জন্মদিনে তামিম রহস্য

প্রকাশঃ মার্চ ২০, ২০১৭

অর্ণব ইসলাম- 

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের ড্যাশিং ওপেনার তামিম ইকবাল। শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় শততম টেস্টের ঐতিহাসিক জয়ের ম্যাচে দুই ইনিংসেই দুর্দান্ত ব্যাটিং করে জয়ের নায়কই বনে গেছেন তিনি। আজ তার জন্মদিন। ২৮ বছর পূর্ণ করলেন তিনি। তার জন্মদিনে বিডিমর্নিং এর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন।

প্রিয় পাঠক তামিমের এই শুভদিনে আজ না হয় ঘুরে আসা যাক তার জীবনের আদ্যোপান্তের সকল বিষয়গুলো থেকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক জাতীয় দলের এই তারার ব্যাক্তিগত, পেশাগত, এবং পারিপার্শ্বিক আরও নানারকমের জানা-অজানা বিষয়ের গল্প।

জন্ম এবং ক্যারিয়ার শুরুঃ ১৯৮৯ সালের ২০ মার্চ চট্টগ্রামে ইকবাল খান এবং নুসরাত ইকবালের ঘরে জন্ম হয় তামিম ইকবালের।তামিমের ক্রিকেটার হওয়াটা যেন নিয়তিই ছিল। বড় ভাই নাফীস ইকবাল একসময় জাতীয় দলের ওপেনার ছিলেন।  তাঁর বাবা ইকবাল খান চট্টগ্রামের বিখ্যাত খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক। বাবা-চাচাদের সাত ভাইয়ের মধ্যে একজন ছাড়া বাকি সবাই চট্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনে পরিচিত মুখ। তামিমের ছয় চাচা মরহুম কামাল খান, আজম খান, আকরাম খান, আসলাম খান, আফজল খান ও আকবর খান।   ২০০৭ সালে ওয়ানডে অভিষেকের পরের বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেক হয় তামিমের।এরপর ধীরে ধীরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন বিধ্বংসী ওপেনার হিসেবে।

যে দলে খেলেছেন : বাংলাদেশ, এশিয়া একাদশ, বাংলাদেশ ‘এ’, বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯, চট্টগ্রাম বিভাগ, দুরন্ত রাজশাহী, নটিংহামশায়ার, পেশোয়ার জালমি, পুনে ওয়ারিয়র্স, সেন্ট লুসিয়া জুকস, ওয়েলিংটন।

আন্তর্জাতিক অভিষেক : বিপক্ষ জিম্বাবুয়ে, ৯ ফেব্রুয়ারি ২০০৭।

বাক্তিগত যত অর্জনঃ অর্জনের দিক থেকে বলতে গেলে ঝুলি কম ভারী নয় তার। ৪৯ টেস্টে তার রান ৩৬৭৭। গড় ৩৯.৫৩। ৮টি সেঞ্চুরির পাশাপাশি ২২টি হাফ সেঞ্চুরি তার। ওয়ানডেতে ৩২.৪০ গড়ে ১৬২ ম্যাচে তার রান ৫১২০। ৭টি সেঞ্চুরি আর ৩৪টি হাফ সেঞ্চুরি।

এছাড়াও ২০১১ সালে মার্চ মাসে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের প্রথম ইনিংসে তামিম ১২০ বলে ৮৬ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলেন। বাংলাদেশী প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে মাত্র ১৯ টি ইনিংস খেলে ১০০০ রানে পৈৗছান। সেবছরই তিনি তার বাবাকে হারান এবং ইংল্যান্ডের মাটিতে দুই টেস্টই শতকের কারণে তামিম ক্রিকেটের বাইবেল বলে পরিচিত বর্ষপঞ্জিকা উইজডেন এ বছরের সেরা টেস্ট খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।

গ্রায়েম সোয়ান ও ভিরেনদর সেভাগ হন দ্বিতীয় ও তৃতীয়। তামিম সাত টেস্টে ৫৯.৭৮ গড়ে ৮৩৭ রান করেছিলেন। ২০০৯ সালে সাকিবের পর তামিম দ্বিতীয় বারের মতো কোন বাংলাদেশী ক্রিকেটার হিসেবে দুর্লভ সম্মান অর্জন করেন।

