রোহিঙ্গা নারীর প্রেম ও বিয়ের গল্প

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২৯, ২০১৭

বিডিমর্নিং নারী ডেস্ক-

সবেমাত্র ১৮তে পা দেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থী শফিকা এখন একজন পুরোদস্তর গৃহবধূ। প্রেমের পরিণতি হিসেবে ভালোলাগার মানুষকে বিয়ে করার পরে পাল্টে  যায় তাঁর জীবন ব্যবস্থা। অন্যদিকে স্বামী সাদ্দামও বসেছেন রকমারী দোকান নিয়ে। ক্যাম্পের মধ্যে আনন্দ উৎসবের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয় তাদের বিয়ে।

গত ১১ ডিসেম্বর শুরু হয়েছে তাদের বিবাহিত জীবন। সাদ্দাম-শফিকার নব-জীবনের শুরুকে বরণ করতে কুতুপালং শিবিরে শুরু হয় উৎসব।সাদ্দাম-শফিকার বিয়েকে কেন্দ্র করে একদিনের জন্য হলেও দুঃখ ভুলে থাকার চেষ্টায় মেতে ওঠে ক্যাম্পবাসী।সকাল থেকে অন্যান্য বিয়ের অনুষ্ঠানের মতো শুরু হয় অতিথি সমাগম।বিয়ে আর ভোজ নেই, সেটা আবার হয় নাকি!দুপুর হতেই সারিবেঁধে খাবার খেতে বসে যায় সবাই।চলে গল্প-সল্প আর নতুন জুটির জন্য শুভকামনা।

প্রসঙ্গত, রাখাইনের মংডু শহরের ফয়রা বাজার এলাকায় বাস করতেন সাদ্দাম ও শফিকা বেগম। ভালোলাগা ও ভালোবাসা শুরু হয় সেখান থেকেই।কিন্তু এর মাঝে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে শুরু হয় দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ। কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে শুরু হয়  তাদের অনিশ্চিত জীবনের আরেক অধ্যায়।শত বাধা বিপত্তির পরও ভুলে যাননি তারা একে-অপরকে।

শরণার্থী শিবিরে রোহিংগাদের সহায়সম্বল বলতে গেলে কিছুই নেই।তারপরও কনেকে সাধ্যমতো সাজানোর চেষ্টা।হাতে মেহেদী আর ভালো পোশাক দিয়ে বিয়ের জন্য তৈরী করা হয় শফিকাকে। সাজগোজ শেষে হাজির হন কাজি।মুরব্বিদের উপস্থিতিতে সাদ্দাম-শফিকার জীবনের খাতায় লিখেদেন দু’জনের নাম।

বিয়ে পড়ানো শেষ ।এরপর আনন্দ ফুর্তিতে মেতে উঠেন ক্যাম্পবাসী। নাচ-গানের মাধ্যমে খুশি ভাগবাটোয়ারা করে নেন সবাই। এভাবেই অচেনা এক দেশের,অজানা মানুষের মাঝে কেটে যাচ্ছে নবদম্পতির জীবন সংসার।

উল্লেখ্য, আগস্টের ২৫ তারিখ। মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে শুরু হয় দেশটির সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ। প্রাণ বাঁচাতে নিজ পরিবার-ভিটেমাটি ছেড়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয় লাখ লাখ রোহিঙ্গা। কক্সবাজারের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে শুরু হয় অনিশ্চিত এক জীবনের পথচলা। এমনই দুজন রোহিঙ্গা সাদ্দাম হোসেন ও শফিকা বেগম।

সূত্র- রয়টার্স

কমেন্টস