‘নিষিদ্ধ পল্লী’ সোনাগাছির অজানা তথ্য

প্রকাশঃ নভেম্বর ১২, ২০১৭

বিডিমর্নিং ডেস্ক-

‘নিষিদ্ধ পল্লী’ হিসেবেই কলকাতার সোনাগাছি এলাকার সুনাম বা দুর্নাম। সোনাগাছির যৌনকর্মীদের একটা বড় অংশ জুড়ে রয়েছে বাংলাদেশ ও নেপালের নারীরা। কেমন আছে তারা? পেশার তাগিদে কি করতে হয় তাদের! সুপরিচিত ও বৃহত্তম এই পল্লির অজানা কিছু তথ্য প্রকাশ করা হলো-

১. সোনাগাছি ভারতের বৃহত্তম ‘নিষিদ্ধ পল্লী’। প্রায় ১০ হাজার যৌনকর্মী এখানে বাস করেন।

২. কিংবদন্তি অনুসারে, এককালে এই এলাকার মালিক ছিলেন সানাউল্লাহ বা সোনা গাজি নামে এক মুসলমান ধর্মগুরু। সেই গাজির মাজার এখনও এই এলাকায় রয়েছে।

৩. সোনাগাছির যৌনকর্মীদের একটা বড় অংশ আসেন নেপাল আর বাংলাদেশ থেকে।

৪. বাঙালি যৌনকর্মীদের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে সোনাগাছিতে। নেপালি, রাজস্থানি আর ‘আগ্রাওয়ালি’দের আধিক্য এখন এখানে।

৫. সোনাগাছিতে এক রাত্রের ‘আনন্দে’র জন্য ৩০০ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। পারিশ্রমিকের এত বৈচিত্র্য ভারতের আর কোনও ‘নিষিদ্ধ পল্লি’তে বিরল।

৬. সোনাগাছির যৌনকর্মীরা বেশিরভাগই তাঁদের পেশার জগতে পরিচিত হন ছদ্মনামে।

৭. সোনাগাছিতে কর্মরত যৌনকর্মীরা সকলেই যে অভাবের তাড়নায় বা অবস্থার চাপে পড়ে এই পেশায় নামতে বাধ্য হন, তা নয়। অনেকেই স্বেচ্ছায় আসেন এই পেশায়।

৮. যৌনকর্মীদের কাছে আগত ‘খদ্দের’রা যাতে কন্ডোম ব্যবহার করেন তা সুনিশ্চিৎ করার জন্য ‘সোনাগাছি প্রোজেক্ট’ বলে একটি প্রকল্প শুরু করা হয় ১৯৯২ সালে।

৯. এই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই ১৯৯২ সালে দুর্বার মহিলা সমন্বয় সমিতি নামে একটি সংগঠন গড়ে ওঠে যৌনকর্মীদের স্বার্থ রক্ষার লক্ষ্য নিয়ে। বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্যসংখ্যা প্রায় ৬৫ হাজার।

১০. ১৮৮০ সালে ‘অজ্ঞাতনামা’ লেখকের হাতে রচিত হয় নাটক ‘বেশ্যালীলা’। নাটকটির প্রেক্ষাপট ছিল সোনাগাছি। তারপর থেকে আজ পর্যন্ত বাংলায় অনেক সাহিত্যই লেখা হয়েছে সোনাগাছির প্রেক্ষাপটে।

১১. সোনাগাছিতে বসবাসরত শিশুদের নিয়ে জানা ব্রিস্কি ও রফ কফমান তৈরি করেন ডকুমেন্টারি ‘বর্ন ইনটু ব্রথেলস: ক্যালকাটাস রেড লাইট কিডস’। ফিল্মটি সেরা ডকুমেন্টারি হিসেবে ২০০৪ সালে অস্কার জেতে।

কমেন্টস