প্রস্তুতি ম্যাচেও হতাশায় ডুবিয়েছে পেস বোলিং

প্রকাশঃ অক্টোবর ১৩, ২০১৭

বিডিমর্নিং স্পোর্টস ডেস্ক–

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টেস্ট সিরিজে ভরাডুবির পর ওয়ানডে সিরিজের আগে একমাত্র প্রস্তুতি ম্যাচেও আবারো ব্যাটসম্যান ও বোলাদের অসহায় আত্মসম্পর্ণ করেছে। ক্রিকেট আফ্রিকা ইনভাইটেশন ইলেভেনের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ৬ উইকেটে।

বৃহস্পতিবার  ব্লুমফন্টেইনে আগে ব্যাট করতে নেমে পুরো ৫০ ওভারও ব্যাটিং করতে পারেনি বাংলাদেশ।বাংলাদেশের ইনিংসের ৪৮.১ ওভারে অলআউট হয় ২৫৫ রানে। তবে বাংলাদেশ আডাইশোর ঘর পার করতে পেরেছে সাকিবের কল্যাণে। ইনিংস সর্বোচ্চ ৬৮ রান আসে তার ব্যাট থেকেই। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন সাব্বির রহমান। টেস্টের মতো ওয়ানডে সিরিজেও হতাশায় ডুবিয়েছে বাংলাদেশের ওপেনিং জুঁটি। সেই ধারাবিাহিকতাই বিদ্যমান ছিল বাকিদের ব্যাটিংয়ে।

ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ের  র্নিবিষ ছিল বাংলাদেশ।স্বাগতিকদের উদ্বোধনী জুটি ভাঙতেই বাংলাদেশের বোলারদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ২৫.৫ ওভার! আফ্রিকার হয়ে এইডেন মার্করাম ও ম্যাথু ব্রেটজেকের সঙ্গে মার্করামের ১৪৭ রানের উদ্বোধনী জুটিই বাংলাদেশকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়।

বোলিংয়ে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম আঘাত আনেন নাসির হোসেন।তিনি একপাশ থেকে স্ববলিগ গতিতে এগিয়ে যাওয়া মার্করামকে বিদায় করেন। নাসিরকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে মারকাম  ৬৮ বলে ৮২ রানের অসাধারণ এক ইংনিংস উপহার দেন দলকে।এরপর বাংলাদেশ দ্বিতীয় সাফল্য পেতে বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি বাংলাদেশকে।আরেক ওপেনার ব্যাটসম্যান ব্রেটজেককে (৭১) ফেরান মাশরাফি বিন মুর্তজা।

দুই ওপেনারের বিদায়ের পর তৃতীয় উইকেটে আফ্রিকার দুই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান জেপি ডুমিনি ও এবি ডি ভিলিয়ার্স গড়েন  ৬২ রানের জুটি। যা সহজেই তাদেরকে জয়ের দিয়ে নিয়ে যায়।

পেস বেলিং কন্ডিশনে বাংলাদেশের একমাত্র সফর বোলার ছিলেন মাহমুদউল্লাহই। তিনি ৪ ওভারে ১৩ রান দিয়ে তিনি উইকেট ২টি নিয়েছেন। এছাড়া মাশরাফি ৯ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ১ উইকেট। নাসির ৯ ওভারে ১ উইকেট নিতে রান দিয়েছেন ৫২। মুস্তাফিজ সহ বাকিরা সবাই ছিলেন উইকেট শুন্য। তিনি ৭ ওভারে দিয়েছেন ৪৩ রান। সাকিব ৫ ওভারে ৩০, সাইফউদ্দিন ৪.৩ ওভারে ২৭ ও রুবেল ৮ ওভারে দিয়েছেন ৪১ রান।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংই সিদ্ধান্ত  নিয়েছিলেন মাশরাফি। কিন্তু আবার ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডার। টেস্টে সিরিজে ব্যর্থ সৌম্য সরকার আবারো হতাশ করেছেন প্রস্তুতি ম্যাচেও। বাঁহাতি এই ওপেনার ব্যাটসম্যান ১৩ বলে করেছেন ৩ রান।

তামিম ইকবাল অনুপস্থিতে তার জায়গায় ওপেন করতে নামেন ইমরুল কায়েস। তিনি শুরুটা  ভালোই করেছিলেন । কিন্তু পারেননি ইনিংস বড় করতে । ৩১ বলে ৬ চারে করেছেন ২৭। অষ্টম ওভারে রবি ফ্রাইলিংকের পরপর দুই বলে ফিরেছেন সৌম্য-ইমরুল। বাংলাদেশের সংগ্রহ তখন ২ উইকেটে ৩১!

দুই ওপেনারের জোড়া বিদায়ের পর দলকে কিছুটা টেনে নিয়েছিলেন লিটন দাস ও মুশফিকুর রহিম। কিন্তু দলের স্কোর পঞ্চাশ পার হওয়ার পর আবার জোড়া ধাক্কা। পরপর দুই ওভারে ফিরে যান লিটন (৮) ও মুশফিক (২২)। ৬৩ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা তখন বাংলাদেশ।

এরপর মাহমুদউল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে দলের হাল ধরেন সাকিব। তারা দুজনে দলকে পাড় করার ১০০ রানের কোটা। এর পর দলীয় ১২০ রানে মাহমুদউল্লাহ এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ব্যক্তিগত ২১ রানে। শেষদিকে দলে ফেরা নাসির ২৩ বলে করেন ১২। অধিনায়ক মাশরাফি ১৩ বলে একটি করে চার ও ছক্কায় ১৭ না করলে বাংলাদেশের আড়াইশও হতো কি না সন্দেহে! পেস অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।

এরপরই ইনিংস সর্বোচ্চ ৭৬ রানের জুটিটা এসেছে সাকিব ও সাব্বিরের ব্যাটে। দুজন যেভাবে খেলছিলেন তাতে এক সময় তিনশ দূরের পথ বলেও মনে হচ্ছিল না। কিন্তু সাকিবের বিদায়ে এ জুটি ভাঙার পরই আবার পথ হারায় বাংলাদেশ। ৫৯ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়ে ৪৮.১ ওভারেই অলআউট হয়ে যায় সফরকারীরা।

আগামী ১৫ অক্টোবর কিম্বার্লিতে অনুষ্ঠিত হবে সাউথ আফ্রিকা ও বাংলাদেশ মধ্যকার তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। ১৮ অক্টোবর পার্লে দ্বিতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে । ইস্ট লন্ডনে তৃতীয় ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে ২২ অক্টোবর। তিনটি ম্যাচই শুরু হবে বাংলাদেশ সময় দুপুর দুইটায়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ: ৪৮.১ ওভারে ২৫৫ (সৌম্য ৩, ইমরুল ২৭, লিটন ৮, মুশফিক ২২, মাহমুদউল্লাহ ২১, সাকিব ৬৮, সাব্বির রহমান ৫২, নাসির হোসেন ১২, মাশরাফি ১৭, সাইফউদ্দিন ১৩, মুস্তাফিজ ০)

দক্ষিণ আফ্রিকা একাদশ: ৪৬.৩ ওভারে ২৫৭/৪ (মার্করাম ৮২, ব্রিটজেক ৭১, ডুমিনির ৩৪, ডি ভিলিয়ার্স ৪৩; মাহমুদউল্লাহ ২/১৩, মাশরাফি ১/৪৭, নাসির ১/৫২)।

কমেন্টস