‘আমরা সালমান শাহকে হত্যা করেছি’ ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে রিজভীর স্বীকারোক্তি

প্রকাশঃ আগস্ট ১৩, ২০১৭

Advertisement

বিডিমর্নিং বিনোদন ডেস্ক-

ধীরে ধীরে আশার আলো দেখছে অমর নায়ক সালমান শাহের মৃত্যুরহস্য। কিনারা করতে অপারগ প্রশাসন ২১ বছরের যা পারেনি সেটি বেরিয়ে আসছে আসামি রুবির ভিডিও প্রকাশের পর।সালমান শাহ’র মৃত্যুর ২১ বছর পর তার বাবার দায়ের করা মামলার অন্যতম আসামি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী রাবেয়া সুলতানা রুবির দেয়া এক ভিডিও বার্তায় নায়কের মৃত্যু নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

গত সোমবার ফেসবুকে দেয়া প্রথম ভিডিও বার্তায় রুবি দাবি করেন, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেনি, তাকে খুন করা হয়েছিল। আমার স্বামী তার খুনের সঙ্গে জড়িত। এটা সামিরার (সালমান শাহ’র স্ত্রী) ফ্যামিলি করাইছে আমার হাজবেন্ডকে দিয়ে, সবাইরে দিয়ে, সব চাইনিজ মানুষ ছিল। সালমান শাহ আত্মহত্যা করে নাই, সালমান শাহ খুন হইছে। এই খুনের বিষয়ে আমি সব জানি। যেভাবেই হোক আবার যেন মামলা তদন্তের ব্যবস্থা করা হয়। আমি যেমন করেই হোক আদালতে সাক্ষী দেব। এই ভিডিও ফেসবুকে দেয়ার দুইদিন পর বুধবার সকালে আরেকটি ভিডিও দেন রুবি।

যেখানে আগের ভিডিওতে দেয়া বক্তব্য থেকে সরে আসেন রুবি। রুবি দ্বিতীয় ভিডিও বার্তায় বলেন, আমি বলব না যে এটা আত্মহত্যা বা হত্যা। এটা আমার বলা উচিত না। আমি আগেরবার যেটা বলেছি ভিডিওতে সেটাতে আমার ভুল (রং) ছিল। আমি ইমোশনাল ছিলাম বেশি, যার জন্য আমি বলেছিলাম হত্যা। হত্যা নাকি আত্মহত্যা এটা সামিরা এবং তার বাবাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বের হবে।

ঠিক ২০ বছর আগে ১৯৯৭ সালের ১৯ জুলাই সালমানের বাবার ডিওএইচএস এর বাসায় রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ নামের এক যুবক হাজির হন।পরে সালমানের বাবা রিজভীকে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এর ঠিক তিন দিন পর রিজভী আদালতে স্বেচ্ছায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

রেকর্ড করা সেই জবানবন্দীতে রিজভী বলেন, সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ ভাই এসে সালমানের পা বাঁধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে। এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝোলায়। সালমানকে হত্যা করতে ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে সামিরার মা লাতিফা হক ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন।

চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।আদালতে স্বীকারোক্তি দিলেও পরবর্তীতে যখন তদন্তকারী কর্মকর্তা রিজভীকে জেলখানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন সে জানায় যে সালমান শাহ হত্যা বিষয়ে সে কিছুই জানে না। রিজভী এখন কোথায় আছে কেমন আছে কেউ বলতে পারছে না।সম্প্রতি রিজভীর দেয়া এই জবানবন্দি ভাইরাল হয়েছে।

এদিকে আজ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের এক গণমাধ্যমে এক সাক্ষাৎকারে  রাবেয়া সুলতানা রুবি বলেছেন,আমাকে মানসিক রোগী হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা চলছে কিন্তু প্রমাণ করে দেখাক তো। আমাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে হত্যা করা হবে। আমাকে মেরে ফেলা হবে, তারপর বলা হবে আমি সুইসাইড করেছি। আর জীবন রক্ষার জন্য আমি পূর্বের বক্তব্য প্রত্যাহার করে পরের ভিডিওগুলো করি। মৃত্যুর আশঙ্কায় আমি স্বামীর বাসা ছেড়েছি।

