ফাইনালে পাকিস্তানের সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে গেল ভারত

প্রকাশঃ জুন ১৯, ২০১৭

চ্যাম্পিয়ন ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেয়া ৩৩৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে সবকটি উইকেট হারিয়ে টেনেটুনে ১৫৮ রান তুলতে সমর্থ হয় কোহলি বাহিনী। আর তাই ১৮০ রানের বিরাট ব্যবধানে পাকিস্তানের কাছে হারলো ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারত।

বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কেটেছিল উদ্ধত আচরণের টিম ইন্ডিয়া। প্রথমবারের মতো আইসিসির কোনো ওয়ানডে ইভেন্টের ফাইনালে মুখোমুখি লড়াইয়ে নামে ভারত-পাকিস্তান। বাংলাদেশ সময় বিকেল সাড়ে তিনটায় মুখোমুখি হয় দুই দল। টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতের দলপতি বিরাট কোহলি। নির্ধারিত ৫০ ওভারে পাকিস্তান ৪ উইকেট হারিয়ে তোলে ৩৩৮ রান। জবাবে, ৩০.৩ ওভারে অলআউট হওয়ার আগে ভারত তোলে ১৫৮ রান।

আগে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তানের ওপেনার ফখর জামান ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম শতক হাঁকান। এছাড়া, হাফ-সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন আরেক ওপেনার আজহার আলি। দলকে দুর্দান্ত শুরু পাইয়ে দিয়ে রান আউট হয়ে ফেরেন আজহার আলি। ২৩তম ওভারের শেষ বলে রান আউটের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়েন ওপেনার আজহার আলি। ৭১ বলে ছয়টি চার ও একটি ছক্কায় ৫৯ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন এ ডানহাতি। এর আগে ফখর জামানের সঙ্গে ১২৮ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়েছিলেন তিনি।

এরপর বিদায় নেন ওয়ানডেতে অভিষেক সেঞ্চুরি করা ফখর জামান (১১৪)। ইনিংসের ৩৪তম ওভারে হারদিক পান্ডের বলে জাদেজার তালুবন্দি হন এই ওপেনার। এর আগে বাবর আজমের সঙ্গে ৭২ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১০৬ বলে সাজানো ফখরের ইনিংসে ছিল ১২টি চার আর তিনটি ছক্কা। দলীয় ২০০ রানের মাথায় দ্বিতীয় উইকেট হারায় পাকিস্তান। ইনিংসের ৪০তম ওভারে বিদায় নেন শোয়েব মালিক। ভুবনেশ্বর কুমারের বলে যাদবের তালুবন্দি হওয়ার আগে মালিকের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান। চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন বাবর আজম। কেদার যাদবের বল তুলে মারতে গিয়ে যুবরাজের হাতে ধরা পড়েন ৪৬ রান করা বাবর। তার ৫২ বলের ইনিংসে ছিল চারটি বাউন্ডারির মার। দলীয় ২৬৭ রানের মাথায় চতুর্থ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

এরপর জুটি গড়েন মোহাম্মদ হাফিজ আর ইমাদ ওয়াসিম। এই জুটি থেকে স্কোরবোর্ডে ওঠে অবিচ্ছিন্ন ৭১ রান। হাফিজ ৩৭ বলে ৪টি চার আর ৩টি ছক্কায় করেন অপরাজিত ৫৭ রান। ইমাদ ওয়াসিমের ব্যাট থেকে আসে ২১ বলে অপরাজিত ২৫ রান।

পাকিস্তানের ছুঁড়ে দেওয়া ৩৩৯ রানের টার্গেটে ব্যাট করতে নামে ভারত। ইনিংসের শুরুতে ব্যাট করতে নামেন ভারতের ওপেনার রোহিত শর্মা আর শিখর ধাওয়ান। প্রথম ওভারেই রোহিতকে এলবির ফাঁদে ফেলেন মোহাম্মদ আমির। তৃতীয় ওভারে আমির মাঠছাড়া করেন ভারতের প্রাণভোমরা খ্যাত কোহলিকে। ব্যক্তিগত ৫ রান করে শাদাব খানের তালুবন্দী হয়ে নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে ভারতের এ প্রাণভোমরা। দলীয় ৬ রানের মাথায় দুই উইকেট হারায় ভারত। দলীয় ৩৩ রানের মাথায় বিদায় নেন শিখর ধাওয়ান। ২২ বলে চারটি চারের সাহায্যে ২১ রান করে আমিরের বলে উইকেটের পেছনে ধরা পড়েন ধাওয়ান। এরপর ফেরেন যুবরাজ সিং। ইনিংসের ১৩তম ওভারে শাদাব খানের বলে এলবির ফাঁদে পড়ার আগে যুবরাজ করেন ২২ রান। দলীয় ৫৪ রানের মাথায় ভারত চতুর্থ উইকেট হারায়।একই রানে বিদায় নেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। ব্যক্তিগত ৪ রান করে হাসান আলির বলে ইমাদ ওয়াসিমের তালুবন্দি হন ধোনি। ইনিংসের ১৭তম ওভারে শাদাব খানের বলে সরফরাজের গ্লাভসবন্দি হন ৯ রান করা কেদার যাদব। ইনিংসের ২৭তম ওভারে রান আউট হন হারদিক পান্ডে (৭৬)। বিদায়ের আগে জাদেজার সঙ্গে ৮০ রানের জুটি গড়েন তিনি। মাত্র ৪৩ বলে পান্ডে চারটি চারের পাশাপাশি হাঁকিয়েছেন ৬টি ছক্কা। দলীয় ১৫২ রানের মাথায় সপ্তম উইকেট হারায় ভারত। স্কোরবোর্ডে আর ৪ রান যোগ হতেই বিদায় নেন রবীন্দ্র জাদেজা (১৫)। জুনায়েদ খানের বলে বাবর আজমের হাতে ধরা পড়েন তিনি।

এরপর অশ্বিনকে ফিরিয়ে ভারতের নবম ব্যাটসম্যানকে ফেরান হাসান আলি। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে বুমরাহকে ফিরিয়ে দেন হাসান আলি।

মোহাম্মদ আমির ও হাসান আলি তিনটি করে উইকেট তুলে নেন। দুটি উইকেট নেন শাদাব খান আর একটি উইকেট নেন জুনায়েদ খান।

উদ্ধত আচরণ, বিকৃত অঙ্গভঙ্গি, প্রতিপক্ষকে নিচু করে দেখা, স্লেজিংসহ এ জাতীয় নানান বিষয় মাঠে প্রদর্শনে বেশ সিদ্ধহস্ত কোহলি ও তার দল। কিন্তু এবারের চ্যাম্পিয়ন ট্রফির আসরে ফেভারিট দল হয়ে ফাইনালে উঠে আসা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন খ্যাত ভারত এই শোচনীয় পরাজয়ের পরও কি তার সেই দাম্ভিকতা ধরে রাখতে পারবে; তাই দেখার অপেক্ষায় ক্রিকেটবোদ্ধারা, ডাইহার্ড ফ্যানস্‌সহ আপামর ক্রিকেটমোদী জনতা।

Advertisement

কমেন্টস