যেভাবে গ্রেপ্তার হলেন বনানীর আলোচিত ধর্ষণ মামলার আসামি সাফাত-সাকিফ

প্রকাশঃ মে ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ক্রাইম ডেস্ক-

বনানীতে দুই তরুণীকে ধর্ষণ মামলার প্রধান দুই আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট নগরীর পাঠানটুলার রশিদ মঞ্জিলে আশ্রয় নেয়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মাসুম বিল্লাহ নির্দেশে মামুনুর ‘রশিদ মঞ্জিলে’ আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফ থাকার ব্যবস্থা করে দেয়।আসামিরা রশিদ মঞ্জিলের দ্বিতীয়তলার একটি কক্ষে অবস্থান করছিলেন।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে পুলিশ সদর দফতরের একটি বিশেষ টিম, সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের সহায়তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকার রশিদ মঞ্জিল ঘেরাও করে। এর কিছুক্ষণ পরই উপরে উঠে পুলিশ তাদের ধরে ফেলে।

সিলেট নগরীর পাঠানটুলা এলাকার রশিদ মঞ্জিলে পুলিশ সদর দফতরের একটি বিশেষ টিম, সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের সহায়তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘেরাও করে। এর কিছুক্ষণ পরই উপরে উঠে পুলিশ আসামি সাফাত আহমেদ ও সাদমান সাকিফকে গ্রেফতার করে।

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, তিন তলা ভবনের দ্বিতীয় তলা থেকে দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে নগরীর পাঠানটুলা এলাকার রশীদ মঞ্জিলে অভিযান চালায় ঢাকা থেকে আসা গোয়ান্দা পুলিশ, সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের একটি দল।

বাসাটির মালিক প্রবাসী। একজন কেয়ারটেকার বাসাটি দেখাশুনা করেন। গ্রেফতারের পরই ঢাকা থেকে আসা পুলিশ সদর দফতরের দলটি সাফাত ও সাকিফকে নিয়ে সড়ক পথে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

সূত্র জানিয়েছে, রশীদ মঞ্জিল বাসাটি গ্রেফতার হওয়া ঢাকার আপন জুয়েলার্সের মালিকের ছেলে সাফাত আহমদের আত্মীয়ের বাসা।তবে এ ব্যাপারে পুলিশের কাছে কোন তথ্য নেই বলে জানান জেদান আল মুসা। তিনি বলেন, বিষয়টি পরবর্তীতে ক্ষতিয়ে দেখা হবে।

এর আগে সাফাত ও তার সহযোগীরা সিলেটে অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে পুলিশ গোলাপগঞ্জ উপজেলায় সাফাতের নানা বাড়িতে এবং সিলামের রিজেন্ট পার্ক রিসোর্টে অভিযান চালায়। রিজেন্ট পার্ক রিসোর্টে সাফাতসহ চারজন রুম ভাড়া নিতে গেলে তাদের সঙ্গে পরিচয়পত্র না থাকায় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ রুম ভাড়া দিতে অপারগতা প্রকাশ করে।

সাফাত ও সাকিফ ছাড়া এ ঘটনার অন্য আসামিরা সিলেটে আত্মগোপন করে আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জেদান বলেন, এই মুহূর্তে এ ব্যাপারে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা খোঁজ খবর নিচ্ছি। যেহেতু মামলাটি ঢাকার বনানী থানায় তাই, গ্রেফতারকৃত আসামিদের সেখানে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর বাকি তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ বন্ধুর সঙ্গে জন্মদিনের অনুষ্ঠানে গিয়ে রাজধানীর এক হোটেলে ধর্ষণের শিকার হন দুই বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া তরুণী। ওই ঘটনায় গত ৬ মে রাজধানীর বনানী থানায় অভিযুক্ত সাফাত আহমেদ, নাঈম আশরাফ ও সাদমান সাকিফসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন দুই তারা।

Advertisement

কমেন্টস