স্বামীকে শ্বাসরোধে হত্যা, স্ত্রীসহ তিনজনের ফাঁসি

প্রকাশঃ জানুয়ারি ১৭, ২০১৮

বিডিমর্নিং নারী ডেস্কঃ

পাবনায় শ্বাসরোধে স্বামী হত্যায় অভিযোগে দায়ের করা মামলায়  স্ত্রীসহ অভিযুক্ত তিনজনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছে রাজশাহীর আদালত। পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।

১৬ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন কবিতা আখতার এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।  দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন-পাবনা সদর থানার গোপালপুর এলাকার গোলাম মোহাম্মদের মেয়ে কুলসুম নাহার ওরফে বিউটি (৪৬), জেলার আতাইকুলা উপজেলার রাণীনগর গ্রামের আক্কাস আলীর ছেলে রুহুল আমিন (৪৭) এবং একই গ্রামের মৃত ইয়াসিন মোল্লার ছেলে সোলেমান আলী (৪৫)।

আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু  জানান, টাকার ওপরে মোবাইল নম্বর পেয়ে এক ছেলে ও দুই মেয়ের মা কুলসুম নাহারের সঙ্গে কথা শুরু করেন রুহুল আমিন। পরে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক তৈরি হয়। একপর্যায়ে তারা মোশাররফ হোসেনকে তাদের ‘পথের কাঁটা’ মনে করেন। তাই তারা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১১ সালের ৩০ জুন রাতে কুলসুম নাহারের পরকীয়া প্রেমিক রুহুল আমিন তার বন্ধু সোলেমান আলীকে নিয়ে পবনা শহরের কালাচাঁদপাড়া মহল্লায় মোশাররফের ভাড়া বাসায় যান। সুযোগ বুঝে তারা মোশাররফের ঘরে লুকিয়ে থাকেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে মোশাররফ হোসেন ঘরে ফিরলে তারা তিনজন মিলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর গুম করতে লাশ একটি বস্তার ভেতরে ভরে, কিন্তু এরই মধ্যে প্রতিবেশীরা বিষয়টি টের পেলে রুহুল ও সোলেমান পালিয়ে যান। যদিও পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

এরপর ওই রাতেই পাবনা সদর থানা পুলিশ মোশারফের বাড়ি থেকে তার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে। এ সময় তার স্ত্রী কুলসুমকে আটক করে পুলিশ। এ নিয়ে পরদিন থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়। এ মামলার বিচারকাজ চলাকালে মোট ১৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু আরও জানান, আসামি কুলসুম নাহার এক মাসের মধ্যে এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করতে পারবেন। তার পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেছেন আইনজীবী মাহমুদুর রহমান রুমন।

কমেন্টস