অভিশপ্ত ইংল্যান্ডেই সাত বছর পর ‘শাপমোচন’ মোহাম্মদ আমিরের

প্রকাশঃ জুন ১৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং স্পোর্টস ডেস্ক-

২০১০ সালের লন্ডন টেস্ট। ইংল্যান্ড বনাম পাকিস্তানের সেই ম্যাচ ক্রিকেট বিশ্বকে আবার একবার নাড়িয়ে দিয়েছিল। একসঙ্গে তিনজন পাকিস্তান ক্রিকেটারকে স্পট ফিক্সিংয়ের দায়ে নিষিদ্ধ করা হয়। তারা হলেন সালমান বাট, মোহম্মদ আসিফ ও মোহম্মদ আমির। বুকি মাজহার মাজিদের থেকে টাকা নিয়ে ক্রিকেটকে কলঙ্কিত করেছিলেন সালমান বাট, মোহম্মদ আসিফের মতো সিনিয়র ক্রিকেটাররা। আর সেই দলে নাম লিখিয়েছিলেন সেইসময়ে মাত্র ১৮ বছর বয়সী পাকিস্তান ক্রিকেটের এক উজ্জ্বল প্রতিভা মোহম্মদ আমির। সেই সময় পাঁচ বছরের জন্য তাঁকে দোষী সাব্যস্ত হয়ে ক্রিকেট থেকে নির্বাসিত হতে হয়েছিল।

ক্যারিয়ারের শুরুতে পাঁচ বছরের নির্বাসন কাটিয়ে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের হয়ে আমির ক্রিকেট মাঠে ফেরেন। আর এদিন সেই ইংল্যান্ডের মাটিতেই আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে ভারতের ব্যাটিংয়ের কোমর ভেঙে দলকে জিতিয়ে নিজের শাপমোচন করলেন। একদিন যে ইংল্যান্ডের মাটিতে দাঁড়িয়ে দল ও দেশের মাথা হেঁট করেছিলেন, সেদেশে দাঁড়িয়েই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিরুদ্ধে দলকে বল হাতে নেতৃত্ব দিয়ে ।পাকিস্তানের ৩৩৮ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে মোহম্মদ আমিরের বলে একে একে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা ও বিরাট কোহলি। এই তিনজই গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে দলের ব্যাটিংকে টেনেছেন।ইংনিংসের শুরুতেই তিনি ভারতের এই তিন বড় তারকাকে তুলে নিয়ে ফাইনাল ম্যাচটাকে এক  রকম এক পেশে করে দেন। তিনি ছয় ওভার বল করে ১৬ রানের বিনিময়ে নেন ৩ উইকেট। রবিবারের ফাইনালে ইংল্যান্ডের মাঠে বল হাতে আগুন ঝড়িয়ে ফের একবার নিজের ফিরে আসার বার্তা দিলেন আমির।

চিরকালই ভক্ত কিংবদন্তি ফাস্ট বোলার ওয়াসিম আক্রমের। বল হাতে কিছু করার চেষ্টাও তাঁকে দেখেই। ছোট থেকেই গলি ক্রিকেটে অভ্যস্ত ছিলেন। পাঞ্জাব প্রদেশের গুজ্জর পরিবারের সন্তান আমির ২০০৭ সালে চোখে পড়ে যান ওয়াসিম আক্রমের। তারপর একে একে ঘরোয়া ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব ১৯ দল হয়ে ২০০৯ সালে পাকিস্তান দলে অভিষেক। বিশ্ব ক্রিকেট যখন ধীরে ধীরে আমিরকে চিনতে শুরু করেছে, যখন ভাবা হচ্ছে, ওয়াসিম আক্রমের পর ফের একজন ভালো বাঁ হাতি পেসার পাকিস্তান পেয়ে গিয়েছে, সেই সময়ই ২০১০ সালে স্পট ফিক্সিংয়ের জড়িয়ে ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ বছরের বেশি সময় আমির নষ্ট করে ফেলেন। তবে তাতে তিনি দমে যাননি। সেটাই যেন ফের একবার প্রমাণ করে ছাড়লেন তিনি।

Advertisement

কমেন্টস