সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী এখনো বই পায়নি

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১০, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-
এবার বই উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়েছে সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী। জানুয়ারি মাসের ৯ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বই পৌঁছেনি ৩০ উপজেলার ওই শিশু শিক্ষার্থীদের হাতে।

লক্ষ্মীপুর, বৃহত্তর নোয়াখালী ও চট্টগ্রামের বেশির ভাগ উপজেলার শিশুরা এমন পরিস্থিতির শিকার হলো। জানা গেছে, প্রাথমিকের বই ছাপাতে যা ব্যয় হয় তার মাত্র ৯ শতাংশ ঋণ হিসেবে দেয় বিশ্বব্যাংক। যা টাকার অঙ্কে মাত্র ২৬ কোটি। আর এ টাকা দিয়ে বিশ্বব্যাংক শর্তও জুড়ে দেয়। তাদের শর্ত মানতে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে বই ছাপতে হয়। এবার ভারতের মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠান ‘শেশা সাই’ শর্তের বরখেলাপ করে ওই প্রতিষ্ঠান এখনো ৪৭ লাখ বই বুঝিয়ে দেয়নি। ওই বই কবে আসবে তাও কেউ বলতে পারছে না। যদিও কাজ দেওয়ার আগে স্বয়ং জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক নারায়ণ চন্দ্র সাহা ওই প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেছিলেন। মাত্র ২৬ কোটি টাকা ঋণ দিয়ে বিশ্বব্যাংকের জন্য শর্ত এমন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামের ৩০টি উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিভিন্ন শ্রেণিতে কোথাও একটি, কোথাও দুটি বই বিতরণ করা হয়েছে।

এনসিটিবি সূত্র জানায়, ২০১৭ শিক্ষাবর্ষে ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি বই ছাপাতে ব্যয় হয় প্রায় এক হাজার ৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিকের ১০ কোটি ৫২ লাখ ৩৬ হাজার ৭৯৭টি বই ছাপাতে খরচ হচ্ছে প্রায় ২৯১ কোটি টাকা। কিন্তু প্রাথমিকের বই ছাপাতে মোট ব্যয়ের ৯ শতাংশ দেয় বিশ্বব্যাংক। তাদের মাত্র ২৬ কোটি টাকার ঋণের জন্য প্রাথমিকের বই ছাপাতে হয় আন্তর্জাতিক টেন্ডারে। এবার আন্তর্জাতিক টেন্ডারে কাজ পাওয়া ভারতের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ‘শেশা সাই’ ৫৯ লাখ ২১ হাজার ৪১৩টি বই ছাপার কাজ পায়। এর মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি মাত্র ১২ লাখ বই সরবরাহ করতে পেরেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাধ্যমিকের প্রায় ২৬ কোটি বই ছাপতে ব্যয় হচ্ছে ৮০০ কোটি টাকা। এই টাকার পুরোটাই সরকার দিচ্ছে। দেশিয় টেন্ডারে কাজও করছে দেশিয় প্রতিষ্ঠান। তারা সময়মতোই বই সরবরাহ করেছে। অথচ প্রাথমিকের মাত্র ১০ কোটি বই ছাপতে আন্তর্জাতিক টেন্ডারে যাওয়াটা যুক্তিসংগত নয়। বর্তমানে আমাদের কাগজশিল্প ও দেশিয় মুদ্রণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। তারা আন্তর্জাতিক মানের যেকোনো কাজ করতে সক্ষম। তাই এখন বিশ্বব্যাংককে বাদ দিয়ে নিজেদেরই বই ছাপা উচিত।

সূত্র জানায়, ২০০৯ সাল থেকে সব শিশুকে বিনা মূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে। তখন বিশ্বব্যাংকের সাহায্যপুষ্ট প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি—পিডিইপি-৩ থেকে প্রাথমিকের বই ছাপার জন্য ৯ শতাংশ অর্থ দেওয়ার শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়। গত ডিসেম্বরে পিডিইপি-৩ শেষ হয়েছে। এখন শুরু হচ্ছে পিডিইপি-৪। এতে আগের শর্ত বাদ দিলেই আর আন্তর্জাতিক টেন্ডারে যাওয়ার প্রয়োজন পড়বে না।

জানা যায়, বিশ্বব্যাংকের মাত্র ৯ শতাংশ টাকা নেওয়ার কারণে প্রতিবছরই টেন্ডারের আগে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়। তারা নানা শর্ত জুড়ে দেয়। ফলে প্রতিবছরই কার্যাদেশ দিতে দেরি হয়ে যায়। ২০১৫ সালে বিশ্বব্যাংকের নানা শর্তের কারণে বই উৎসব নিয়েই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। গত বছরও বিশ্বব্যাংকের নানা শর্ত মেটাতে গিয়ে কাজ শুরু করতে এক মাস দেরি হয়।

গত মাসে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদও রাজধানীর কয়েকটি ছাপাখানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিবছর বিনা মূল্যের এই বিপুল বই ছাপানোর জন্য দেশীয় মুদ্রণ শিল্পও মহীরুহ আকার ধারণ করেছে। হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়েছে।

বেগমগঞ্জ উপজেলার মুজাহিদপুর সরকারি প্রাইমারি বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক লিপিকা সুলতানা বলেন, ‘আমরা প্রথম শ্রেণির ইংরেজি, দ্বিতীয় শ্রেণির ইংরেজি, তৃতীয় শ্রেণির অঙ্ক, চতুর্থ শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্ব পরিচয় এবং পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক বিজ্ঞান বই পেয়েছি। বইয়ের অভাবে নিয়মিত পাঠদান করানো যাচ্ছে না।

এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন সিদ্দিকী জানান, সব বই না আসায় তাঁরা তা দিতে পারেননি। তাঁরা প্রয়োজনের মাত্র ৩০ শতাংশ বই পেয়েছেন।

 

Advertisement

কমেন্টস