পটুয়াখালীতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৬গুন বেশি জমিতে বোরো ধান চাষ

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৭, ২০১৮

জাহিদ রিপন, পটুয়াখালী প্রতিনিধিঃ

তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশা উপেক্ষা করে বোরো আবাদে মাঠে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন পটুয়াখালীর কৃষকরা। চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৬ গুন বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ হচ্ছে । চলতি বছর আমন ধানের ভালো দাম পাওযায় চাষীরা এবছর বোরো মৌসুমে বোরো ধান চাষে ঝুকে পড়েছে। শীতের তীব্রতাকে উপেক্ষা করে দিন-রাত জমিতে সেচ দেয়া, চাষ দেয়া, আদর্শ বীজতলা তৈরি এবং চারা তুলে রোপন কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। কোন প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে চলতি বোর মৌসুমে ধানের বাম্পার ফলন ও ভালো দাম আশা করছেন চাষীরা।

জেলার প্রতিটি উপজেলার সকল ইউনিয়নেই কম-বেশি বোরো ধানের চাষ হচ্ছে। বিগত কয়েক বছর ধরে বোরো ধানের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় স্থানীয় চাষীরা বোরো চাষে আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। কিন্তু চলতি বছর আমন ধানের ভাল দাম পাওয়ায়, চলতি বোর মৌসুমে চাষীরা আবার বোরো ধান চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কুমিরমারা গ্রামের কৃষক সাইফুল বলেন, চলতি বছর আমন ধানের ভালো দাম পেয়েছি। সে কারণেই বোরো ধান চাষ করছি। আশা করি বোরো ধানের ধানের ভালো দাম পাব। তবে ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাসে কারনে বীজতলার অনেক চারা হলুদ আকার ধারন করেছে। ধানের ন্যায্যমূল্য পেলে চাষীরা আগামীতে আরও বেশি বেশি বোরো ধান আবাদ করবে।

কৃষি অফিস সূত্র জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৬ গুন বেশি জমিতে বোরো ধানের চাষ হচ্ছে।কৃষি অফিস থেকে বোরো ধান আবাদে লক্ষ্যমাত্র অর্জনের জন্য কৃষকদের আদর্শ চারা উৎপাদন, পোকা ও ইদুর দমনে পাচিং পদ্বতিসহ সব ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেয়া হচ্ছে। এতে চাষীরা কাঙ্গিত ফলন পাবেন এবং কৃষক লাভবান হবে এমন অশাবাদ কৃষি অফিসের। চলতি বছর উপজেলা প্রায় ৭৫শতাংশ কৃষক আদর্শ বীজতলার মাধ্যমে চারা উৎপাদন করে বোরো ধানের আবাদ করেছে বলে জানান তারা।

সরজমিনে দেখা গেছে, আদর্শ বীজতলা থেকে চারা তুলে মাঠে বোরো ধানের বীজ বপন করছে চাষীরা। আদর্শ বীজ তলার মাধ্যমে সুস্থ সবল চারা উৎপাদন করে কৃষকেরা এখন বোরো ধান রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এই বীজতলায় ২টা বা ৩টি চারা রোপণ করেই সর্বোচ্চ ফলন পাওয়া যায়। ফলে কৃষক কম খরচে অধিক লাভবান হবে।

কলাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান জানান, বিগত বছর চেয়ে এ বছরে কৃষকরা আমন ধানের ভালো দাম পেয়েছে। তাই তারা বোরো আবাদে ঝুঁকে পড়ছে। কোন প্রকার প্রাকৃতিক বিপর্যয় না ঘটলে ধানের বাম্পার ফলন।

কমেন্টস