ব্যাক্তি তামিমঃ  বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে উঠে এসেছে তামিমের নানারকমের অশোভন এবং রগচটা মনমানসিকতার কথা। কিন্ত ব্যাক্তি তামিম কি আসলেও সেরকম? একটু অন্যভাবে দেখলে কিন্তু উঠে আসে ভিন্ন তথ্য। আসলে বিষয় হচ্ছে যখন যেমন তখন তেমন। চলুন সেরকমই এক গল্প বলি আপনাদের।

 

সময় ২০১৫। পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা দুটি সেঞ্চুরি করেন তামিম। মাঠ ছেড়ে যাবার সময় মাঠকর্মীদের প্রশ্নের ছুড়েন যে, সেঞ্চুরি তো করলেন আমাদের কিছু না দিয়ে কী পারেন? প্রত্যুত্তরে তামিম বলেন, আপনারা খাওয়া দাওয়া করবেন নাকি টাকা নেবেন। পরে এক মাঠ কর্মী জানান, এক লাখের উপরে টাকা দিতে হবে। তামিম তাদের হতাশ করেন নি। অনুশীলনের ফাঁকে মাঝে মাঝে মাঠ কর্মীদের নিয়ে অনুশীলন করেন তামিম। যারা বলে যত ছয় মারের তামিম তাকে ততবেশি বেশি টাকা দেন তিনি। তামিমের অভ্যাস সম্পর্কে এসব যেন বেশ ভিন্ন রকম খবর। এর আগেও মাঠের চা তৈরিকারী বুলু ঘোষকে এক লাখ টাকা দিয়েছিলেন তামিম।

বিয়ের পিড়িতে তামিমঃ ২২-০৬-২০১৩। এই দিনেই দীর্ঘ আট বছরের প্রেমিকা আয়েশার সাথে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তামিম। আয়েশা ছিলেন চট্টগ্রাম সানশাইন গ্রামার স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্রী। সেই স্কুলে এ-লেভেলে পড়ছিলেন তামিম ইকবাল। এক অনুষ্ঠানে প্রথম আয়েশাকে দেখেন তামিম। প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বসেন। আয়েশার প্রেমে সম্মতি ছিল না। তামিম বলেছিলেন—ঠিক আছে, বন্ধু হও। বন্ধু হয়েছিল আয়েশা। তারপর বন্ধুত্ব দিনে দিনে প্রণয়ে পরিণত হয়। আর আট বছরের মাথায় তামিমের ঘরনী হন আয়েশা।

বাবা হারানোর পর থেকে মা নুসরাত ইকবাল খানকে পান অভিভাবক ও বন্ধু হিসেবে। ছেলের পছন্দে অমত ছিল না মায়ের। তামিম তাই টাকা জমিয়ে চড়ে বসতেন মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমানে। কারণ কুয়ালালামপুর সানওয়ে ইউনিভার্সিটিতে যে তখন মার্কেটিং পড়ছিলেন আয়েশা। ক্যারিয়ারের শুরুতে যখন সামর্থ্য ছিল না, তখন আয়েশাকে উপহার দিতেন পারফিউম। এর প্রায় সবই ছোট বোন উরুসার আলমারি থেকে চুরি করা।

সেই বিয়েতে কাবিন ধরা হয়েছিল ৫০ লাখ টাকা। অতিথি এসেছিলেন ১০ হাজারের বেশি। মেন্যুতে ছিল গরু, খাসি, মুরগি, পোলাও, কোর্মা, রেজালা, কিমা, নানান পদের সালাদ, ফিরনি, পানীয়সহ ২০ পদের সুস্বাদু সব খাবার। বিয়েতে কেনা হয়েছিল ৩০ লাখ টাকার কাপড়। পুত্রবধূকে দেয়া হয়েছিল ৫০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। যতই হক এ যে চট্টগ্রামের অন্যতম প্রতাপশালী ইকবাল পরিবারের ছোট ছেলের বিয়ে।

বহুল আলোচিত এ বিয়ের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি চেয়ার পার্সন বেগম খালেদা জিয়া, চট্টগ্রামের তৎকালীন মেয়র মনজুর আলম, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ চেয়ারম্যান আবদুস সালাম, সাবেক মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী, বিএনপি’র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুলস্নাহ আল নোমান, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বিএসসি, প্রাথমিক গণশিক্ষামন্ত্রী আফসারুল আমীনসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তরের লোকজন।

 

 

Advertisement

কমেন্টস