সন্তানের মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দিতে ঢাকায় গিয়েছিল লাইলী

প্রকাশঃ আগস্ট ৭, ২০১৭

মনিরুজ্জামান, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কাজের উদ্দেশে অবৈধপথে ভারত যাওয়ার সময় বিএসএফের হাতে আটকা পড়েন স্বামী নজরুল ইসলাম। একদিকে সংসারে তীব্র অভাব, অন্যদিকে উপার্জনক্ষম স্বামী ভারতের জেলে থাকায় দুই ছেলে মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় পড়েন লাইলী বেগম। উপায় না দেখে দুই সন্তানের পেটে ভাত জোগাতে ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ নেন তিনি।

পারিবারিসূত্রে জানা যায়, গত বছর লাইলী বেগমের ননদ জাহানারার মাধ্যমে ছেলে আতিকুর রহমান (৩) ও মেয়ে মরিয়ম খাতুনকে (৫) নিয়ে কাজের সন্ধানে ঢাকায় যান কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীর দাসিয়ারছড়া ছিটমহলের লাইলী। ঢাকায় গিয়ে তিনি বনশ্রীর একটি বস্তিতে ওঠেন। মঈন উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বাসায় মাসে ৬ হাজার টাকা ও তিনবেলা খাবারের বিনিময়ে কাজ নেন তিনি। ঢাকায় কাজ করতে এসে ইট-পাথরের শহর থেকে লাশ হয়ে ফিরতে হয়েছে লাইলীকে। রবিবার দাফনকালে কাঁদতে কাঁদতে এসব কথা বলেন তার ভাই আলমগীর হোসেন।

আলমগীর অভিযোগ করেন, গৃহকর্তা মঈন উদ্দিন তার বোনকে অমানুষিক নির্যাতন করতো। নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই শিশুসন্তান নিয়ে গ্রামের বাড়ি আসার প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ঢাকাকে বিদায় দেওয়ার আগে শেষবারের মতো গৃহকর্তা মঈন উদ্দিনের বাসায় যান লাইলী। চার মাসের বকেয়া বেতন ২৪ হাজার টাকা নিয়ে দেনা শোধ করার পরিকল্পনা ছিল লাইলীর। টাকা তো পেলো না, উল্টো মঈন উদ্দিনের বাসা থেকে বের হলো তার নিথর দেহ। এ সময় বোনের হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন আলমগীর হোসেন।

প্রসঙ্গত, ঢাকার বনশ্রীর ‘জি’ ব্লকে ৪ নম্বর সড়কের একটি বাড়িতে শুক্রবার সকালে গৃহকর্মী লাইলী বেগমের মৃত্যু হয়। তাকে হত্যার অভিযোগ তুলে স্থানীয় বস্তির বাসিন্দারা বাড়ির সামনে বিক্ষোভ করেন। তারা বাড়ির দরজা-জানালা ভেঙে ফেলেন। একটি গাড়িতে আগুনও ধরিয়ে দেওয়া হয়। দিনভর পুলিশের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। রাতে টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।

Advertisement

কমেন্টস