অমানষিক নির্যাতন,মেয়ে হওয়ার কথা শুনে স্ত্রীর পেটে লাথি মারতেন পেসার শহীদ!

প্রকাশঃ জুন ২৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং স্পোর্টস ডেস্ক-

আরাফাত সানির পর এবার জাতীয় টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য মোহাম্মদ শহীদের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে স্ত্রী নির্যাতনের অভিযোগ এনেছেন তার স্ত্রী।

নির্যাতন প্রসঙ্গে শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার বলেন, “আমার পেটে তখন আমাদের মেয়ে। ওই অবস্থায় শহীদ আমাকে লাথি মারতো। ও আমাকে ভয়ঙ্কর নির্যাতন করতো,” দাবী করেন শহীদের স্ত্রী এবং এরপরই কাঁদতে শুরু করেন তিনি।

কিন্তুএসব অভিযোগই মিথ্যা বলে দাবি করছেন পেসার মোহাম্মদ শহীদ। তার দাবি, ‘যা হয়েছে তার চেয়ে ও বেশি বলছে। আমার স্ত্রীর বোনের জামাই হিংসা করে এসব রটাচ্ছে। লোকে আমাকে বড় ক্রিকেটার বলে, এটা তার সহ্য হয় না।’

এদিকে, শহীদের স্ত্রী আর অভিযোগ এনেছেন যে তার স্বামী আরো অনেক মেয়ের সাথেই অনৈতিক সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছেন।

তিনি (স্ত্রী) আরও বলেন, ‘আমার যখন বিয়ে হয়, তখন ওরা আমাকে রুপার অলঙ্কার দিয়েছিল। সোনার গয়না কেনার মতো সামর্থ্য ওদের ছিল না। বিয়ের প্রথম দুই বছর আমরা সুখেই ছিলাম। সেই শহীদ এখন একাধিক মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক করে। আমার মেয়েকে অস্বীকার করতে চায়। ও বলে এই মেয়ে নাকি ওর না!’

২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট রাজধানীর সেগুন বাগিচায় অবস্থিত বারডেম জেনারেল হাসপাতালের মা ও শিশু বিভাগে কন্যাসন্তান প্রসব করেন শহীদের স্ত্রী ফারজানা আক্তার।

হাসপাতালের কেবিন নম্বর ২০২-এ  চিকিৎসক রুনা লায়লার তত্ত্বাবধানে তিনি টানা ১৪ দিন হাসপাতালে ছিলেন। ক্রিকেটার শহীদ তখন মিরপুর ক্রিকেট একাডেমিতে ছিলেন। কিন্তু এক বারের জন্যও তিনি সন্তানের মুখ দেখার জন্য হাসপাতালে আসেননি। এই সময় ফারজানার সঙ্গে ছিলেন তার মা ও শাশুড়ি।

স্বজনরা জানান, হাসপাতাল বিলের এক লাখ ১০ হাজার টাকার এক পয়সাও পরিশোধ করেননি শহীদ। এরপর ফারজানা তার পাঁচ ভরি স্বর্ণ নারায়ণগঞ্জের এক দোকানে বন্ধক রেখে টাকা এনে হাসপাতালের বকেয়া বিল পরিশোধ করার ব্যবস্থা করান।

ছয় বছরের সংসারে শহীদ ও ফারজানা আক্তারের সন্তান দুই জন। প্রথমটি ছেলে সন্তান হওয়ায় তিনি ছিলেন খুশি। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তান মেয়ে হওয়ায় স্ত্রীর ওপর শুরু হয় অত্যাচার, নির্যাতন। এক পর্যায়ে ঈদের তিন দিন আগে গত শুক্রবার স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দেন শহীদ। এরপর তিনি মুন্সীগঞ্জে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন।

Advertisement

কমেন্টস