এসব নেতার কারণেই কি বিএনপির ব্যর্থতা!

প্রকাশঃ জানুয়ারি ২২, ২০১৮

আসাদুল্লা লায়ন-

প্রায় এক দশকেরও বেশী সময় ধরে ক্ষমতার বাহিরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির আন্দোলন সংগ্রামে ব্যর্থতার পেছনে অনেক গল্পই শুনা যায়। তবে বিএনপির জার্মান কমিটির সাধারণ সম্পাদক দাবি করা মাসুদ রেজার মতো চরিত্রটি দলটির ব্যর্থতার গল্প নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেয়। কেননা তিনি বিএনপির সিনিয়র নেতা, আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তদের সাথে তার ঘনিষ্ঠতা সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ করা গেছে। বিএনপির জার্মান কমিটির ৯১তম সদস্য হিসেবে তার এই ঘনিষ্ঠতা রাজনৈতিকভাবে যেমন ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে তেমনি দলের ব্যর্থতার কারণ আনয়ন করে।

১৯৮৬ সাল থেকে জার্মান থাকা এই নেতা প্রায়ই ঢাকায় আসেন, গেলো ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে তিনি এক সপ্তাহের সফরে ঢাকায় আসেন বলে জার্মান বিএনপি সূত্রে যানা যায়। এসব বিষয় নিয়ে ২৮ ডিসেম্বর জার্মান বিএনপির মাধ্যমে তার সাক্ষাত চাইলে তিনি তা বরাবরই এড়িয়ে যান।

এর পর জার্মান শাখা বিএনপির একটি প্রতিনিধি দলসহ তিনি বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সাক্ষাত করেন, এর পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী আহমেদ ও খায়রুল কবীর খোকনসহ বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথে বিভিন্ন সময় সাক্ষাত করেন।

পরে ১০ জানুয়ারী রাতে তার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল বিএনপি চেয়ারপাসনের গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে যান। এসময় বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সাথে সাক্ষাত করেন। এতে প্রবাসে জার্মান বিএনপির কর্মকাণ্ড ও দৃশ্যমান সফলতা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যায়।

দলীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দলকে শক্তিশালি করতে এসব সাক্ষাত অতুলনীয়। কিন্ত অন্যদিকে ব্যক্তিগতভাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী শাহজাহান খান, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, পুলিশের আইজিপি এ কে এম শহীদুল হকসহ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ লোকজনের সাথে তার সাক্ষাতকালীন ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লক্ষ করা গেছে। যা তার বিরোধী দলের নেতা হিসেবে অসামঞ্জস্যতা কিংবা ভিন্ন দিকে ইঙ্গিত করে। অবশ্য পরবর্তীতে তার প্রোফাইলসহ ‘বিএনপি সমর্থক (গোষ্ঠী জার্মান)’ নামক ফেসবুক গ্রুপেসহ অন্যান্য আইডিতে আর দেখা যায়নি।

মাসুদ রেজা দুই যুগ ধরে বিএনপির জার্মানি শাখার সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন বলে দাবি করেন। কিন্ত তালিকায় দেখা গেলো জার্মান শাখা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন আব্দুল গনি সরকার।

জানতে চাইলে প্রবাসী বিএনপির এক নেতা বিডিমর্নিংকে বলেন, মাসুদ রেজা অনেক বছর যাবৎ জার্মানে থাকেন। তিনি নিজেকে জার্মান বিএনপির সভাপতি হিসেবে দাবি করলেও তিনি শুধুমাত্র কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে আছেন। সম্প্রতি ঢাকায় বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ প্রশাসনের সাথে তার ঘনিষ্টতা নিয়ে অভিযোগ করেন।

মাসুদ রেজার বিষয়ে তারা লন্ডনে অভিযোগ করা হয়েছে জানিয়ে জার্মান শাখা বিএনপির সভাপতি আকুল মিয়া বলেন, তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পথ খুঁজছেন। মাসুদ রেজার সবই ভুয়া। মাসুদ রেজা কখনো জার্মানি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন না। তিনি সরকারি দলের লোকদেরও খুশি রাখতে চাইছেন। সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করছে।

জানতে চাইলে জার্মানে অবস্থানরত মাসুদ রেজা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বিডিমর্নিংকে বলেন, ‘কারা এসব অভিযোগ করছে তা জানিনা আমি ফোনে এ বিষয়ে কথা বলবো না। আপনি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে জানুন।’

বিএনপির প্যাডে জার্মান বিএনপির কমিটির তালিকায় ৯১তম কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে তার নাম আছে বললে তিনি জবাবে বলেন, ‘এই তালিকা আপনাকে কে দিয়েছে জানিনা তবে আমি জার্মান বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেই তালিকা জার্মানের আদালতে এ্যাপ্রোভ(অনুমোদন) করা আছে’।

কমেন্টস