তাই ব্যক্তিগত ভাবে তেমন কিছু নেই।

প্রশ্নঃ এবার একটু খেলা ধুলা প্রসঙ্গে আসা যাক। ক্রিকেট খেলা শুরু করার সময় কোন বাঁধা এসেছে নাকি?

সাইফ হাসানঃ পড়াশোনা ও খেলার মধ্যে একটা সমস্যা ছিলো।আমি গণিত অনেক ভালো পারতাম।তো আব্বু চাইতো না পড়াশোনা বাদ দিয়ে খেলা করি।প্রথম প্রথম একটু সমস্যা ছিলো।এরপর আব্বু যখন দেখলো তখন আব্বুর কাছ থেকে একটু ছাড় পেলাম।এরপর আব্বুর কাছ থেকে অনেক সাপোর্ট পেয়েছি।

প্রশ্নঃ কোন খেলোয়াড়ের মত হতে চান?

সাইফ হাসানঃ আমি আমার দেশের আইকন মাশরাফি ভায়ের মত হতে চায়।

প্রশ্নঃ জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেলে সেই সুসংবাদ প্রথমে কাকে দিবেন?

সাইফ হাসানঃ অবশ্যই আমার আব্বু ও আম্মুকে।কেননা তাঁরা আমার জন্য অনেক করেছেন।

প্রশ্নঃ জাতীয় দলের খেলার জন্য কতটা প্রস্তুত ?

সাইফ হাসানঃ যেহেতু আমি অনূর্ধ্ব-১৯ খেলে এসেছি তো আমার লক্ষ্য থাকবে জাতীয় দলের হয়ে খেলা। তবে এখন প্রিমিয়ার খেলছি তাই সেই দিকেই ফোকাস আছে।আর এটা যেন আমি ভালো ভাবে শেষ করতে পারি তাহলে এটা নির্বাচকদের উপর নির্ভর করছে। আমি যত পারফর্ম করবো ততো আমার নামটা থাকবে সামনে।

কমেন্টস