যাদের আমরা ভুলে যেতে বসেছি

প্রকাশঃ জুলাই ১০, ২০১৭

বিডিমর্নিং স্পোর্টস ডেস্ক-

জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে দেশকে বিশ্ব দরবারে উপস্থাপন করবেন মাত্র ১৫ জন। ১৬ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশ থেকে ভালো খেলোয়াড় বের হবে,দলে আসবে এবং এসে দলকে বিশ্বদরবারে দেশকে তুলে ধরবে। ব্যাপারটা তো সেটাই হওয়া উচিত। কিন্তু আমাদের একটা সংস্কৃতি চালু আছে যে একবার খারাপ খেলে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়লে তাকে আর সহজে জাতীয় দলে নেওয়া হয় না। তার জন্য জাতীয় দলের দরজা একরকম বন্ধই হয়ে যায়।

বিপিএল কাপানো মেহেদী মারুফের কথাই ধরা যাক। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তার অভিষেক হয় ২০০৬ সালের নভেম্বরে। লিস্ট ‘এ’ তে তিনি তার অভিষেক ম্যাচ খেলেন ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে। টি-টুয়েন্টিতে অভিষেক হয় একই বছরের জানুয়ারিতে। প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে তার গড় ২৭.১১। লিস্ট ‘এ’ তে গড় ৩৫.৪০ আর টি-টুয়েন্টিতে গড় হচ্ছে ২০.৩৮।

জুবায়ের হোসেন লিখন বাংলাদেশ ক্রিকেটের এক সম্ভাবনাময় লেগস্পিনারের নাম। তিনি দলের হয়ে খেলেছেন ৬ টেস্ট,৩ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ এবং একটি টি-টুয়েন্টি ম্যাচ। তিনি উইকেট পেয়েছেন যথাক্রমে ১৬,৪ এবং ২। বলে রাখা ভাল যে তিনি বেশ খরুচে ছিলেন শুরুর দিকে সে কারণেই তাকে পরে জাতীয় দলের বাহিরে রাখা হয়।কিন্তু কোন উন্নতির সুযোগ না দিয়ে একদম ছুড়ে ফেলে দেওয়াটা কতটা যৌক্তিক সেটা অনেক বড় প্রশ্ন।যদিও প্রথম দিকে মনের করা হত প্রধান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহের পছন্দেই লিখনকে খেলানো হচ্ছে দলে। এখন অোবার সিই হেড কোচের অপছন্দেই কারনেই জাতীয় দলে অবহেলিত থেকে যাচ্ছেন এ সম্ভাবনাময় ক্রিকেটার।

বিপিএল থেকে উঠে আসা আরেক পেসার আবু হায়দার রনির দিকে। এক সময় তাকে জাতীয় দলের আরেক পেসার কাটার ‘মাস্টারখ্যাত’ মুস্তাফিজুর রহমানের ভবিষ্যৎ বোলিং পার্টনার হিসেবে ভাবা হত। কিন্তু তিনিও হতাশ করছেন। বিপিএলে  ভালো খেলার ফলস্বরূপ তার জায়গা হয় জাতীয় দলের টি-টুয়েন্টি দলে। সেখানে তিনি খুব একটা ভাল কিছু করতে পারেননি। মাত্র পাঁচটি টি-২০ ম্যাচ খেলেই বাদ পড়ে যান দল থেকে। যদিও তিনি ৩ টি উইকেট পেয়েছিলেন। এর পর তিনি আর দলে আসতে পারেননি। বিপিএল দলের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে রনি উইকেট বের করার সামর্থ ছিল। তার করা ইয়োর্কার ও স্লো বল গুলো ব্যাটসম্যানদের বিভ্রান্ত করতে সক্ষম ছিল।

তানভীর হায়দারকে নিয়ে আসলে তেমন কিছু বলার নেই। তিনি মাত্র ২ টি একদিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেন কিন্তু কোন উইকেট নিতে পারেননি। এরপরেই তাকে জাতীয় দল থেকে বাদ দেয়া হয়। অথচ তাকে জায়গা করে দিতেই নিউজিল্যান্ড সফরে নাসির হোসেনদের মত ক্রিকেটাররা দলে জায়গা পাননি।

কিন্তু আসলে পার্ফরমেন্স খারাপ হলে একজন খেলোয়াড় দল থেকে বাদ পড়তেই পারেন কিন্তু তাদেরকে আবার ফিরে আসার সুযোগও করে দিতে হবে। কারণ এরাই জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি। এরাই একদিন দলকে সামনে থেকে উপস্থাপন করবে বিশ্ববাসীর কাছে। নির্বাচকদের উচিত এসব খেলোয়াড়কে তাদের পর্যাপ্ত সুযোগ দিয়ে আরও পরিণত করে দলে নিয়ে আসা। যাতে তারা দেশকে আরও অনেক বেশি কিছু দিতে পারে কারণ তাদের সেই ক্ষমতা আছে যেটা নির্বাচকদেরকে বুঝে নিয়েই খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করে আনতে হবে।

কমেন্টস