সম্পূর্ণ বাঙালি হয়েও রবীন্দ্রনাথ ছিলেন একজন আধুনিক বিশ্ব নাগরিক: আতিউর রহমান

প্রকাশঃ মে ৯, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

টিএসসিতে রবীন্দ্রনাথের ১৫৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আয়োজিত আলোচনা সভায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. আতিউর রহমান বলেন, শিলাইদহ বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের শিল্পকর্ম ও কৃষক হিতৈষী উদ্যোগসমূহের এক অবিস্মরণীয় তীর্থকেন্দ্র। ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের সভাপতিরত্ত্ব  এ আয়োজনে আরো উপস্থিত ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ।

আতিউর রহমান আরও বলেন, যে পূর্ব বঙ্গের গ্রামীণ জীবনের, বিশেষ করে নদী পারের মানুষগুলোর বহুবিচিত্র ও সংঘাতময় রূপ রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টিশীল কর্মকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছিল। এ অঞ্চলের মনোমুগ্ধকর প্রকৃতির সৌন্দর্য যে কবি আকণ্ঠ পান করেছেন তা তার সাহিত্য, বিশেষ করে ছোটগল্প ও ছিন্নপত্রের চিঠিগুলোতে বেশ স্পষ্টভাবেই ধরা পড়েছে। ‘পদ্মা’ নামের বোটে বসে নদীর পারে আসা নারীদের দুঃখ ও বঞ্ছনার যেসব কথা শুনেছেন সেসবের হৃদয়স্পর্শী বিবরণ তিনি তার ছোটগল্প, কবিতা ও চিঠিতে তুলে ধরেছেন। শিল্প সৃষ্টির পাশাপাশি তিনি তার প্রজাদের দুঃখ কষ্ট মোচনের লক্ষ্যে নানা উদ্ভাবনশীল উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষির আধুনিকায়ন, সমবায়, কৃষি ব্যাংক, বাজারজাতকরণসহ নানামুখী উদ্যোগ তিনি এই শিলাইদহ ও তার আশেপাশে নিয়েছিলেন।

তাই তিনি এক পত্রে লিখেছিলেন, “আমার দরিদ্র চাষী প্রজাগুলোকে দেখলে আমার ভারি মায়া করে-এরা যেন বিধাতার শিশুসন্তানের মতো নিরুপায়।” আর সেজন্যেই একজন ট্রাস্টির মতো তিনি তাদের ভাগ্যোন্নয়নের অংশ হিসেবে আত্মশক্তিতে বলিয়ান করার নানা পথের সন্ধান করেছেন। সর্বজীবে দয়া, সবার জন্য প্রেম ও প্রীতির মায়াডোরে তিনি বাঙালিকে বাঁধার চেষ্টা করেছেন। সম্পূর্ণ বাঙালি হয়েও তিনি ছিলেন একজন আধুনিক বিশ্ব নাগরিক।

কমেন্টস