বাসায় কলগার্ল এনে বন্ধুদের নিয়ে আড্ডা দিতেন রনি

প্রকাশঃ জুন ১২, ২০১৮

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

তরুণীকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার আসামি রনির বিরুদ্ধে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য বের হয়ে আসেছে। এই মামলায় তিনদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে রনিকে।

ওই ঘটনার নির্যাতিত তরণী জানিয়েছেন, মুখে রুমাল বেঁধে গাড়িতে তরুণীকে ধর্ষণ করেছিল রনি। এ সময় রনির মুখে ছিল মদের গন্ধ। অশালীন ভাষা ব্যবহার করে তরুণীকে গালি দিয়েছিল সে। নির্যাতিত তরুণী জানিয়েছেন এসব তথ্য।

জানা গেছে, মাদকে বুঁদ হয়ে থাকা রনির স্বভাব। বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেয়ার কথা বলে প্রায়ই রাতে গাড়ি নিয়ে বের হয়ে যেত। বাসায় ফিরতো গভীররাতে, কখনও কখনও ভোরে। ব্যবসা ও রাজনীতি করার কারণে এসব বিষয়ে সন্দেহ করতেন না তার স্ত্রী।

স্থানীয় যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় প্রভাব খাটাতেন বিভিন্নক্ষেত্রে। রাত-বিরাতে নানা স্থানে আড্ডাবাজি, গাড়িতে বসে বিয়ার ও মদ পান করলেও আগে কখনও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়তে হয়নি তাকে। ধানমন্ডি মিতালী রোড এলাকার একটি ফ্ল্যাট বাসায় বন্ধুদের নিয়ে প্রায়ই আড্ডা বসাতো রনি। স্থানীয় কয়েক নেতা ও তার ব্যবসায়ী বন্ধুরা অংশ নিতো ওই আড্ডায়। সেখানে কলগার্লরাও থাকতো। ঘটনার কিছুদিন আগে থেকেই ধানমন্ডির ওই বাসার মালিক আড্ডা বন্ধ করে দেন। তারপর প্রায়ই রাতে গাড়িতে করে বাইরে চলে যেতো রনি।

রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে রনি ওই রাতের পুরো ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে। পুলিশকে রনি জানিয়েছে, মেয়ে দু’টিকে গাড়িতে তুলে নেয়ার সময় মাদকের নেশায় বুঁদ হয়েছিলো সে। রনি স্বীকার করেছে, প্রায় রাতেই গাড়ি নিয়ে লং ড্রাইভে বের হয় সে। কখনও কখনও তার দুই-এক বন্ধু সঙ্গী হয়।

গত ১০ই জুন রাতে ধর্ষণের অভিযোগে তাকে গণপিটুনি দিয়ে জনতা পুলিশে সোপর্দ করার পর প্রকাশ পাচ্ছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। রাজধানীর কলেজ গেট এলাকায় প্রাইভেট কারে তরুণীকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেপ্তার মাহমুদুল হক রনিকে গতকাল তিনদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক আহসান হাবিব উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

গত শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রাফি আহমেদ নামের একজন রনি হক ও তার গাড়িচালক ফারুককে আটক করে মারধরের ভিডিও এবং ঘটনার বিবরণসহ দুটি ভিডিওচিত্র ফেসবুকে পোস্ট করেন। তাতে মারধরের চোটে কাপড় ছিঁড়ে গেলে চালককে নগ্ন অবস্থায় দৌঁড়ে পালাতে দেখা যায়। পরে অবশ্য সেই ভিডিও দুটি মুছে ফেলেন রাফি। এর মধ্যে একটি ভিডিওতে ধর্ষণচেষ্টার শিকার তরুণীকে দেখা যায়। ২০-২২ বছরের চশমা পরা তরুণীর চোখেমুখে ছিল আতঙ্ক। তিনি ওড়না দিয়ে চোখের পানি মুছছিলেন। এই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায় এবং ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রাফি আহমেদ জানান, শনিবার মধ্যরাতে অফিস থেকে গাড়িতে করে বাসায় ফিরছিলেন তিনি। কলেজগেট সিগন্যালে জ্যামে আটকা পরেন তিনি। এ সময় দাঁড়িয়ে থাকা একটি প্রাইভেটকারের (ঢাকা মেট্রো- গ ২৯-৫৪১৪) ভেতরে এক তরুণীর সঙ্গে ধস্তাধস্তি করছিলেন রনি।

রাফি প্রথমে মনে করেছিলেন, গাড়ি নিয়ে পালানোর চেষ্টা চলছে। পরে রাফিসহ সেখানে থাকা আরও কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে রনির প্রাইভেটকারটি আটকে ফেলেন। এ সময় তারা দেখতে পান গাড়ির পেছনের আসনে রনি এক তরুণীকে ধর্ষণের চেষ্টা করছেন। একপর্যায়ে জনতা গাড়ির ভেতর থেকে আক্রান্ত তরুণী, মদ্যপ রনি ও তার গাড়িচালককে বের করে আনেন।

ওই সময় তরুণী জানান, তাকে রাস্তা থেকে জোর করে গাড়িতে তুলে ধর্ষণের চেষ্টা করা হচ্ছিল। এরপর উত্তেজিত জনতা রনি ও তার গাড়িচালককে পিটুনি দেয়। রাত ৩টার দিকে রনিকে পুলিশে সোপর্দ করেন তারা। তবে এর আগেই পালিয়ে যায় রনির প্রাইভেটকারের চালক।

জানা গেছে, দুই সন্তানের বাবা মাহমুদুল হক রনির গ্রামের বাড়ি গাজীপুরের কাপাসিয়ায়। তিনি ঢাকায় ধানমন্ডি-১৫ নম্বরের মিতালী রোডের একটি বাড়িতে থাকেন।

কমেন্টস