বিদ্যালয়ের ‘মহানুভবতার দেয়ালে’ মিলছে ভালোবাসার পণ্য!

প্রকাশঃ আগস্ট ৯, ২০১৮

সংগৃহীত ছবি

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

একজন শিশুর নৈতিকতা, মানবিকতা, সহমর্মীতা ও মানুষকে ভালোবাসতে শেখাটা শুরু হয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থেকে। এখান থেকেই শিশু তার শিশু মনকে বিকশিত করতে পারে। নৈতিকতা মূল্যবোধ শেখাটা শুরু হয় এখান থেকে। এই কারণে প্রাথমিক শিক্ষাটা প্রতিটি শিশুর জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

এই স্তরে তাই বিভিন্ন ধরণের নৈতিকতা শিক্ষার জন্য নেয়া হয় নানা উদ্যোগ। তেমনি এক মহানুভব উদ্যোগ নিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার দক্ষিণ মুকসুদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা নাজনীন মিষ্টি।

বিদ্যালয়ে গড়ে তোলা হয়েছে ‘মহানুভবতার দেয়াল’। দেয়ালের একপাশে লেখা, ‘তোমার যা প্রয়োজন নেই তা এখানে রেখে যাও।’ অন্যপাশে, ‘তোমার দরকারি জিনিস পেলে নিয়ে যাও।’

একজনের কাছে যা এক সময় তুচ্ছ-অপ্রয়োজনীয়, অন্যজনের কাছে তাইই হয়তবা তখন মহামূল্যবান। কেউ যেটা ময়লার ঝুঁড়িতে ফেলে আবর্জনা কমায়, সেটাই হয়ত শোভা পায় কারো কারো শোকেসে বা হয়ে ওঠে ভালোবাসার বহুল কাঙ্ক্ষিত পণ্য। এই ধারণা থেকেই মূলত গড়ে উঠেছে এই ‘মহানুভবতার দেয়াল’।

দুর্দান্ত সাড়াও মিলেছে এই উদ্যোগে। ‘মহানুভবতার দেয়াল’ জুড়ে শোভা পাচ্ছে পুরনো পোশাক থেকে শুরু করে অনেক ধরনের পণ্য। শিক্ষার্থীরাও এই মহান কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করে দারুণভাবে তৃপ্ত হচ্ছে। তাঁদের অব্যবহৃত/অপ্রয়োজনীয় জামা ও অন্যান্য জিনিসপত্র রেখে ভরে ফেলেছে। যাদের সেসব পণ্য দরকার তারা তা নিজের মনে করে নিয়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন এই সময়ের জনপ্রিয় নাট্যকার শফিকুর রহমান শান্তুনু। সেখানে উদ্যোক্তাদের শুভকামনা জানাতে গিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি অবাক হয়ে কিছুক্ষণ সেই মহানুভবতার দেয়ালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা শিশুদের হাসিমুখের ছবি দেখতে দেখতে কখন যেন মনে হল, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে আসছে। অনেক শুভকামনা তোমাদের জন্য…।

এই উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শফিকুর রহমান শান্তুনু একবাক্যে মন্তব্য করেন, ‘সারাদেশে গড়ে উঠুক ‌এ রকম অজস্র মহানুভবতার দেয়াল।

এই উদ্যোগের খবর সমাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে। সমাজের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সবাইকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। লেখক, সাংবাদিক থেকে শুরু করে অভিনয় শিল্পীরাও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন এই উদ্যোগ ও উদ‌্যোক্তাদের।

কমেন্টস