আমরা ভালো খাবারই পাই না দৌড়াবো কি করেঃ জহির রায়হান

প্রকাশঃ মার্চ ১৩, ২০১৮

মেজবা মিলন।।

আমাদের দেশের এ্যাথলেটিকদের অবস্থা অন্য খেলোয়াড়দের থেকে করুন। যে খানে ফুটবলার , ক্রিকেটারদের রমরমা অবস্থা। সেখানে এ্যাথলেটিকদের টিকে থাকার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করতে হয়।এ যেন নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মত অবস্থা।নেই কোন স্পন্সর ভালো থাকা বা খাবারের ব্যবস্থা।এমনি বাস্তবতার মধ্যে অনেক বড় এ্যাথলেটিক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন জহির রায়হান।

চলতি বাংলাদেশ যুব গেমস-এ ৪০০ মিটার দৌড়ে জিতেছেন স্বর্ণপদক। এছাড়াও দেশের হয়ে খেলে থাইল্যান্ড ও কেনিয়া থেকে পেয়েছেন পদক। এখন স্বপ্ন দেখেন বড় হয়ে হবেন দক্ষিণ আফ্রিকার তারকা এ্যাথলেটিক কোয়াইড নেকারের মত।দেশের হয়ে দৌড়িয়ে হবেন চ্যাম্পিয়ন।

কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের পথে রয়েছে ছোট বড় অনেক বাঁধা।তার মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হলো এখনো কোন স্পন্সরের দেখা পাননি এই এ্যাথলেটিক।বাবা একজন স্কুল শিক্ষক । চার ভাই-বোনের সংসার থেকে কোন অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছাড়া খেলা চালিয়ে যাওয়া তাঁর পক্ষে কষ্ঠ কর হয়ে যাচ্ছে।ভালো কোন স্পন্সর পেলে নিজেকে আরও ভালো ভাবে প্রস্তুত করতে পারবেন জহির।দেশের এ্যাথলেটিকদের নিয়ে বড় কোন চিন্তা না করা ও স্পন্সর না থাকার আক্ষেপ নিয়ে কথা বললেন বিডিমর্নিং-এর সাথে সাক্ষাতে ছিলেন মেজবা মিলন।।

প্রশ্নঃ   বেশ কিছু দিন ইনজুরিতে ছিলেন জহির। ইনজুরি থেকে ফিরেই চলতি বাংলাদেশ যুব গেমসে জিতেছেন স্বর্ণপদক।তাই প্রথমেই জানতে চাইলাম কেমন আছেন?

জহিরঃ অনেকটা মন খারাপ করেই বললেন ভালো নেই ভাই।

প্রশ্নঃ জানতে চাইলাম কেন?

জহিরঃ আসলে আমি প্রায় পাঁচ মাস ইনজুরিতে ছিলাম।যার জন্য অনুর্দ্ধ-১৮ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আমি দৌড়াতে পারিনি কারণ আমি ইনজুরিতে ছিলাম।সামনে আমার সাব ও এশিয়া গেমস আছে তো সেই টার্গেটেই আমি প্রস্তুতি নিচ্ছি।এই বাংলাদেশ যুব গেমস খেলে আমি নিজেকে যাচাই করতে পারলাম কি অবস্থানে আছি।এখন ভালো চেষ্টা করছি নিজের পারফম্যান্স আগের মত করার জন্য।

প্রশ্নঃ ইনজুরি থেকে ফিরেই গোল্ড মেডেল জিতলেন কেমন লাগছে?

জহিরঃ আমি অনেক আনন্দিত কারণ আমি এখনো কন্ডিশনিং ট্রনিংয়ের ভিতর আছি।এর মধ্যে থেকেও এতো ভালো একটা ফলাফল করতে পারবো।তবে এটা খুব বেশি আনন্দের তা কিন্তু নয়, আমি বলবো না এটা আমার সেরা সময়।কারণ এটা দিয়ে আমার শুরু হলো।আবার আমি আমার প্র্যাকটিসটা করতে পারবো।

প্রশ্নঃ বড়-ছোট যাই হোক দেশের একজন এ্যাথলেটিক আপনি। তো এই পর্যন্ত আসতে পরিবার থেকে কেমন সাপোর্ট পেয়েছেন?

