স্টেইন , ফিল্যান্ডার না থাকলেও ভয়ংকর আফ্রিকা

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৭

নজরুল ইসলাম, চ্যানেল নাইন ক্রীড়া প্রতিবেদক।।

ডেল স্টেইন, ভারনন ফিল্যান্ডার, ক্রিস মরিস ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার পেস অ্যাটাক ভয়ংকর, এটা মানতেই হবে।  শুধু প্রতিপক্ষ বাংলাদেশ বলে নয় হোম কন্ডিশনে মরকেল, রাবাদা, অলিভার কিংবা অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা এনগিডির পেস সামর্থ্য যে কোনো দলের জন্যই বিপজ্জনক।  আসলে দল হিসেবে দক্ষিণ আ্ফ্রিকা টেস্টের শতবছরের এতিহ্য ধারণ করে আ্ছে ।  এটা জানে বলে তাদের মননে একটা আলাদা স্বকীয়তা আছে । অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো তাদের ক্রিকেট বোর্ডও  পেস অ্যাটাক নিয়ে সচেতন । পেস বোলিং প্রোটিয়াদের কাছে যেনো ধ্যান জ্ঞান।  গোফি লরেন্স, টিপ স্নুক, জর্জ বিসেটের পর গত দুই যুগে পেয়েছে অ্যালান ডোনাল্ড, শন পোলক, ল্যন্স ক্লুজনার, মাথায়া এনটিনির মতো পেসারদের। তাদের উত্তরসূরি হিসেবে আন্দ্রে নেল, ডেল স্টেইন, মরনে মরকেল, ভারনন ফিল্যান্ডারের আবির্ভাব।
জ্যাক ক্যালিস পেস অলরাউন্ডার হলেও মুলত তিনি ব্যাটসম্যান। তাঁকে বাদ দিলে পোলক ও এনটিনি ছাড়া আর কোনো পেসার ১০০ টেস্ট খেলতে পারেননি। ফাস্ট বোলারের খ্যাতি হলেও ইনজুরির আঘাত কম জর্জরিত করেনি প্রোটিয়াদের।  ডোনাল্ড, ক্লুজনার, স্টেইন, সবাই এতে ভুগেছেন । নেল তো ৭ বছরের বেশি টেস্ট খেলতে পারেননি। ফিল্যান্ডার, পারনেল, মরকেলও হরহামেশা দল থেকে ছিটকে গেছেন গত কয়েক বছরে। ইনজুরি প্রবণতা বেশি থাকার দরুণ ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকাও বিকল্প ফাস্ট বোলার তৈরির ক্ষেত্রে মনোযোগ হারায় নি। প্রোটিয়াদের পেস বোলার তৈরির কারখানা বললে কোনো ভুল হবে না।  ২০১০ সালের পর ফিল্যান্ডার, অ্যাবট, রাবাদা,  মরিস যাদেরকে দলে পেয়েছে কেউ বিমুখ করেনি।  দুরন্ত গতি, বাউন্স , সুইং সব কিছুতেই নিঁখুত তারা।  এই সময়ের ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়া ও পাকিস্তানে কেবল পেস অ্যাটাকে এতোবেশি ধারাবাহিক পারফরমার এসেছে।  এর মধ্যে কোলপাক চুক্তির কারণে কাইল অ্যাবোটকে হারিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ঝোঁক তৈরি ২০১৫ বিশ্বকাপের পর।  তবে টেস্টে দেশের বাইরে এখনো নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ হয়নি।  দক্ষিণ আফ্রিকার বাউন্সি উইকেট টাইগার পেসারদের চেয়েও বেশি সহা্য়তা করবে স্বাগতিকদের। কারণ রাবাদা, মরকেলরা ঐ উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত।  পেসার হিসেবে গতি , লাইন লেংন্থেও তারা সেরা। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ডের মতো পেস নির্ভর দলও প্রোটিয়াদের মাঠে হিমশিম খেতে বাধ্য। যদিও ১৯৭০ সালের পর থেকে অজিরা দক্ষিণ আফ্রিকায় টেস্ট সিরিজ হারেনি। তবে মনে রাখতে হবে ২০১১ সালে পন্টিং, ক্লার্করা ৪৭ রানে অলআউটের লজ্জায় পড়ে।  নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তানকেও ৫০ পার করতে দেয়নি স্টেইন, মরকেলরা।
বাংলাদেশের বিপক্ষে মূল অস্ত্র স্টেইন,ফিল্যান্ডার  ও মরিস না থাকলেও পেস আক্রমণ নিয়ে কোনো সংশয় নেই ডু প্লেসিদের।  অভিষেক হতে পারে লুঙ্গি এনগিডির। চমৎকার গতিতে বোলিং করেন এ ২১ বছর বয়সী ফাস্ট বোলার। রাবাদা, মরকেল এদের বোলিং গতি ১৪৫ এর আশেপাশে থাকে। স্বাভাবিকভাবে প্রোটিয়া ফাস্ট বোলিংকে সমীহ করতে হবে।  এ বছরে দারুণ ছন্দেও আছেন তারা। রাবাদা ৮ ম্যাচে ৩৯ ও মরকেল ৭ ম্যচে শিকার করেছেন ৩০ উইকেট। প্রিটোরিয়াস বা অভিজ্ঞ পারনেলকেও কাজে লাগাতে পারবে তারা। একটা বিষয়ে হয়তো খানিকটা নিশ্চিন্ত থাকা যায়।  কন্ডিশন পেস বোলিং নির্ভর হলেও অনায়াসে ধৈর্য্য ধরে ব্যাটিং সম্ভব। উপমহাদেশের চিরাচরিত স্পিন ট্র্যাকে তিন দিনে ম্যাচ শেষ হতে পারে, ব্যাটিং করা কষ্টকর হতে পারে, ধৈর্য্য ধরে থাকতে চাইলেও বল টার্ন আসবে ।  তবে এই কন্ডিশনে চাইলেই ধের্য্য ধরে পাঁচদিনে খেলা যেতে পারে।  শেষদিকে ব্যাটিং করা কষ্ট হয় । আবার পরিসংখ্যান বলছে গত কয়েক বছরে ৩০০ রান তাড়া করে জেতার ঘটনাও আছে এই কন্ডিশনে।

কমেন্টস