অভিযোগের ইঙ্গিত কলেজ কর্তৃপক্ষের দিকে
নেপালি ছাত্রী বিনিশার আত্নহত্যার পিছনে ‘রহস্যময়’ কারণ

প্রকাশঃ ডিসেম্বর ২০, ২০১৭

বিনিশা শাহ

মেরিনা মিতু।।

রাজধানীর ভাটারা থানার পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের নেপালি শিক্ষার্থী বিনিশার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয় কলেজের হোস্টেল থেকে। ঘটনার দুদিনের মাথায়ও আত্নহত্যার পিছনে সঠিক কারণ খুঁজে পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে এ ব্যাপারে দুটি সম্ভাব্য কারণ উঠে এসেছে। একইসাথে যৌন হয়রানির মতো অদ্ভুত একটি ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে কলেজের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে, তবে এর সপক্ষে শিক্ষার্থীদের দাবী ব্যতিত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ নেই।

বিনিশার সহপাঠী, কলজের অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং ভাটারা থানায় যোগাযোগের পর যে দুটি বিষয় সামনে উঠে এসেছে তা হল, আইন কর্তৃপক্ষ বলছেন, পরীক্ষায় অসাধুপায় অবলম্বন করতে গিয়ে ধরা পড়ার কারণে আত্নহত্যা করতে পারে, তবে সঠিক কারণ সামনে আনতে তদন্ত চলছে। অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের দাবী, কলেজ কর্তৃপক্ষের নানা হয়রানির শিকার হয়ে আত্নহত্যার পথ বেঁছে নিয়েছেন বিনিশা শাহ।

প্রসঙ্গত, বিনিশা ২ বছর আগে বাংলাদেশে পড়তে আসে। তার বাবার নাম ভাগান সাহু, মা শান্তি দেবি সাহু। নেপালের বিরাট নগরের কাঞ্জন গ্রামে তাদের বসবাস। বিনিশা শাহ পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজের ২২তম ব্যাচের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। গত মঙ্গলবার (১৯ ডিসেম্বর), তার টার্ম-২ পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আধাঘণ্টা আগেই খাতা জমা দিয়ে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে হোস্টেলে ফিরে যান। তার সহপাঠী এবং রুমমেট রোকসা পরীক্ষা শেষ করে হোস্টেলে যান। তিনি হোস্টেলে এসে দেখেন তাদের রুমের দরজা ভেতর থেকে লক করা। তখন অনেক ডাকাডাকি করেও কোন সাড়া পাননি। পরে বিকল্প চাবি দিয়ে তিনি দরজা খুলে ঘরের মধ্যে বিনিশার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান।

বিনিশা শাহ

বিনিশার রুমমেট রোকসা বিডিমর্নিং কে বলেন, আগামী বৃহস্পতিবার টার্ম-২ এর শেষ পরীক্ষা হওয়ার কথা। আর পরীক্ষার পর তাদের একসাথে বাড়ি ফেরার কথা ছিল। তাছাড়া বিনিশার কোনো আচরণে তার মনেই হয়নি সে এমন কিছু করে বসবে। তার ধারণা হয়তো পরীক্ষা সংক্রান্ত কোন কারণে বিনিশা আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছে’।

বিনিশাহর এক সহপাঠী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কলেজ কর্তৃপক্ষ টার্ম-২ পরীক্ষার আগে প্রবেশপত্র আটকে রেখে দুই লাখ টাকা করে দাবি করে। পরে যার কাছে যেমন পেরেছে টাকার বিনিময়ে প্রবেশপত্র দিয়েছে। এছাড়া কলেজ কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করেই টার্ম-২ পরীক্ষা কঠিন করে এবং ফেল করায়। পরে ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে কৃতকার্য করানো হয়।

বিনিশা শাহর একাধিক সহপাঠী গণমাধ্যমের কাছে দাবি করেছেন, শিক্ষক ও কলেজ কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত চাপেই বিনিশা শাহ আত্মহত্যা করেছেন।

তবে এ ব্যাপারে গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোস্তাক আহমেদ বলেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তাকে ধরে ফেলেন। কিন্তু পরীক্ষা দিতে বারণ করেনি। বিনিশা নিজেই হল থেকে বেরিয়ে যান। হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই দুটি সম্ভাব্য কারণের বাইরে এসে, শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে নতুন যে ব্যাপারটির ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে তা হল, কলজের একজন শিক্ষক বিনিশাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করতো, যদিও সে বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত তেমন কোনো প্রমাণ মেলেনি। বিডিমর্নিং টিম সে বিষয়টি নিয়ে মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে।

তবে শিক্ষার্থীদের দাবীকে সামনে এনে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিষয়টি ভাটারা থানার ওসি কামরুজ্জামান কে জানানো হলে তিনি বলেন, ‘বিষইয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত চাল্লাচ্ছি, খুব শীঘ্রই আমরা এর কোনো সুরাহা খুঁজে পাবো’।

এ ব্যাপারে পাইওনিয়ার ডেন্টাল কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ চলছে। প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে মরদেহ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নেপাল অ্যাম্বাসিকে জানানো হয়েছে। একই সাথে বিনিশার পরিবারকেও খবর দেয়া হয়েছে।

কমেন্টস