কথাসাহিত্যিক শওকত আলী আর নেই

প্রকাশঃ জানুয়ারি ২৫, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক শওকত আলী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।

শওকত আলীর ছেলে আসিফ শওকত বলেন, বাবার শরীরে সোডিয়ামের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল। এতে তার জ্ঞান ফিরছিল না। চিকিৎসকরা আজ ভোর ৫টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে রেখেছিলেন। সেখানে মারা যান তিনি।

গত ৪ জানুয়ারি ফুসফুসের সংক্রমণে আক্রান্ত হলে শওকত আলীকে ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ৬ জানুয়ারি তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউতে) নেয়া হয়।

এদিকে কথাসাহিত্যিক শওকত আলীর মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ভিড় করেন তার স্বজন, শুভানুধ্যায়ী এবং কবি-সাহিত্যিকরা।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, আজ বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত শওকত আলীর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে

শওকত আলী ১৯৩৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। সারাজীবন শিক্ষকতা করে পার করেছেন তিনি। চাকরি থেকে অবসর নেন সরকারি সঙ্গীত কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে। শিক্ষকতা থেকে অবসর নিয়ে রাজধানীর হাটখোলায় নিজ বাসভবনে নিভৃত জীবনযাপন করেন তিনি।

বাঙালি সমাজব্যবস্থার ক্রমপরিবর্তন নিয়ে যে কজন লেখক কাজ করেছেন, শওকত আলী তাদের মধ্যে অন্যতম। বিভিন্ন দশকে বাঙালি মধ্যবিত্তের চিন্তাধারার পরিবর্তনও উঠে এসেছে তার লেখনীতে। একাধারে লেখক, সাংবাদিক ও শিক্ষক শওকত আলী রেখে গেছেন প্রদোষে প্রাকৃতজন, দক্ষিণায়নের দিন আর পূর্বরাত্রি পূর্বদিনের মতো কালজয়ী উপন্যাস।

শওকত আলীর কর্মজীবন শুরু ১৯৫৫ সালে দৈনিক মিল্লাতে সাংবাদিক হিসেবে। ১৯৫৮ সালে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন দিনজাপুরের একটি স্কুলে। ১৯৬২ সালে জগন্নাথ কলেজে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন শওকত আলী। এর আগে বিভিন্ন পত্রিকা, ম্যাগাজিনে লেখালেখি চালালেও ঢাকায় আসার পর লেখালেখির প্রসার ঘটে তার। ১৯৬৩ সালে প্রকাশিত হয় তার প্রথম উপন্যাস ‘পিঙ্গল আকাশ’।

স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশে খ্যাতির চূড়ায় উঠেন শওকত আলী। ১৯৮৪ সালে প্রকাশিত হয় তার বিখ্যাত উপন্যাস প্রদোষে প্রাকৃতজন। উপন্যাসত্রয়ী দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত এবং পূর্বরাত্রি পূর্বদিনের জন্য শওকত আলী পেয়েছেন ফিলিপস সাহিত্য পুরস্কার। তার এসব উপন্যাসে মূলত ষাটের দশকে বাঙালি মধ্যবিত্ত এবং সমাজব্যবস্থায় ধ্যান-ধারণা, চিন্তা ও জীবনযাপনে পরিবর্তনের ধারা উঠে এসেছে।

সাহিত্যে অসাধারণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৬৮ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার পান শওকত আলী। ১৯৯০ সালে ভূষিত হন একুশে পদকে। বিংশ শতাব্দীতে বাংলা ভাষাভাষি লেখকদের মধ্যে শওকত আলী ছিলেন অন্যতম।

কথাসাহিত্যিক শওকত আলী ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত সাহিত্যের বাচিক চর্চা ও প্রসার প্রতিষ্ঠান কণ্ঠশীলনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

কমেন্টস