রোকেয়া হলে সিট দখলে শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে ছাত্রলীগ

প্রকাশঃ মার্চ ১৭, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের পর রোকেয়া হলেও ‘সিট দখল করতে গিয়ে’ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে পড়েছে ছাত্রলীগ।

সংগঠনটির হল শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক গত কয়েক দিনে হলের অন্তত ১০টি কক্ষ দখল করে নিজেদের অনুসারীদের উঠিয়েছেন অভিযোগ করে সেগুলো দখলমুক্ত করতে বৃহস্পতিবার রাত থেকে দফায় দফায় বিক্ষোভ করছে শিক্ষার্থীরা।

এই পরিস্থিতিতে হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. নাজমা শাহীন ও আবাসিক শিক্ষকরা শুক্রবার সিটগুলো দখলমুক্ত করতে গিয়ে ছাত্রলীগের বাধার মুখে পড়েন। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ সময় সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর চড়াও হয় বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ছাত্রীদের নিয়ে প্রভোস্ট নতুন করে আলোচনায় বসেছেন বলে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের জন্য নির্মিত প্রথম এই হলের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, গত কয়েক দিনে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার ও সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী ইসলাম মিলে রুম দখল করছেন।

মূল ভবনের ৩, ৭, ২৩ ও ৪২ এবং বর্ধিত ভবনের ২১, ২৩, ২৪, ৫৩ ও ৮১ নম্বর কক্ষে তারা জোর করে নিজেদের অনুসারীদের তুলেছেন বলে আবাসিক শিক্ষার্থীদের অভিযোগ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, কেবল ওই ১০টি কক্ষ নয়, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা হলের আরও অনেক সিট ‘দখলে রেখেছেন’।

“সিট দখলের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হলের সাধারণ ছাত্রীরা বিক্ষোভ করে। পরে হল প্রভোস্ট ছাত্রলীগ ও সাধারণ ছাত্রীদের নিয়ে হল মিলনায়তনে আলোচনা করে ছাত্রলীগকে সাধারণ ছাত্রীদের কক্ষ ছেড়ে দিতে বলেন।

“আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে হল প্রভোস্ট এবং আবাসিক শিক্ষকরা ছাত্রলীগের দখল করা কক্ষগুলো থেকে তাদের ব্যাগ, তোষক ও জিনিসপত্র বের করে দিতে গেলে ছাত্রলীগ বিক্ষোভ শুরু করে। প্রভোস্ট প্রথমে তার অফিসে এবং পরে আবাসিক শিক্ষকদের কক্ষে আশ্রয় নেন ওই ছাত্রী।

সিট দখলের অভিযোগ অস্বীকার রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি লিপি আক্তার প্রতিবেদককে বলেন, বাম ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ করছে।

মূল ভবনের ৩০ নম্বর কক্ষে চেলসি নামে ছাত্রলীগের এক কর্মী তার কক্ষে একজন অতিথিকে নিয়ে গেলে ওই কক্ষে থাকা বাম সংগঠনের এক কর্মী খারাপ আচরণ করে এখন ছাত্রলীগের নামে ‘হল দখলের দোষ চাপাচ্ছে’ বলে অভিযোগ তার।

“রুমে গেস্ট রাখা না রাখা নিয়ে বাকবিতণ্ডার পর বাম ছাত্র ফেডারেশনের নেত্রী উম্মে হাবিবা বেনজির ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে হল দখলের অভিযোগ তোলে। পরে সে মেয়েদের নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামে বিক্ষোভ করে।”

ছাত্রলীগ হল দখলের রাজনীতি ‘করে না’ দাবি করে লিপি বলেন, “অনেকে ছাত্রলীগের মাধ্যমে হলে উঠে পরে আর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকে না। যদি সিট দখল হত, তাহলে অনেক রুমই দখল হয়ে যেত।”

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন প্রিন্স বলেন, বিষয়টি শুনেছি, বাম ছাত্রসংগঠনে নেত্রীরা হলের মধ্যে ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে ঝমেলা করার চেষ্টা করছে।

ছাত্রলীগের অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি উম্মে হাবিবা বেনজির বলেন, ছাত্রলীগ কর্মীরা কক্ষ দখলের ‘হুমকি দেওয়ায়’ সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্বতস্ফূর্তভাবে বিক্ষোভ করেছে।

ছাত্রলীগের কর্মী চেলসি ৩০ নম্বর কক্ষটি দখল নেওয়ার হুমকি দেয়, এ প্রেক্ষিতে হলের ছাত্রীরা বিক্ষোভ শুরু করে।

শুক্রবার সকালে হল প্রভোস্ট মূল ভবনের ২৩ নম্বর কক্ষটি খালি করতে গেলে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা সাধারণ ছাত্রীদের উপর ‘হামলা চালায়’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক এম আমজাদ আলী বলেন, রোকেয়া হলের সিট ঝামেলা নিয়ে গতকাল রাতে হল কর্তৃপক্ষ ছাত্রীদের সঙ্গে বসেছিল। বিস্তারিত জেনে পরে সিদ্ধান্ত নেব।

এর আগে গত সোমবার রাতে বিজয় একাত্তর হলের বিভিন্ন কক্ষে নিজেদের কর্মী তুলতে শিক্ষার্থীদের বাধা পেয়ে প্রাধ্যক্ষের কক্ষে ভাংচুর ও বিক্ষোভ করেন হল ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের অনুসারীরা। এক পর্যায়ে সংগঠনের নেতাদের কথায় বিক্ষোভ থেকে সরলেও পরে ইউএনবির বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি ইমরান হোসেনকে হলে মারধর করা হয়।

Advertisement

কমেন্টস