পরিত্যাক্ত তৃতীয় দিনের খেলা, প্রস্তুতি ম্যাচের প্রাপ্তি কতটুকু?

প্রকাশঃ আগস্ট ১১, ২০১৭

বিডিমর্নিং স্পোর্টস ডেস্ক-

ভারী বর্ষণে পণ্ড হয়ে গেছে তিনদিনের অনুশীলন ম্যাচের শেষদিন। সাগরিকায় বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমে থেমে ঝরেছে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। ১০টার দিকে দমকা হাওয়ার সঙ্গে অঝোর ধারায় শুরু হয় বৃষ্টি। পরে দুপুর ১টার দিকে দিনের খেলা পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন ম্যাচ অফিসিয়ালরা।

জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে বৃষ্টি বাধার পরও দুই দিনে খেলা হয়েছে ১২২ ওভার। মুশফিক ও তামিমের দল খেলেছেন এক ইনিংস করে। বৃহস্পতিবার পড়ন্ত বিকেলে দ্বিতীয় ইনিংসে মুশফিকরা ব্যাটিংয়ে নামার পর বৃষ্টির হানায় শেষ হয় দ্বিতীয় দিনের খেলা। শেষদিনও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকল। তাতে তৃতীয় দিনটা চলে গেল বৃষ্টির পেটে।

প্রথম দুই দিনে পরখ করে নেয়া গেছে অনেক কিছুই। তৃতীয় দিনের খেলা মাঠে গড়ালে হয়তো টিম ম্যানেজমেন্ট আরেকটু পরখ করে নিতে পারতেন সবাইকে।

প্রথম দিন আগুন ঝরানো বোলিংয়ে স্পট লাইটে ছিলেন পেসার শফিউল ইসলাম। দ্বিতীয় দিনে ব্যাটিংয়ে নজর কেড়েছেন মুমিনুল হক, নাসির হোসেন ও তানবীর হায়দার। আর বোলিংয়ে নায়ক রুবেল হোসেন ও সাকলাইন সজীব।

মুশফিকদের করা ১৪০ রানের জবাবে তামিমদের ইনিংস শেষ হয় ২৮৩ রানে। ফিফটি পান মুমিনুল, নাসির ও তানবীর। তিনটি করে উইকেট নিয়েছেন রুবেল ও সাকলাইন।

দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে মুশফিকের দল প্রথম ইনিংসের মতো শুরু করে। আবারও ব্যর্থ ইমরুল কায়েস (৮)। মোস্তাফিজকে ব্যাক টু ব্যাক চার মেরে শুরু করলেও ফিরে যান তৃতীয় বলেই। দিন শেষে ওই ১ উইকেটে ২৪ রান তাদের। সৌম্য সরকার ৯ ও প্রথম ইনিংসে ৫৩ রান করা নাজমুল হোসেন শান্ত ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাদের আর ব্যাটিংয়ে নামা হল না শেষদিনে।

এর আগে দ্বিতীয় দিন সকালে আগের দিনের ১ উইকেট ৪৯ রানে ব্যাটিং শুরু করেছিলেন তামিমরা। ২৩ রানে অপরাজিত থাকা তামিম আর ৬ রান যোগ করে ফিরেছেন।

তামিমের পর সাব্বির রহমান ভাল শুরু পান। তার ‘ট্রেডমার্ক’ শট ছিল কয়েকটি। কিন্তু ১০ রান করার পর তাইজুল ইসলামের প্রথম বলেই বোল্ড হন এই ডানহাতি। আর্ম বলের মুখে ব্যাট পাতলেও কানায় লেগে লেগস্টাম্প উপড়ে যায়। পরে মুমিনুল ফিরেছেন ঝলমলে ৭৩ রানে।

নাসির খেলেছেন ৬২ রানের সাবলীল এক ইনিংস। দুই বছর আগে সবশেষ টেস্ট খেলা এই অলরাউন্ডার জানান দিয়েছেন, টেস্টের জন্যও প্রস্তুত তিনি। ৫১ রানের ইনিংস খেলেন তানবীর। শেষ দিকে সাঞ্জামুল ২২ ও শফিউল ১০ রান যোগ করলে তিনশ’র কাছাকাছি সংগ্রহ গড়ে তামিমের দল।

ফিটনেসের কঠিন পরীক্ষা দিয়েছেন রুবেল হোসেন। গতি, বাউন্স, সুইং ধরে রেখে এই পেসার চার স্পেলে করেছেন ১৭ ওভার। অপর দুই পেসার আল-আমিন ও শুভাশীষ রায় মিলে যেখানে করেছন মাত্র ১৫ ওভার। টিম ম্যানেজমেন্টের পরীক্ষায় রুবেল কত মার্কস পেলেন সেটি জানা যাবে ১৯ আগস্ট দল ঘোষণার দিন।

অস্ট্রেলিয়া সিরিজের জন্য চূড়ান্ত দল ঘোষণা হবে সেদিন। প্রথম দিন ১৭ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে লেটার মার্কস তুলেছেন শফিউল ইসলাম। সেই তুলনায় তাসকিন-মোস্তাফিজদের নির্বিষ মনে হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাদশে দুজনের বেশি পেসার থাকার সম্ভাবনা খুবই কম। দেখা যাক কাদের কপাল খোলে!

Advertisement

কমেন্টস