সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদের ৩৮তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

প্রকাশঃ মার্চ ১৮, ২০১৭

ফারুক আহমাদ আরিফ-

উপমহাদেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদের ৩৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চের এই দিনে তিনি ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন।

লেখক, সাংবাদিক, সমাজ সংস্কারক, ভাষা আন্দোলনের উদ্যোক্তা, বাঙালি মুসলমানদের অধিকার আদায়ে আপোষহীন নেতা, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামী, মুক্তিযুদ্ধের অনুপ্রেরণাদাতা আবুল মনসুর আহমদ ১৮৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ধানিখোলায় জন্মগ্রহণ করেন।

 ১৯২০ সালে রাজনীতির পাঠ গ্রহণ করা তরুণ আবুল মনসুর আহমদ পরবর্তীকালে বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন পার করেছেন। ১৯৩০ সালে ‘নিখিল বঙ্গ প্রজা সমিতি’র ময়মনসিংহের সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। ১৯৪৪ সাল থেকে পাকিস্তান-আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। তিনি ছিলেন কৃষক-প্রজা পার্টির অন্যতম কর্ণধার, মুসলিম লীগের প্রচার সম্পাদক এবং আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা-নেতা। ১৯৪৬-এ মুসলিম লীগের প্রার্থী হিসেবে গণপরিষদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৫৩-১৯৫৮ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের ২১ দফার অন্যতম প্রণেতাও তিনি। ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের পক্ষ থেকে নির্বাচিত হয়ে প্রাদেশিক স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৬ সালে আতাউর রহমানের নেতৃত্বে আওয়ামী কোয়ালিশন মন্ত্রিসভায় শিক্ষামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সময়কালে পাকিস্তান কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা—সোহরাওয়ার্দীর মন্ত্রিসভার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব লাভ করেন।

রাজনীতি-সমাজ-সংস্কৃতি প্রভৃতি ক্ষেত্রে আবুল মনসুর আহমদের অবদান কালের পরিক্রমায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। চিন্তা ও বক্তব্য প্রকাশে তিনি ছিলেন অকুণ্ঠ-সাহসী।

১৯৪৯ সালে আবুল মনসুর আহমদ আওয়ামী মুসলিম লীগ দল প্রতিষ্ঠায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি ১৯৫৩ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল পর্যন্ত আওয়ামী মুসলিম লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী কর্মসূচি ২১-দফার অন্যতম প্রণেতা ছিলেন। তিনি ১৯৫৪ সালে যুক্তফ্রন্টের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৫৪ সালে তিনি ফজলুল হক মন্ত্রিসভায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হন।

আবুল মনসুর আহমদ ১৯৫৫ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে পূর্ববঙ্গ পরিষদের সদস্যদের ভোটে পাকিস্তান গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৫৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের যুক্তফ্রন্ট সরকারের শিামন্ত্রী এবং ১৯৫৬-৫৭ সালে বণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে আইয়ুব খান কর্তৃক সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর তিনি কারারুদ্ধ হন এবং ১৯৬২ সালে মুক্তি পান। এরপর তিনি রাজনৈতিক জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

আবুল মনসুর আহমদ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকলেও বিদ্রƒপাত্মক রচনার লেখক হিসেবেই তিনি সমধিক পরিচিত। তার বিখ্যাত বিদ্রুপাত্মক রচনা হচ্ছে : আয়না (১৯৩৬-১৯৩৭) ও ফুড কনফারেন্স (১৯৪৪)। তার রচিত উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে, সত্যমিথ্যা (১৯৫৩), জীবন ক্ষুধা (১৯৫৫) ও আবে-হায়াৎ (১৯৬৪)। আর স্মৃতিকথা, আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর (১৯৬৯), শের-ই-বাংলা থেকে বঙ্গবন্ধু (১৯৭২) এবং তার আত্মচরিত হলো আত্মকথা (১৯৭৮)।

সাহিত্যে অবদানের জন্য তাকে বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬০), স্বাধীনতা দিবস পদক (১৯৭৯) ও নাসিরউদ্দিন স্বর্ণপদকে ভূষিত করা হয়। ১৯৭৯ সালের ১৮ মার্চ আবুল মনসুর আহমদের মৃত্যু হয়।

কমেন্টস