চট্টগ্রামে “হায় মুজিব, হায় মুজিব” মাতন ধ্বনি উচ্চারণকারীদের বিরুদ্বে মামলা দায়ের

প্রকাশঃ আগস্ট ২৮, ২০১৭

মো. রায়হান ওয়াজেদ চৌধুরী

১২ ই আগস্টে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে “হায় মুজিব, হায় মুজিব” মাতম ধ্বনি উচ্চারণকারীদের বিরুদ্বে ফৌজদারী অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেছে মো: মহিউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি। চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম  দ্বিতীয় আদালতে দণ্ডবিধির ২৯৫ক/ ২৯৮/৩৪ ধারাত এই মামলা করা হয়েছে। বিচারক আবু নোমান শুনানী শেষে মামলটি ডিবিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

মামলার অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, নগরীর ৩৭ নং বন্দর থানার বাসিন্দা মৃত আলী আকবরের পুত্র হাজী ইকবাল আলী আকবর, মুরাদ আলী আকবর, মৃত মোমিনুল হকের পুত্র মো: হারুন এবং হালিশহর ২৭ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মামুনর রশিদকে এই মামলায় আসামি করা হয়েছে। অভিযোগকারী মহিউদ্দিন একজন মুসলিম ও ধর্ম পরায়ন ব্যক্তি হিসাবে বিস্মিত ও গভীরভাবে ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীরভাবে মর্মাহত হয়ে এই মামলা দায়ের করে।

মামলার আরজিতে আরও বলা হয়। ৬৮০ খ্রিস্টাব্দে হিজরী মাসের ১০ই মহরমে মহানবী হজরত মোহাম্মদ স. এর দৌহিত্র হযরত ঈমাম হোসেন (রা.) কারবালার মাঠে ইয়াজিদ বাহিনীর আক্রমণে মর্মান্তিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। কারবালার সেই মর্মাহত দিনকে সারা বিশ্বের মুসলিম সমাজ হাজার বছর ধরে গুরুত্বের সাথে স্মরণ করে আসছে। সেই শোকাহত দিনকে স্মরণ করে প্রতি বছর মিলাদ মাহফিলসহ তাজিয়া মিছিলে “হায় হোসেন, হায় হোসেন” বলিয়া মাতম ধ্বনি এবং নিজ হাতে নিজ পিঠে দোররা দ্বারা আঘাত করার মাধ্যমে স্মরণ করে। একই প্রকৃতিতে মালার আসামিগণ ১২ ই আগস্টে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনিদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবিতে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে এক যোগে “হায় মুজিব, হায় মুজিব” মাতম ধ্বনি উচ্চারণ করে তাদের নিজেদের শরীরে আঘাত করিবার অঙ্গভঙ্গি প্রকাশ করে। যা দেশের বিভিন্নমিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেমে প্রকাশ হয়। এই ধরণের উদ্দেশ্যমূলকভাবে কর্মকাণ্ড হযরত ঈমাম হোসেন (রা.) এর প্রতি মুসলিম ধর্মাবলম্বী শোকাহত মানুষের এবং বাদীর ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত প্রদান করে।

মামলার শুনানীতে অংশ নেয়া বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী এই প্রতিবেদক জানান, “আমরা সবাই জানি মহানবী হজরত মোহাম্মদ (স.) এর দৌহিত্র হযরত ঈমাম হোসেন (রা.) কারবালার মাঠে ইয়াজিদ বাহিনীর আক্রমণে মর্মান্তিকভাবে শহীদ হয়েছিলেন। কারবালার সেই মর্মাহত দিনকে মুসলমানরা শ্রদ্বার সাথে নানা আয়োজনে স্মরণ ও ইবাদত বান্দেগী দোয়া করেন। মুসলমানদের একটি সম্প্রদায়ের অনুসারীরা হাজার বছর ধরে আবেগের সাথে তাজিয়া মিছিল এবং “হায় হোসেন, হায় হোসেন” ধ্বনিতে স্মরণ করার মাধ্যমে পালন করে দিনটি। একই কায়দায় কিছুদিন আগে অন্য একটি হত্যাকাণ্ডকে স্মরণ ও বিচার দাবি করে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে একটি মানববন্ধনে। যা একজন ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের বিশেষ করে আবেগের জায়গায় আঘাত হেনেছে। যার কারণে ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীরভাবে আঘাত হানার অভিযোগে আজকে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।”

মামলার অপর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহমুদুল হাসান জানান, আসামিরা সুস্থ মস্তিষ্কে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্য জনপথে এবং জনসমাগমের ইচ্ছাকৃতভাবে এই ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অঙ্গভঙ্গি করে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের অনুভূতিতে আঘাত দিয়েছেন। আদালত শুনানী শেষে মামলাটি তদন্ত করার জন্য ডিবিকে নির্দেশ দিয়ে এক মাসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলেছেন।

কমেন্টস