নেশার থেকেও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ‘মারবেল খেলা’!

প্রকাশঃ আগস্ট ১৫, ২০১৭

মেজবা মিলন।।

‘নিবি নাকি নিবি না,নিতে পারলে ২০ টাকা পাবি,না পারলে ২০ টাকা দিবি।চার থেকে পাঁচ জন মিলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকে ‘নিবি নাকি নিবি না’। কিন্তু কি এই ‘নিবি নাকি নিবি না’?কি নিতে পারলে ২০ টাকা?আবার না পারলে দিতে হবে ২০ টাকা।বিষয়টা একটু গোল-মাল লাগছে হয়তো। এই টুকু পড়ার পর অনেকের মনে হয়তো নানা প্রশ্নও জাগতে শুরু করেছে।আসলে প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক।

ঝিনাইদহ শহরের নবগঙ্গা নদীর ধারের ছোট্ট একটি গ্রাম ধোপাঘাটা গোবিন্দপুর।যা এক নম্বর ওয়ার্ড নামে পরিচিত।চারদিককার সবুজ-শ্যামল পরিবেশ দেখলে যে কেউ মন হারাতে বাধ্য।আশে পাশের অন্য সকল গ্রামের থেকে এই গ্রামের শিক্ষার হার অনেক বেশি।সবাই সবালম্বী তাই কোন অভাব নেই বললেই চলে।

নেশার থেকেও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ‘মারবেল খেলা’,কিন্তু কেন?

এই গ্রামের মানুষ অনেক শান্তিপ্রিয় তাই এক জনের সঙ্গে আরেক জনের কোন দ্বন্দ্ব নেই।সেই জন্যই ঝিনাইদহের শান্তিপ্রিয় গ্রাম নামে পরিচিত এই ধোপাঘাটা গোবিন্দপুর।কিন্তু সেই শান্তির মাঝে বাসা বেঁধেছে এক সর্বনাশা জুয়া খেলা।আর এই জুয়া খেলার অন্যতম মাধ্যম হলো ‘মারবেল’ অনেক জায়গায় আবার গুটি খেলা নামেও পরিচিত।যার প্রভাবে দিনে দিনে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে গ্রামের যুব সমাজ।বড়-ছোট সবাই এখন এই জুয়া খেলার দিওয়ানা।

নেশার থেকেও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ‘মারবেল খেলা’,কিন্তু কেন?

কিন্তু কেন হঠাৎ করে এই মারবেল খেলায় ঝুঁকছে সবাই?

আসলে এর পিছনে অন্যতম বড় কারণ হলো গ্রামে খেলার মাঠের অভাব।আয়াতনে ছোট এই গ্রামের খেলার মাঠ একটিই।যা ধোপাঘাটা ব্রিজের নিচে মাঠ নামে পরিচিত।আর এই মাঠে গ্রামের বড়-ছোট সবাই খেলা করে।কিন্তু সেই খেলার মাঠে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী লোক টাকার লোভে বসাতে যাচ্ছে মেলা।ইতোমধ্যে প্রভাবশালীরা মেলার জন্য মাঠ দখল করে নিয়েছে।মাঠের মাঝে যাত্রপালা ও পুতুল নাচের নামে টাঙিয়েছেন সামিয়ানা।মাঠে চলাচলের জন্য বানানো হয়েছে রাস্তা।

নেশার থেকেও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ‘মারবেল খেলা’,কিন্তু কেন?

মাঠের দৃশ্য এখন এমন হয়ে গিয়েছে।দেখলে চিনতে পারবেন না এটি খেলার মাঠ না কি মেলার মাঠ?প্রকৃতি মাতা বৃষ্টির কারণে মেলা শুরু হতে বিলম্ব হচ্ছে।প্রায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে মেলার নামে মাঠটি তারা দখল করে আছে।সেখানে খেলাধুলা করার কোন উপায় নেই।যার কারণে স্থানীয় যুবকরা এই গুটি খেলার দিকে ঝুঁকছে।কারণ খেলাধুলা মনকে বিকাশিত করে।ভালো চরিত্রের মানুষ হয়ে উঠতে সহায়তা করে।সেই খেলাধুলা যদি একটি সমাজ থেকে দিনের পর দিন হারিয়ে যেতে থাকে তাহলে সে সমাজে অচিরেই অন্ধকারে হারিয়ে যায়।

নেশার থেকেও ভয়ংকর হয়ে উঠেছে ‘মারবেল খেলা’,কিন্তু কেন?

গ্রামের পরিবেশ পাল্টিয়ে গিয়েছে।খেলার কোন জায়গা নেই।তাই একা একা ঘরে বসেই দিন কাটান সেখানকার স্থানীয় ছেলে শামীম হোসেন।মাঠের মেলা বসা নিয়ে রয়েছে তাঁর বড় ক্ষোভ।কিছুতেই মানতে পারছেন না এই মাঠে মেলা হোক।

এই প্রসঙ্গে শামীম বিডিমর্নিংকে জানান,আমরা বাঁচতে চাই,আমাদের বাঁচান।এই মাঠে মেলা হলে আমাদের যুব সমাজ শেষ হয়ে যাবে।মেলার নামে এই সব অশ্লীল যাত্রাপালা আর পুতুল নাচ আমরা চাই না।আমরা এখানে খেলা করতে চাই।খেলাধুলা না করতে পারায় আজ এখান কার বড়-ছোট সবাই জুয়া খেলার দিকে ছুটছে। মাননীয় সরকার আমাদের একটু দেখেন। যদি এখনি এর বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ না নেন তাহলে আমাদের যুব সমাজকে আর বাঁচানো যাবে না।

শামীমের এই আর্তনাদ বুঝিয়ে দিচ্ছে কতটা অসহায় তারা।আবার কবে ফিরে পাবে তাদের স্বপ্নের সেই খেলার মাঠ।এখন শুধুই সময়ের অপেক্ষা…………

Advertisement

কমেন্টস