রুবির ভাষ্যমতে, ‘স্বামীর বাসা ফিলাডেলফিয়াতে তিনি আর ফিরবেন না, সেখানে এখন আর তার নিরাপত্তা নেই। গেলেই মেরে ফেলতে পারে। তিনি জানান শিখা নামের একজন নিউ ইয়র্কে তাকে আশ্রয় দিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ফিলাডেলফিয়াতে আমাকে আইসোলেটেড করে রাখা হয়েছিল মানসিক ভারসাম্যহীন করে রাখা হয়েছিল। আমি ডিপ্রেশনে ছিলাম ২০১১ সাল পর্যন্ত, কিন্তু কখনোই মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলাম না।

এজন্যই গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে রুবি প্রথম দেওয়া ভিডিওর মতোই ফের হত্যা সম্পর্কিত কথাগুলো বলেন।

অসংখ্য ভিডিও দিয়ে কেন বিভ্রান্ত করলেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমি স্বামীর চাপে পড়েই সেসব কথা বলি। আমি প্রথম ভিডিও দেওয়ার পরে আমাকে বাসায় নিয়ে যায় আমার স্বামী। পরে তিনি আমাকে বলে আরেকটা ভিডিওতে বলে দিতে ‘তুমি মানসিক ভারসাম্যহীন,’ যা বলেছ ভুল বলেছে। কিন্তু এরপর বুঝি সত্যিই তারা আমাকে মানসিক ভারসাম্যহীন প্ল্যান করছে। এমনকী মেরে ফেলার চিন্তাও করছে। কিন্তু যে বাসা ছেড়েছি, সে বাসায় ফিরবো না। ওখানে আমার মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে, আমাকে মেরে ফেলা হতে পারে।

তিনি নিরাপত্তা পেলে বাংলাদেশের তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলবেন। এ বিষয়ে রুবি বলেন, আমি ৮ নম্বর আসামি আমি জানি না আমাকে কীভাবে ফাঁসানো হবে। যে দেশে ২১ বছরেও একটি হত্যার বিচার হয় না, সেখানে গিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগবো এটাই স্বাভাবিক। তবে পুরো নিরাপত্তা পেলে আমি তদন্ত কর্মকর্তাদের সাথে যা জানি শুরু থেকে সব বলবো।

সম্প্রতি ফেসবুক দেয়া ভিডিও বার্তা সম্পর্কে রুবি বলেন, আমি এতোদিন যা জানতাম তা পরিস্কার নয়। তবে এবার আমার ছেলের কাছ থেকে শুনে ক্লিয়ার হয়েছি। আমি তখন বলতে চেয়েছিলাম হত্যার সম্ভাবনা রয়েছে কিন্তু আমি বলেছি হত্যা। তবে সমস্ত কিছু চিন্তা করেই আমার মনে হচ্ছে এটা হত্যাকাণ্ড।

সামিরা কেন সামনে আসে না। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি সামিরার পরিবারের অনেক ঘটনা জানি।

সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পুলিশকে জানান তার স্ত্রী সামিরা। কিন্তু সালমান শাহের পরিবার একে হত্যা বলে আসছিল। সালমান শাহের মৃত্যুর পর তার বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী একটি অপমৃত্যু মামলা করেন। বিভিন্ন সংস্থা এ মামলার তদন্ত করেছে। ওই সময় সালমানের মা নীলা চৌধুরী আদালতে পিটিশন দায়ের করে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে বলেন, তারা হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এ নিয়ে আলাদা কোনো মামলা হয়নি।

তবে গত দুই দশকেও এ মামলার রহস্য উদঘাটন হয়নি। পুলিশ দুই দফা ময়নাতদন্ত করে একে আত্মহত্যাই বলেছিল। কিন্তু নারাজি দিয়েছে সালমান শাহের পরিবার। মামলাটির বিচার বিভাগীয় তদন্তও হয়েছিল। এখন মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন পিবিআইয়ে রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

কমেন্টস