Bootstrap Image Preview
ঢাকা, ১৮ মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বার ২০১৮ | ৩ আশ্বিন ১৪২৫ | ঢাকা, ২৫ °সে

ভুল বিচারে ১০ বছর জেল; মুক্তি পাচ্ছেন না সেই বাদল ফরাজী

বিডিমর্নিং ডেস্ক
প্রকাশিত: ১১ জুলাই ২০১৮, ০২:১৪ PM আপডেট: ১১ জুলাই ২০১৮, ০২:১৪ PM

bdmorning Image Preview


বিডিমর্নিং ডেস্ক-

খুনের মামলায় আসামি হয়ে ভারতে ভুল বিচারের শিকার বাদল ফরাজীকে কারামুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত রিট উত্থাপিত হয়নি মর্মে আজ মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট এ আবেদন খারিজ করে দেন। এর ফলে বন্দি থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না বাদল ফরাজী। বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় বর্তমানে তিনি ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক আছেন।

আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাসুদ হাসান চৌধুরী পরাগ।

এর আগে গত ৮ জুলাই হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন দাখিল করা হয়। ব্যারিস্টার হুমায়ুন কবির পল্লব ও ব্যারিস্টার কাউছার ওই রিট দায়ের করেন।

রিট আবেদনে বাদল ফরাজীকে জেল খানায় আটক রাখা কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না, মর্মে রুল জারির আবেদন জানানো হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব, আইন মন্ত্রণালয় সচিব ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সচিব এবং আইজি প্রিজনকে রিটে বিবাদী করা হয়।

ব্যারিস্টার আইনজীবী হুমায়ন কবির পল্লব বলেন, বাদল ফরাজী আর ভারতের ওই মামলার অভিযুক্ত ব্যক্তি একই নয়। তার নাম ছিল বাদল সিং। ওই হত্যাকাণ্ডের সময় বাদল ফরাজি ভারতে ছিল না। তখন তিনি বাংলাদেশে ছিলেন। তিনি নির্দোষ। তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে। নির্দোষ ব্যক্তিকে কেন কারাগারে রাখা হবে এই মর্মে রিট দায়ের করেছিলাম। আজ সেই রিটের শুনানি হয়েছে। কাল এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ঠিক করেছেন আদালত।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ৬ মে দিল্লির অমর কলোনির এক বৃদ্ধাকে হত্যার ঘটনায় দিল্লির পুলিশ বাদল সিং নামে এক ব্যক্তিকে খুঁজছিল। এ অবস্থায় ওই বছরের ১৩ জুলাই ট্যুরিস্ট ভিসায় বেনাপোল সীমান্ত পার হওয়ার পরপরই ওই বৃদ্ধা হত্যা মামলায় বাদল ফরাজীকে গ্রেপ্তার করে ভারতের পুলিশ। বাদল সিং মনে করে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে বিচার শেষে তাকে ওই মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর থেকে তিনি ভারতের বিহার কারাগারে সাজা ভোগ করছিলেন।

পরে ভারতীয় একটি বেসরকারি সংস্থা বাদল ফরাজীর ঘটনা জানতে পেরে তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। তারা ঢাকার পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সরকার ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করে বন্দী বিনিময় চুক্তির আওতায় বাদল ফরাজীকে ৬ জুলাই দেশে ফেরত আনা হয়। এরপর তাকে কেরানীগঞ্জে অবস্থিত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়।

Bootstrap Image Preview