জহিরঃ আসলে আমার বাবাও একজন এ্যাথলেটিক। তাই আমার পরিবার থেকে আমি সব সময় সাপোর্ট পেয়েছি।আমার বাবা আমাকে নিয়ে অনেক বড় স্বপ্ন দেখেন যেন আমি ভালো কিছু করতে পারি।

প্রশ্নঃ এখনো কোন স্পন্সর পেয়েছেন কি?এই প্রশ্নটির উত্তর দিতে গিয়ে জহিরের হাসি মুখ যেন বন্ধ হয়ে গেল।চোখের পলকে পালটে গেল তাঁর হাসি মাখা মুখ।  

জহিরঃআসলে অনেকেই বল এই খেলা করে কি লাভ? কোন অর্থ অনুথা খেলা। এই খেলায় কোন লাইফ নেই।তবে আমি মনে করি এই খেলায় লাইফ একটা আছে।যদি আমি সঠিক জায়গা মত পৌছাতে পারি তাহলে মার লাইফ একটা আছে।তো আমি সব সময় উপরের দিকের কথা ভাবি।সামনে অনেক খেলা তো দেখি দেশ আমার জন্য কি করে?

প্রশ্নঃ ফুটবল,ক্রিকেটের প্রতি যে ভাবে নজর দেওয়া হচ্ছে সেই ভাবে কি আপনাদের দিকে নজর দিচ্ছে?

জহিরঃ না, ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রতি যে ভাবে নজর দেওয়া হয় আমাদের যদি তার সামান্য একটুও দেওয়া হয়। তাহলে আমাদের দেশে অনেক ভালোভালো এ্যাথলেটিক বের হতে পারবে।

প্রশ্নঃ বাংলাদেশ যুব গেমসে যা সুযোগ সুবিধা ছিলো সব ঠিক ভাবে পেয়েছেন?

জহিরঃ যতটুকু পাওয়ার কথা ততটুকু পেয়েছি।নিয়ম অনুযায়ী এই গেমসে যা দেওয়ার কথা আমরা ততটুকু সুন্দর ভাবে পেয়েছি।তবে অন্য দেশের থেকে আমরা পিছিয়ে আছি।

প্রশ্নঃ এই ধরনের গেমসে থাকা খাওয়ার একটা সমস্যা থাকে সেটা কি ঠিক ভাবে পেয়েছেন?

জহিরঃ আসলে আমাদের দেশে থাকা খাওয়ার একটা সমস্যা থাকবেই। এটা বাংলাদেশে হয়ে থাকে কারণ আমরা ঘন বসতি দেশ।কিন্তু তাঁর পরেও আমি খুবিই আনন্দিত যে যুব গেমসে এতো সুন্দর ভাবে আয়োজন করা হয়েছে।

প্রশ্নঃ যদি ভালো স্পন্সর পান তাহলে কি আরও ভালো করতে পারবেন?

জহিরঃ যর গলায় বললেন, হ্যাঁ অবশ্যই । আমি কি খাবো, আমি যদি খেতেই না পারি দৌড়াবো কি ভাবে? আমার ভালো থাকা খাওয়ার প্রতি যত্ন নেওয়া দরকার।মেইন কাজ হচ্ছে খাওয়া দাওয়ার উপর।কিন্তু আমরা সেই ভাবে পাচ্ছি না।যেমন ফুটবল,ক্রিকেটে স্পন্সরশিপ আছে যদি এই রকম আমাদের হয় তাহলে আমরা আরও ভালো পর্যায়ে যেতে পারবো।

প্রশ্নঃ আমাদের দেশে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় আছেন কিন্তু তারা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে আড়ালেই থেকে যান।সাহস পান না খেলা ধুলায় নাম লিখাতে।তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

জহিরঃ তাদের উদ্দেশ্যে আমি একটি কথায় বলতে চায়। যে অর্থের দিকে তাকিয়ে লাভ নাই। নিজেকে আগে তৈরি করো অর্থ অটোমেটিক চলে আসবে। এটা আমি সব সময় ভাবি। আর অর্থ তো দরকার এটা সব সময় দরকার।যদি আমাদের এ্যাথলেটিকদের একটু অর্থ বা স্পন্সর দেয় তাহলে আমাদের দেশের এ্যাথলেটিকরা ভালো পর্যায়ে যেতে পারবে।

কমেন্টস