কাপড় নয়, ঘর নয়, রোহিঙ্গা শিশুদের দরকার খাদ্য

প্রকাশঃ সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৭

এস এম সুজাউদ্দিনঃ

মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশই শিশু। তাদের মধ্যে কারও বয়স আবার ৮-৯ মাস।  কারও বয়স২-৩ বছর তবে বেশির ভার শিশুর বয়স ৫ থেকে ১০ ঘরে। সবার পেটেই রাজ্যের ক্ষুধা। ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে কেউ ভিক্ষা করছে আবার কেউ উচ্চস্বরে কান্না করছে। রোহিঙ্গাদের জন্য দেওয়া ত্রাণ-সামগ্রীতে  শিশুদের  কোনও খাবার না থাকায়  মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা পরিবারের শিশুদের খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। 

এখন কাপড় নয়, ঘর নয় এসব রোহিঙ্গা শিশুদের দরকার খাদ্য। রোদে-বৃষ্টিতে ভিজে এরই মধ্যে জ্বর-সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত এসব শিশু ঠিকমতো খেতে না পাওয়ায় অপুষ্টিতে ভুগছে এসব শিশু। পাহাড়, বন-জঙ্গল ও নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে আসা এসব শিশুদের ধকল কাটছে না কোনওভাবেই। প্রতিটি পরিবারে গড়ে অন্তত ৪-৫টি শিশু রয়েছে। এদের অনেকেই ঠাণ্ডাজনিত রোগে ভুগছে। উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী ঢাল, পালং খালী এবং টেকনাফের উনছি প্রাং ও মোছনি পাড়া এলাকার নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্পের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তি ও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। বর্তমানে শিশুরা খাদ্য সংকট ও আবাসের অভাবে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

এদিকে মিয়ানমারের রাখাইনে সহিংসতার মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা তিন লাখ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে বলে ধারণা করছেন জাতিসংঘ কর্মকর্তারা। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মুখপাত্র ভিভিয়ান তানকে উদ্ধৃত করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য জানিয়েছে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী এবং স্বেচ্ছাসেবক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, পুষ্টিকর শিশু খাদ্যের অভাব, সঠিক যত্নের অভাবে, খোলা আকাশের নিচে থাকায় ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা।

কমেন্টস