নাঈমের সঙ্গে সেলফি নয়,নিশোকে বরখাস্তের আসল কারণ প্রকাশ

প্রকাশঃ মে ১৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

১৭ মে জনপ্রিয় সংবাদ উপস্থাপিকা ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ফারহানা নিশোকে বেসরকারি টিভি চ্যানেল একুশে টিভি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।ফারহানা নিশো একুশে টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রধানের পদ দায়িত্বে ছিলেন। কর্তৃপক্ষের আদেশক্রমে গত তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।ঠিক কী কারণে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি তখনও।এ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা গুঞ্জন। পুরো বিষয়টি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। কারণ জানতে না পারলেও অনেকেই ধারণা করছেন ধর্ষণ মামলার আসামী নাঈম আশরাফের সাথে তোলা সেলফির কারণেই হয়ত চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে তাকে।

এ নিয়ে গত দু’দিন ফারহানা নিশো, চ্যানেলটির সিইও মনজুরুল আহসান বুলবুল এবং মানবসম্পদ বিভাগের কাছে বরখাস্তের ‘আসল কারণ’ জানতে চেয়েও উত্তর পাওয়া যায়নি।

এদিকে নিশোকে বরখাস্তের কারণ হিসেবে দু’দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে উঠে এসেছে নানা তথ্য। যার একটি রাজধানীর বনানীতে ছাত্রী ধর্ষণের অন্যতম আসামি নাঈম আশরাফের সঙ্গে ফারহানা নিশোর বেশ কিছু সেলফি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মিডিয়ার অনেকেই।

তবে ১৭ মে ফারহানা নিশোকে পাঠানো বরখাস্ত পত্রে তিনটি কারণ উল্লেখ করেছে একুশে টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ। চ্যানেলটির মানবসম্পদ বিভাগ থেকে শুক্রবার (১৯ মে) হাতে আসা সেই বরখাস্ত পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে:

নিশোকে পাঠানো বরখাস্ত পত্রএকুশে টেলিভিশনের কোম্পানি সচিব ও মানবসম্পদ প্রধান মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত বরখাস্তপত্রে নিশোকে জানানো হয়েছে, ‘আপনি একুশে টেলিভিশন লিমিটেড-এর অনুষ্ঠান বিভাগ প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব সম্পর্কিত কর্মকাণ্ড পর্যবেক্ষণ, পর্যালোচনা ও আত্মপক্ষ সমর্থনে আপনার প্রদত্ত বক্তব্য ও উপস্থাপিত নথিগুলো আমলে নিয়ে প্রমাণ পাওয়া যায় যে—

ক. আপনি আপনার নিয়োগপত্রের ১০ নং শর্ত ভঙ্গ করে অন্য ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত হয়েছেন এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রেখেছেন।

খ. আপনি প্রতিষ্ঠানের আর্থিকনীতি ও শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

গ. আপনি একুশে টেলিভিশন লিমিটেড-এর ব্যবসা সম্পর্কে প্রতারণা ও অসাধুতার আশ্রয় নিয়ে প্রতিষ্ঠানকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

উল্লিখিত অসদাচরণের দায়ে আপনাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হলো।

একই চিঠিতে একুশে কর্তৃপক্ষ নিশোর কাছে থাকা আইডি কার্ড, ভিজিটিং কার্ড, সিম, স্টিকার, গাড়ি ও অন্যান্য  সামগ্রী কোম্পানির নিয়ম ও বিধি অনুসারে ফেরত দেওয়ারও অনুরোধ জানায়।

এদিকে শুক্রবার (১৯ মে) এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে ফারহানা নিশোর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।

তবে ১৭ মে একুশে টেলিভিশনের মানবসম্পদ প্রধান মো. আতিকুর রহমান এ বিষয়ে বলেন, ‘দেখুন এটি আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এখানে অনেকেই আসবেন,  চলে যাবেন, এটিই তো স্বাভাবিক। এই বিষয়টি আলাদা করে বাইরে শেয়ার করার কারণ নেই।’

একই দিন এ বিষয়ে চ্যানেলটির সিইও ও প্রধান সম্পাদক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমার কোনও মন্তব্য নেই। যিনি (মানবসম্পদ প্রধান মো. আতিকুর রহমান) ওই বিজ্ঞপ্তি স্বাক্ষর করেছেন, তাকেই জিজ্ঞেস করুন।’

এদিকে, অনেক নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে গেল বছর (২০১৬) ফেব্রুয়ারিতে একুশে টেলিভিশনে যোগ দেন ফারহানা নিশো। তখনই তার যোগদান নিয়ে চ্যানেলকর্মীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব তৈরি হয়, যা প্রাকাশ্যে চলে এসেছিল।

একুশে টিভিতে অনুষ্ঠান প্রধান হিসেবে সহকর্মীদের সঙ্গে ফারহানা নিশোর প্রথম দিনপ্রসঙ্গত, উপস্থাপক, সংবাদ পাঠিকা ও বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে বেশ জনপ্রিয় ফারহানা নিশো। চ্যানেল ওয়ান ও বৈশাখী টিভির করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান হিসেবেও কাজ করেছেন দীর্ঘদিন।

২০০৩ সালে এনটিভিতে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু হলেও মাঝে গ্রামীণফোনের টেকনিক্যাল ডিভিশন ও ওয়ারিদ টেলিকমে প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট বিভাগেও কাজ করেন বেশ কিছুদিন।

কমেন্টস