চুয়াডাঙ্গায় গৃহবধুকে গাছে বেঁধে নির্যাতন

প্রকাশঃ আগস্ট ১৯, ২০১৬

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি-
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা কলোনি পাড়ায় সুদের টাকা আদায় করতে না পারায় সেলিনা খাতুন (৩৬) নামে এক গৃহবধুকে নারকেল গাছে বেঁধে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করেছে সুদখোর রাবেয়াসহ তার লোক জন।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতিতা সেলিনা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা কলোনি পাড়ার আব্দুর রাজ্জাকের স্ত্রী।

আজ শুক্রবার দুপুর ১২ টার দিকে নির্যাতিতা সেলিনা বাদী হয়ে দামুড়হুদা থানায় রাবেয়াসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা দায়ের করে। এর পর সোনাহার খাতুন (২০) কে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা কলোনি পাড়ার নঈম উদ্দীনের স্ত্রী রাবেয়া বেগমের কাছ থেকে প্রতিবেশী সেলিনা খাতুন ৬৫ হাজার টাকা ধার নেয়। এলাকার গণ্যমান্য লোকজনদের উপস্থিতে ২০ দিন আগে ঋণের টাকা পরিশোধ করে সেলিনা।

গত বৃহস্পতিবার সকালে রাবেয়া ও তার মেয়ে সোনাহার প্রতিবেশী সেলিনার বাড়িতে যায়। পরিশোধকৃত ৬৫ টাকার সুদ বাবদ ২৫ হাজার টাকা দাবি করে সেলিনার কাছে। সে দিতে অস্বীকৃতি জানালে রাবেয়াসহ ৪/৫ জন তাকে জোর পূর্বক ধরে নিয়ে গিয়ে নিজ বাড়ির উঠানে নারকেল গাছে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। এর পর মারপিট করে নির্যাতন করে তারা।

এ সময় সেলিনার শিশু কন্যা কবিতা ও মুরাদ চিৎকার দিয়ে কান্না কাটি করতে থাকলে এলাকাবাসি এগিয়ে আসে। নির্যাতনকারীরা প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ কিছু বলতে সাহস পায়নি। নির্যাতনের এক ঘণ্টা পর গ্রামের গণ্যমান্য লোকজনদের অনুরোধে সেলিনাকে ছেড়ে দেয় রাবেয়াসহ তার লোকজন। আজ শুক্রবার দুপুরে সেলিনা বাদি হয়ে দামুড়হুদা থানায় মামলা দায়ের করলে রাবেয়ার মেয়ে সোনাহার খাতুনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

দামুড়হুদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জিহাদ ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ব্যাপারে থানায় মামলা হওয়ার পর দুপুরেই সোনাহারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদেরকে ধরতে পুলিশী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি জানান।

কমেন্টস